বেকার ও দরিদ্রদের সহায় ফারুক

উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে ঘুরে পাননি কোনো চাকরি। অনেকদিন বেকার থাকার পর জীবন যখন বিষিয়ে উঠেছিল, ঠিক তখনই চাকরির আশা বাদ দিয়ে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে মাত্র ৫০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে গ্রাম্য রাইস মিলে ধান ভাঙানোর ব্যবসা শুরু করেন ধামরাইয়ের কেলিয়া গ্রামের তরুণ জাহিদুল ইসলাম ফারুক। সেই ছোট্ট ধান ভাঙানোর মেশিন থেকে আজ তিনি আধুনিক অটো রাইচ মিলসহ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। তার ওইসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে সাড়ে সাতশ’ বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। সাফল্যের সঙ্গে ধীরে ধীরে বাড়ছে তার নতুন নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আগামী দুই বছরের মধ্যে আরও ৫ হাজার বেকারের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি। এ ছাড়া বেকারদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তার এলাকার আশপাশের অসহায় গরিবদের প্রতিমাসে ৫০০ টাকা করে বিধবা ভাতাসহ প্রত্যেক পরিবারকে চাল, ডাল ও তেল বিতরণ করে আসছেন। সেই সঙ্গে এলাকার মেধাবী দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষার দায়িত্বও নিচ্ছেন।
জানা গেছে, ধামরাইয়ের কেলিয়া গ্রামের আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে জাহিদুল ইসলাম ফারুক ২০০৫ সালে ঢাকা কলেজ থেকে মাস্টার্স (এম কম) পাস করার পর চাকরি খুঁজতে থাকেন; কিন্তু সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানেই মেলেনি তার চাকরি। এরপর বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে তাও বিভিন্ন জটিলতার কারণে যেতে পারেননি। পরে পৈতৃক ব্যবসা গ্রাম্য রাইস মিলে ৫০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেন ধান ভাঙানোর ব্যবসা। এরপর ২০০৭ সালে ধামরাই সোনালী ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে পোলট্রি ফার্মসহ ব্যবসা বাড়াতে থাকেন এবং লাভের অংশের সঙ্গে অন্য বেসরকারি ব্যাংক থেকে আরও ঋণ নিয়ে বর্তমানে তিনি ৬০ বিঘা জমির ওপর তার জাহান অটো রাইস মিল, কুলসুম ফিড লিমিটেড, এগ্রো মাল্টি প্রসেস লিমিটেড, বায়ুসেল লিমিটেডসহ ৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তিনি এসব প্রতিষ্ঠানে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। এ জাহান অটো রাইস মিল থেকে প্রতিদিন ২০০ টন চাল প্রক্রিয়াজাত করা হয়। বর্তমানে তার এ রাইস মিলটি বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম একটি আধুনিক অটো রাইচ মিল হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, খুব শান্ত ও ভদ্রচিত্তের মানুষ জাহিদুল ইসলাম ফারুক নিজের সততা ও মনোবলকে পুঁজি করেই আজ এতদূর এগিয়েছেন। তিনি সব প্রতিষ্ঠানই নিজের এলাকায় স্থাপন করেছেন। এতে অনেক যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এলাকায় বেকার ও অসহায়দের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন তিনি।
জাহিদুল ইসলাম ফারুক বলেন, ‘বেকারত্বের অভিশাপ কি, তা বেকার থেকে বুঝেছি। তাই বেকারদের কমসর্ংস্থান ও অসহায় দরিদ্রদের পাশে থেকে সারাটাজীবন মানুষের সেবা করে যেতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, অসহায় দরিদ্রদের কম খরচে চিকিৎসাসেবার জন্য মেডিকেল সেন্টারসহ আগামী দুই বছরের মধ্যে আরও নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছি।