দেশে ২০২৪ সালের পর কোন দারিদ্র্য থাকবে না : অর্থমন্ত্রী

দেশে ২০২৪ সালের পর কোন দারিদ্র্য থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, এই সরকার যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ দেশের উন্নয়ন হবে। দেশের দারিদ্র্য দূর হবে। আমাদের উন্নয়নের একমাত্র লক্ষ্যমাত্রা হলো দারিদ্র্য দূর করা। সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উন্নয়ন মেলা-২০১৭ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। পিকেএসএফ এর চেয়ারম্যান কাজি খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফের এমডি আবদুল করিম। অনুষ্ঠানে দুইজন বিশেষ ব্যক্তিকে সম্মাননা দেয় পিকেএসএফ। একজন হচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা ফকির আবদুল জব্বার এবং আরেকজন হলেন মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসিব খান। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এই উন্নয়ন মেলার আয়োজন করেছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৭০ শতাংশ। এখন সেটাকে আমরা নামিয়ে এনেছি ২২ দশমিক ৫০ শতাংশে। এটা আমাদের কৃতিত্বের বিষয়। তবে এটাতে আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। কারণ এখনও এই দেশে তিন কোটি দরিদ্র মানুষ রয়েছে। এই তিন কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। শুধুই প্রত্যাশা নয়, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর হবে। বাংলাদেশ একদিন সমৃদ্ধশালী দেশ হবে।

তিনি বলেন, কোনো ধরনের বিদেশি সাহায্য ছাড়াই ২৯ বছর আগে পিকেএসএফ যাত্রা শুরু করেছে। পরবর্তীতে কাজের মাধ্যমে সবার দৃষ্টি আর্কষণ করায় কিছু বিদেশি সাহায্য পেয়েছে। উন্নয়নের একমাত্র লক্ষ্যমাত্রা দারিদ্র্য দূরীকরণ। দেশে প্রায় ২ কোটি মানুষ দারিদ্র্য বা (২২ দশমিক ৫ শতাংশ)।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, আজকের মেলা আয়োজন অত্যন্ত সময়োপযোগী। এই প্রতিষ্ঠান বর্তমানে দেশের ১৫৩টি ইউনিয়নে কাজ করছে। মোট ইউনিয়ন চার হাজারের বেশি। ধীরে ধীরে সবগুলোতে যেতে হবে। উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে সরকারকেও গণমুখী হতে হবে। এছাড়া সমাজে মেয়েদের স্বাবলম্বী হতে হবে। মেয়েদেরকে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে পিকেএসএফ যে অবদান রাখছে সেজন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে অবদান রাখতে পিকেএসএফকে আহ্বান জানাই। তিনি বলেন, এই দেশের এনজিওগুলো সরকারের সাহায্যে চলে।

আবার দেশ-বিদেশে সরকারের শুধুই সমালোচনা করে বেড়ায়। কেউ কেউ আবার পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধেও কথা বলে। কিন্তু কারও কোনও ষড়যন্ত্রে কাজ হয়নি। পদ্মা সেতু মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার গণমুখী সরকার। শেখ হাসিনার সরকার ছাড়া এদেশের কেউই গণমানুষের জন্য কাজ করেনি বলে জানান তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে পিকেএসএফ সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বলেন, মেলা আয়োজনের উদ্দেশ্য আমাদের উন্নয়ন সংস্থাগুলোর উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন। সবার সঙ্গে দেখা সাক্ষাতের মাধ্যমে যোগাযোগ বৃদ্ধি। এসময় তিনি পিকেএসএফ এর কার্যক্রমও সংক্ষেপে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অধিকার নাকি উন্নয়ন আগে; এ নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক রয়েছে। তবে আমরা অধিকার ও উন্নয়নে একযোগে কাজ করি। উন্নয়ন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। রাজনীতি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। ফলে আমরা উপজেলা পরিষদের ও ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করছি।

খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, আমরা ১৫৩টি ইউনিয়নের মানুষের জন্য টেকসই উন্নয়নে কাজ করছি। এছাড়া আমরা প্রতিটি উপজেলায় কাজ করছি। আমরা প্রশিক্ষণ, বাজার সহায়তা, প্রযুক্তি উপযুক্ত ঋণ দিয়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টি করছি। সারাদেশে ৫২ হাজার নারী ও পুরুষকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এক হাজার ভিক্ষুককে ঋণ ও প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এর মধ্যে একজন টাকা ফিরিয়ে দিয়ে বলেছে আমি ভিক্ষা ছাড়তে পারব না। আর ১৯ জন উন্নয়ন করতে পারেনি। বাকি সবাই এখন স্বাবলম্বী হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রান্তিক পর্যায়ে উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রারণের লক্ষ্যে ছয় দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা শুরু হয়েছে গতকাল। চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। মেলা সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা ও আইটি, সেবামূলক প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৯০টি প্রতিষ্ঠানের ১৩৩টি স্টল মেলায় অংশ নিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৩টি সহযোগী সংস্থা নিয়ে ১৯৯০ সালে ১০ হাজার ১২ জন উদ্যোক্তার সহযোগিতায় পিকেএসএফ কাজ শুরু করে। বর্তমানে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উন্নীত হয়েছে ২৭৭টিতে। এসব সংস্থা ৮ হাজার ৬২৮টি শাখার মাধ্যমে ১ কোটি ২৭ লাখ ১৫ হাজার সদস্য প্রান্তিক মানুষে ও যারা একটু স্বাবলম্বী তাদের আরও উন্নত করতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

Views: 99