পদ্মায় জেগেছে কৃষকের স্বপ্ন

কমছে পদ্মা নদীর পানি; জেগে উঠছে চর। সেই চর নিয়ে কৃষকের মনে জেগেছে রঙিন স্বপ্ন। এ স্বপ্ন তপ্ত বালুচরে সোনার ফসল ফলানোর। তাই বিস্তীর্ণ চরে এখন শুরু হয়েছে তাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রম। রাজশাহী অঞ্চলে পদ্মার বুকে জেগে ওঠা সব চরে এখন কৃষকের কর্মব্যস্ততা চলছে। চরের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে গম, মসুর, মটর ও ছোলাসহ নানা জাতের ফসল ফলাতে নিচ্ছেন প্রস্তুতি তারা।

জেলার বাঘা উপজেলার কালীগ্রামের বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন একজন মৎস্যজীবী। পদ্মায় যখন থৈ থৈ পানি থাকে, তখন তিনি মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে পদ্মায় পানি কমে গেলেই পেশা বদল হয় তার। জাল-নৌকার বদলে হাতে তুলে নেন কোদাল-কাস্তে। চরের জমিতে ফলান সোনার ফসল। এবারও পদ্মায় পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। মোফাজ্জল জানান, ২ সপ্তাহ আগে থেকে তাদের এলাকায় নদীর পানি কমে চর জেগে উঠেছে। সেই জমিতে তিনি কলাইয়ের বীজ বুনেছেন। কলাই শেষে আবাদ করবেন সরিষার। এরপর তীল। জমি থেকে তীল ওঠার কিছুদিন পরই নদীতে আসবে পানি। তখন আবার জাল নিয়ে নদীতে নামবেন মাছ শিকারে। শুধু বাঘা নয়, জেলার গোদাগাড়ী, চারঘাট ও পবা উপজেলার পদ্মা নদীতে হাজার হাজার বিঘা আবাদি জমির সৃষ্টি হয়েছে চর জেগে। পদ্মাপারের হাজার হাজার কৃষক এখন উদ্যোগী হয়েছেন গম, মসুর, মটর ও ছোলাসহ নানা জাতের ফসল ফলাতে। বিভিন্ন এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে কৃষক সমিতি। এ সমিতির আওতায় কৃষক একত্রিত হয়ে শত শত বিঘা জমিতে চাষাবাদে নেমেছেন। এমনই একটি সমিতি রয়েছে রাজশাহী মহানগরীর ওপারে চরমাঝাড়দিয়াড়ে।
এ সমিতির সভাপতি বরকত আলী জানান, পদ্মার পানি কমে গেলে শত শত বিঘা জমি জেগে ওঠে। তার মধ্যে যেসব জমি চাষের উপযোগী, সেখানে থাকে ঝাউগাছসহ নানা ধরনের ঝোপঝাড়ের জঙ্গল। সেগুলো একা কোনো ব্যক্তির পক্ষে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। তাই তারা একত্রিত হয়ে চাষ করেন। তিনি জানান, সমিতিতে সব কৃষক সমানভাবে কাজে অংশ নেন। চাষাবাদের খরচও দেন সবাই সমান। উৎপাদিত ফসলের বণ্টনও হয় সমান। এখন এ পদ্মার চরের জমিতেই শত শত কৃষকরে জীবিকা চলছে। তারা সবাই অপেক্ষায় থাকেন পানি কমার। পানি কমে চর জেগে উঠলেই তারা চাষাবাদে নেমে পড়েন। গোদাগাড়ীর ফুলতলা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, চরের পলি মাটি খুব উর্বর। চাষাবাদে সার-কীটনাশক লাগে না বললেই চলে। তাই তাদের এলাকায় শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে পানি তুলে চরের জমিতে ধানেরও চাষাবাদ হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা দেব দুলাল ঢালি বলেন, প্রতি বছর নতুন নতুন চর সৃষ্টি হচ্ছে। আবার অনেক জায়গায় আগের বছরের চরে পানি থাকছে। তাই চরের জমির হিসাব তাদের কাছে নেই। তবে চরের হাজার হাজার বিঘা জমিতে চাষাবাদ করে অনেকেরই জীবন চলে। তাদের উৎপাদিত ফসল বড় ভূমিকা রাখে অর্থনীতিতে।