চট্টগ্রাম ইপিজেডে আরও কারখানা হচ্ছে

নির্মিত হচ্ছে চারটি বহুতল ভবন

চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) আরও কারখানা স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ জন্য বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) চারটি নতুন ভবন নির্মাণের একটি প্রকল্প নিয়েছে। দেশের প্রথম এই ইপিজেডের যাত্রাকালে নির্মাণ করা চারটি একতলা ভবন ভেঙে বহুতল চারটি ভবন নির্মাণ করা হবে। চারটি ভবনের ১৬টি ফ্লোর নতুন কোম্পানিকে বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভবনগুলো নির্মাণে ১৬৮ কোটি টাকার প্রকল্পটি ইতিমধ্যে অনুমোদন করেছে বেপজা।
দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় চট্টগ্রাম ইপিজেড শুরু থেকেই উদ্যোক্তাদের কাছে আকর্ষণীয়। প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরের মধ্যে এ ইপিজেডের সব শিল্প প্লট ও তৈরি ফ্লোর স্পেস বরাদ্দ নেন দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা। কিন্তু চাহিদা শেষ হয়নি। প্রায়ই দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম ইপিজেডে প্লট বা ফ্লোর স্পেসের বরাদ্দ চাওয়া হয়।
বেপজার মহাব্যবস্থাপক নাজমা বিনতে আলমগীর সমকালকে বলেন, বেশি প্রতিষ্ঠানকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য নতুন চারটি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ভবন প্রথমে চারতলা করা হবে। পরে চাহিদা অনুযায়ী আরও বাড়ানো হতে পারে।
বেপজার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ৪৫৩ একরের চট্টগ্রাম ইপিজেডে ৫০১টি শিল্প প্লট রয়েছে। এসব প্লটে ১৬৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের কারখানা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তরা ১৫৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছেন। এ সময়ে ২ হাজার ৫৮৫ কোটি ডলারের বিভিম্ন পণ্য রফতানি হয়েছে। তৈরি পোশাক, বস্ত্র, ইলেকট্রিক, গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ, ফুটওয়্যার ও লেদার, টেরিটাওয়েল এবং প্লাস্টিক পণ্যের কারখানা রয়েছে এ ইপিজেডে। জানা গেছে, চারটি নতুন ভবন বেপজার নিজস্ব অর্থায়নে করা হবে। চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে ভবনগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এ বছরেই দুটি ভবন নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করা হবে। আর আগামী বছর মার্চ নাগাদ বাকি দুটি ভবন নির্মাণের দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে। বেপজা কর্তৃপক্ষ আশা করছে নির্মাণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভবনগুলো ভাড়া দেওয়া যাবে এবং ছয় থেকে সাত বছরের মধ্যে নির্মাণ খরচ উঠে আসবে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম ইপিজেডে প্লটের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারের বার্ষিক ভাড়া ২ দশমিক ২০ ডলার। আর রেডিমেড ফ্লোর স্পেসের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারের মাসিক ভাড়া ২ দশমিক ৭৫ ডলার।
জানা গেছে, নতুন চারটি ভবন হালকা যন্ত্রপাতি ব্যবহার হয়, এমন ধরনের শিল্প খাতে দেওয়া হবে। ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স এবং চামড়াজাত শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুযোগ দেওয়া হবে। তৈরি পোশাকের বড় কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে একটি ভবন একটি কোম্পানিকে দেওয়ার বিষয় বিবেচনা করা হবে। কারণ তৈরি পোশাক শিল্পের একাধিক প্রতিষ্ঠানকে এক ভবনে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের জোটের আপত্তি রয়েছে।
ইপিজেডে এ, বি ও সি- এই তিন ক্যাটাগরির কারখানা থাকে। শতভাগ বিদেশি মালিকানার কারখানাকে ‘এ’ ক্যাটাগরির কারখানা বলা হয়। দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের যৌথ মালিকানায় স্থাপিত কারখানাগুলো ‘বি’ ক্যাটাগরি এবং দেশি উদ্যোক্তাদের শতভাগ মালিকানায় স্থাপিত কারখানাগুলোকে ‘সি’ ক্যাটাগরির কারখানা বলা হয়। বর্তমানে দেশে আটটি ইপিজেড রয়েছে।