আবার মুখর সেন্টমার্টিন

নিয়মানুসারে ১ অক্টোবর থেকে পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও দেড় মাস পর গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় টেকনাফ দমদমিয়া জাহাজঘাট থেকে কেয়ারী সিন্দাবাদ জাহাজটি পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয়। ১৫ নভেম্বর থেকে পর্যটকবাহী ৬টি জাহাজ প্রতিদিন নিয়মিত এ প্রবাল দ্বীপটিতে যাতায়ত করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈরি আবহাওয়ার কারণে চলতি বছরের মে মাস থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ পথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। কিন্তু বৈরি হাওয়া কেটে যাওয়ার পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে শুরু হওয়া সহিংসতায় নিরাপত্তাজনিত কারণে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রাখে প্রশাসন।
দীর্ঘ বিরতির পর প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় পর্যটকদের পাশাপাশি খুশি হয়েছেন দ্বীপবাসীরাও। গতকাল বেলা সাড়ে ১২টায় ৩৪০ জন পর্যটক নিয়ে জাহাজ কেয়ারী সিন্দাবাদ সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৌঁছলে দ্বীপবাসী পর্যটকদের বরণ করতে জেটিঘাটে উপস্থিত হন। পরে পর্যটকরা জাহাজ থেকে নামলে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদসহ স্থানীয়রা পর্যটকদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, ‘খারাপ আবহাওয়া এবং মিয়ানমার রাখাইনে রোহিঙ্গা সংকটের কারণে দীর্ঘদিন টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ পথে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোনো পর্যটক দ্বীপে আসতে পারেননি। এতে দ্বীপের বাসিন্দারা এতদিন পর্যটক শূন্যতা অনুভব করেছেন।

অনেক দিন পর দ্বীপে আবারও পর্যটকদের আগমন ঘটছে- এমন খবরে দ্বীপবাসী খুবই আনন্দিত। আমরা দ্বীপবাসীর পক্ষ থেকে পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করেছি। ’ কিশোরগঞ্জ অষ্টগ্রাম থেকে আসা প্রবাসী পর্যটক সাঈদ রাজ বলেন, ‘বিদেশ থেকে চার মাসের ছুটিতে দেশে এসেছি। এর আগেও ২০১৪ সালে দেশে এসে আগ্রহ থাকার পরও প্রবাল দ্বীপ দেখা হয়নি। এবারও দেশে এসে সেন্টমার্টিন দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। আমার সৌভাগ্য যে, জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিন আসার সুযোগ হয়েছে। ’ পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারী সিন্দাবাদ টেকনাফ ইনচার্জ শাহ আলম বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের কারণে এবার সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে জাহাজ ছাড়তে পর্যটন মৌসুম শুরুর প্রায় দেড়মাস বিলম্ব হয়েছে। আশা করছি এখন থেকে পর্যটক নিয়ে জাহাজ নিয়মিত সেন্টমার্টিন যাত্রা করবে। ’ টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক বলেন, ‘নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত পত্রের প্রেক্ষিতে পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিন যেতে এখন থেকে আর কোনো বাধা নেই। তবে, মিয়ানমার নাইক্ষ্যংদিয়ার অনতিদূর জলপথ অতিক্রম করার সময় জাহাজ কর্তৃপক্ষকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে