মহিপাল ফ্লাইওভার চালু হচ্ছে ডিসেম্বরে

আগামী মাস ডিসেম্বরের মাঝামাঝি অথবা শেষ সপ্তাহে চালু হচ্ছে ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভার (উড়াল সেতু)। সম্প্রতি সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মহিপাল ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের একথা জানান।

এর কাজ শেষ হয়ে গেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করবেন বলে কথা রয়েছে।

সূত্র জানায়, ডিসেম্বরে দেশের সর্ববৃহৎ ছয় লেন উড়াল সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। নির্ধারিত মেয়াদের ছয় মাস আগেই এর কাজ শেষ করা হচ্ছে। ২০১৫ সালে ঢাকা-চট্টগ্রামের মাঝামাঝি এবং নোয়াখালী সড়কের শুরুতে ফ্লাইওভারের কাজ শুরু হয়। সেনাবাহিনীর ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন কাজটি তত্ত্বাবধান করছে। আর এর বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেড।

নির্মাণ প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে উড়াল সেতুর দুই পাশে সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছে। দুটি র‌্যামের উপর স্থাপিত ফ্লাইওভারে ২০টি পিলার, দুটি অ্যাপার্টমেন্ট, ১৩২টি গার্ডার, ১০টি পিলার ক্যাপ ও ৫০৬টি ক্রস গার্ডার রয়েছে। সেতু প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৮২০ মিটার ও ব্যাস ৪৫ মিটার।

এরমধ্যে মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬৬০ মিটার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চাঁড়িপুর রাস্তার মাথা থেকে দক্ষিণে ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় পর্যন্ত বিস্তৃত এই উড়ালসেতু। এর দুইপাশে ২ হাজার ২১০ মিটার ড্রেন, সেতুর নিচে ১ হাজার ৩২০ মিটারের সিসি ঢালাইয়ের দুটি রাস্তা এ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। শুরুতে এর নির্মাণ ব্যয় ১৫৭ কোটি টাকা ধরা হলেও পরে তা বেড়ে ১৮১ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, ৬৬০ মিটার ফ্লাইওভার তৈরি করতে ৩ হাজার মিলিমিটার আয়তনের ১১টি পিলার তৈরি করা হয়েছে। প্রতি ৬০ মিটার পর পর ৩২ থেকে ৫০ মিটার উচ্চতা সম্পন্ন পিলারের উপর নির্মিত হচ্ছে মহিপাল ফ্লাইওভার। ফ্লাইওভারের প্রত্যেক পিলারের মাঝখানে ১১টি করে মোট ১২১টি স্পেম এবং একই দূরত্বে ১২টি করে মোট ১৩২টি গার্ডার বসানো হয়েছে। তবে ফ্লাইওভার নির্মাণে কী পরিমাণ রড, সিমেন্ট বা পাথর ব্যবহার হচ্ছে তার সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র জানায়, ফ্লাইওভার নির্মাণ-কাজের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের ১ হাজার ৬০০ বর্গফুট এলাকা চিহ্নিত করা হয়। ফ্লাইওভার নির্মাণ-কাজে বর্তমান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১.৮২ কিলোমিটার অংশ ব্যবহার হওয়ায় পশ্চিম পার্শ্বে একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হয়।

এক প্লাটুন সেনা সদস্যের তত্ত্বাবধানে মহিপাল ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজে প্রায় ২ লাখ শ্রমিক কাজ করেন বিভিন্ন পর্যায়ে। সূত্র জানায়, প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। সে হিসাবে প্রতিমাসে ৬ হাজার শ্রমিক ও ২ বছর ৯ মাসে ১ লাখ ৯৮ হাজার শ্রমিক কাজ করেছেন।

মহিপাল ফ্লাইওয়ার নির্মাণে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়। ফ্লাইওভার নির্মাণে উন্নতমানের ড্রেজার, ডাম্পার, এক্সপ্লেন্টার, ক্রেনসহ পাইলিং এর যাবতীয় যন্ত্রপাতি কোরিয়া ও জাপান থেকে আমদানি করা। এ সব যন্ত্রপাতি ব্যবহারে কম জনবল ও অত্যন্ত সুচারুভাবে কাজ সম্পন্ন হয় বলেও জানান নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেডের কর্মকর্তারা।

১.৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ মহিপাল ফ্লাইওভারে তিন শতাধিক খুঁটিতে সড়কবাতি বসানোর কাজ শেষ। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বলছে, ফ্লাইওভারের কাজ শেষে বিদ্যুৎ সংযোগের নকশা আমাদের কাছে পাঠানো হবে। তখনই আমরা এর সঠিক পরিসংখ্যান দিতে পারব।

প্রায় একই কথা বললেন সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে কাজের যে অংশের নকশা আসছে, শুধু সে অংশের কাজ করছি। পর্যায়ক্রমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অন্যান্য নকশা পাঠাবেন এবং সে মোতাবেক প্রকল্পটি শেষ করা হবে। ’

আবদুল মোনেম লিমিটেড দেশের প্রথম ৬ লেন বিশিষ্ট এই ফ্লাইওভার নির্মাণ করছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে ইতোপূর্বে মানসম্মত কাজ উপহার দেওয়ায়,এ ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের দায়িত্ব এ প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ফ্লাইওভার, মহাসড়কে ওভারব্রিজ ও সেতু নির্মাণ কাজ করেছে। সড়কে ব্যবহৃত সকল যন্ত্রপাতি, ইট, বালি, সিমেন্ট, পাথর, রডসহ সড়ক নির্মাণের সকল উপকরণ এ প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করে। দীর্ঘ আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে চলা নির্মাণ কাজে শ্রমিক সরবরাহের কাজটিও তারাই করেন। প্রকল্পটির জন্য মহিপাল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের কার্যালয়সহ বেশ কিছু স্থাপনা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটি চালু হলে দেশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে। ’ এর ফলে ফেনীবাসীর জীবনমানেরও উন্নতি ঘটবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সেতুর প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম রেজাউল মজিদ জানান, এ প্রকল্পের কাজের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় এবং গুণগত মান অক্ষুণ্ন রাখার তাগিদে বরাদ্দ কিছুটা বাড়ানো হয়।

তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের কয়েক মাস আগেই এর কাজ শেষ করা হচ্ছে। ’