দীর্ঘদিন পর পর্যটকবাহী জাহাজ পেয়ে দ্বীপবাসী আনন্দিত

রাখাইনে সহিংসতা ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের জেরে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পর্যটন মৌসুমে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটক নিয়ে স্বপ্নের প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন যাত্রা করেছে কেয়ারী সিন্দাবাদ। গতকাল থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ পথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। সকল প্রক্রিয়া শেষে কক্সবাজার জেলা প্রাশাসক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছেন বলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত হওয়াগেছে। সকাল ১০টায় টেকনাফ দমদমিয়া ঘাট থেকে ৩০৪ জন পর্যটক নিয়ে কেয়ারী ন্দিাবাদের একটি জাহাজ দুপুর ১২টায় সেন্টমার্টিনে পৌঁছে। পর্যটকবাহী বছরের প্রথম জাহাজ সেন্টমার্টিনে পৌঁছায় দ্বীপবাসীর মাঝে দেখা দেয় আনন্দ উচ্ছ¡াস। গত ২৪ আগষ্ট থেকে নির্যাতনের মুখে মিয়ানমারের আরাকানী রোহিঙ্গারা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসতে থাকলে পরিস্থিতি মোকাবেলায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। এখন সেই নিষেধাজ্ঞা তোলে নিয়ে এই পথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলে অনুমতি দিয়েছে নৌ-মন্ত্রণালয়। নৌ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
পুরাতন স্টেশন টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট থেকে নাফ নদী হয়ে সেন্টমার্টিনের পথেই জাহাজগুলো চলাচল করবে বলে জানাগেছে। এদিকে বেশ কয়েকটি জাহাজ কোম্পানী টেকনাফ-সেন্টমার্টিন চলাচলের প্রস্তুতি নিলেও গতকাল সোমবার সকাল ১০ টা থেকে কেয়ারী সিন্দাবাদ টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিন যাত্রা করবে বলে জানান কেয়ারির তত্ত¡াবধায়ক মোহাম্মদ শাহ আলম।
এই সফরে সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ, টেকনাফ কেয়ারী ট্যুর ট্রাভেলসের ম্যানেজার মোঃ শাহ আলম, সেলস কো-অর্ডিনেটর আজিজুর রহমান, কাস্টমার সার্ভিস আব্দুল মোক্তাদির সুমন এবং সোহেল, সেন্টমার্টিন ইনচার্জ নুরুল মোস্তফা পর্যটকদের সাথে সেন্টমার্টিন গমণ করেন। এই সময় বিআইটিডবিøউই প্রতিনিধি দল জাহাজ ঘাট পরিদর্শন করেন। দুপুর ১২টায় পর্যটক বোঝাই কেয়ারী সিন্দাবাদ নিরাপদে সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছেন। পরে বিকাল সন্ধ্যা ৬ টায় জাহাজটি টেকনাফ দমদমিয়া জেটিঘাটে পৌছে। এই ব্যাপারে সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, এই পর্যটন জাহাজ চালু হওয়ায় বেকার হয়ে পড়া এলাকাবাসীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে তাই আমরা দ্বীপবাসী আনন্দিত। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন পর হলেও সেন্টমার্টিনে পর্যটন জাহাজ চালু হওয়ায় এলাকাবাসী আনন্দিত। অত্র ইউনিয়নের মানুষের জীবিকায়নের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। কেয়ারী ট্যুর ট্রাভেলস এর সেন্টমার্টিন ইনচার্জ নুরুল মোস্তফা জানান, বিকাল ৩টা ১০মিনিটে স্টেমার্টিন ভ্রমণে আসা পর্যটকেরা টেকনাফের উদ্দেশ্যে নিরাপদে টেকনাফে পৌছেছেন। কেয়ারী ট্যুরসের ম্যানেজার শাহ আলম বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক বাঁধা কাটিয়ে আমরা এই পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের প্রথমে দ্বীপে আনতে পেরে খুবই আনন্দিত। আগামীতেও পর্যটকদের জন্য আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান। এদিকে দীর্ঘদিন পর প্রবাল দ্বীপে পর্যটকদের পদচারণা এবং স্থানীয়দের উল্লাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। অনেক দিন পর কেয়ারী সিন্দাবাদ ৩০৪ জন যাত্রী নিয়ে দুপুর ১২টায় সেন্টমার্টিনে ঘাটে পৌঁছায়। সেখানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার ও ব্যব্স্যায়ীরা ফুল দিয়ে পর্যটকদের বরণ করেন। পর্যটনের কারণে যেমন সমৃদ্ধ হয়েছে সেন্টমার্টিনসহ গোটা কক্সবাজারের জনপদ। একইভাবে চঙ্গা হয়েছে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা। রোহিঙ্গা সমস্যার কারণে এতদিন পর্যটনে ছিল মন্দাভাব। সংশ্লিষ্ট সবাই এখন মনে করছেন কক্সাবজারের পর্যটন খাতে এবার চাঙ্গাভাব ফিরে আসবে। গতকাল সেন্টমার্টিনে বছরের প্রথম পর্যটকবাহী জাহাজ গেলে দ্বীপবাসীর মাছে আনন্দ ও উৎসবের ভাব দেখা গেছে।