ঢাকায় রোবট রেস্টুরেন্ট

‘রোবট রেস্টুরেন্ট’। নাম শুনলে অবচেতন মনে জাপানের মতো প্রযুক্তিসমৃদ্ধ দেশগুলোর কথা মাথায় আসে। ঢাকায় কি এমন কিছু এখনই সম্ভব? নাহ্‌, এটা এখন আর স্বপ্নে সীমাবদ্ধ নেই। বাস্তবে ঢাকায়ই খোলা হয়ে গেছে ‘রোবট রেস্টুরেন্ট’। চাইলে আজই এই রেস্তোরাঁয় গিয়ে নেওয়া যাবে রোবটের সেবা।

রাজধানীর আসাদ গেটের কাছে ফ্যামিলি ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় আজ থেকে চালু হচ্ছে রোবট রেস্টুরেন্ট। এতে খাবার পরিবেশন করবে দুটি রোবট। চীনে তৈরি এই রোবট দুটির একটি নারী ও অন্যটি পুরুষের আদলে গড়া। যদিও তাদের নামই এক, ইয়োইদং। মানে চলমান সুখ বা মুভিং হ্যাপিনেস।

গতকাল বুধবার এর উদ্বোধন হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রাহিন রাইয়ান নবী জানান, শিশু-কিশোরদের বিনোদনের বিষয়টি মাথায় রেখে এই বিশেষ উদ্যোগ। আসলে সব বয়সী মানুষের জন্য এই রোবট একটি রোমাঞ্চকর পরিবেশ তৈরি করবে। রাহিন রাইয়ানের কাছে রোবটের মাধ্যমে খাবার পরিবেশন বাংলাদেশের জন্য মাইলফলক।

রোবট দুটির নির্মাতা প্রকৌশলী ম্যাক্স সোয়াজ ও স্টিভেন শেনের কাছ থেকে জানা যায়, এর প্রতিটির ওজন ৩০ কিলোগ্রাম। উচ্চতা ১ দশমিক ৬ মিটার। প্রতিটি রোবট একনাগাড়ে ১৮ ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম। প্রতিটি রোবট বানাতে খরচ হয়েছে প্রায় আট লাখ টাকা।

দুই চীনা প্রকৌশলীর উপলব্ধি, বাংলাদেশ যে এখন তথ্যপ্রযুক্তিতেও উন্নতির পথে রয়েছে, খাবার পরিবেশনে রোবটের ব্যবহার এর একটি উদাহরণ। ধীরে ধীরে অন্যান্য ক্ষেত্রেও রোবটের ব্যবহার বাড়বে বলে তাঁদের আশা।

রোবট দুটি ক্রেতাদের কাছ থেকে কোনো ফরমাশ নেবে না। কেবল রান্নাঘর থেকে তৈরি করা খাবার নির্দিষ্ট টেবিলে পৌঁছে দেবে। রোবটরা চলাচল করবে নির্দিষ্ট লাইন (ট্র্যাক) ধরে। সামনে বাধা পড়লে তারা স্বয়ক্রিয়ভাবে থেমে যাবে। ইংরেজিতে অনুরোধ করবে পথ ছেড়ে দেবার জন্য।

রোবট রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক তানভীরুল হক বলেন, আজ থেকে শিশুদের জন্য তৈরি বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। সঙ্গে থাকবে দেশি খাবারের নির্দিষ্ট মেন্যু। এগুলোর কোনোটির দাম পাঁচ শ টাকার বেশি হবে না।

সংবাদ সম্মেলনের আরও উপস্থিত ছিলেন ফ্যামিলি ওয়ার্ল্ড গ্র্যান্ড হলের ব্যবস্থাপক মাহমুদ উন নবী।