নীরবে নিভৃতে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন গাংনীর দিলারা

বয়স্কদের ক্লাস নিচ্ছেন দিলারা আফরোজ -যাযাদিসমাজের নিরক্ষর নারীদের মাঝে জ্ঞানের আলো পৌঁছে দিতে নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন মেহেরপুর গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দিলারা আফরোজ। গাংনীর্ যাব ক্যাম্পপাড়ায় নিজ বাড়িতে খুলে বসেছেন পাঠশালা। শিক্ষার আলোবঞ্চিত গৃহবধূদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতেই বই খাতাসহ আনুষাঙ্গিক জিনিসও বিনামূল্যে সরবরাহ করছেন তিনি। সূযোগ পেলে নিরক্ষর বয়স্ক পুরম্নষদের নিয়েও কাজ করতে চান। তার এ মহতি উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন প্রশাসন থেকে শুরম্ন করে শিক্ষাবিদরাও।
শুরম্নটা ২০১৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে। কয়েকজন শিক্ষাবঞ্চিত প্রতিবেশী গৃহবধূ সমিতি থেকে ঋণ নেয়ার জন্য স্বাক্ষর শিখতে আসেন দিলারা ভাবীর কাছে। সে সময় তিনি তাদের পড়ালেখা করার প্রতি আগ্রহী করে তোলেন। নিজ বাড়ির একটি কক্ষে ১২ জন নিরক্ষর বয়স্ক নারী নিয়ে শিক্ষা দান শুরম্ন করেন তিনি। এখন তার পাঠশালায় ছাত্রী সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮তে। এর মধ্যে ১২ জন প্রথম শ্রেণির গ-ি পেরিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উঠেছেন। বয়স্ক এসব নারী শিক্ষার আলো পেয়ে যেন নতুন জীবনে পদার্পণ করেছেন।
শিক্ষার্থী নাসিমা খাতুন জানান, তার স্বামী একজন দিনমজুর। মাঝে মধ্যে সমিতি থেকে ঋণ নিতে গেলে ও ব্যাংকে হিসাব খুলতে গেলে স্বাক্ষর করা লাগে। না জানলে ঋণ দেন না ও হিসাব খুলতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। দিলারা আফরোজ ভাবির পরামর্শে সাজেদা ও মুসলিমা, রোকেয়া, তাসলিমা আপা মিলে পড়াশোনা শুরম্ন করি। ভাবি বই খাতা কিনে দেন। শুরম্ন হয় পড়ালেখা। দেখা দেখি এখন পাড়ার অনেকেই আসেন এ স্কুলে।
শিক্ষার্থী মুসলিমা খাতুন জানান, তিনি বাড়িতে বসে মেয়েদের সালোয়ার কামিজসহ বিভিন্ন প্রকার ছিট কাপড়ের ব্যবসা করেন। আগে হিসাব নিকাশ করা কষ্ট হতো। অন্যের সহযোগিতা নিতে হতো। এখন আর কারো সহযোগিতা লাগে না। নিজের কাজ নিজেই করি। একই কথা জানালেন তাসলিমা। তিনি সিমেন্টের বস্ত্মা দিয়ে ব্যাগ তৈরি করে বাজারে বিক্রি করেন। শিক্ষার্থী সাজেদা খাতুন জানান, তিনি টেইলার্সের কাজ করেন। মাপজোক নেয়া ও হিসেব রাখার জন্য এখন আর কষ্ট করতে হয় না। দিলারা ভাবীর পাঠশালা তাকে নতুন করে জীবন দিয়েছে।
দিলারা আফরোজের স্বামী ব্যাংক কর্মকর্তা আলামিন জানান, স্ত্রী দিলারা নিজ কর্মস্থলে কাজ করার পর বাড়িতে নিজের সাংসারিক কাজ শেষ করেন। পাড়ার ভাবীরাও নিজ নিজ কাজ শেষ করে পড়তে আসেন এখানে। যারা আসেন তারা নিতান্ত্মই গরিব। তাই তাদের বই খাতা কলম সব কিছুই কিনে দেয়া হয়। নিরক্ষর মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়ানোর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।