টার্কিতে তাক লাগানো সফল আলাউদ্দিন

টার্কি মুরগি উৎপত্তি উত্তর আমেরিকায় থাকলেও বর্তমানে প্রায় সব দেশে পালন করছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুরগির মাংস অতি চাহিদা থাকায় টার্কি খামার গড়ে অল্প সময়ের মধ্যে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। সে স্বপ্ন নিয়ে উপজেলার প্রথম বড় খামার তৈরি করছেন এবং সফলতার মুখ দেখছেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বোয়ালী পশ্চিমপাড়া লাঙ্গুলিয়া গ্রামের শামছুল হকের ছেলে আলাউদ্দিন। গ্রামের বসত বাড়ির পাশে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তুলেছেন আমেরিকান টার্কি মুরগির খামার। তার টার্কি খামারের কথা জেনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খামার গড়ে তোলার জন্য পরার্মশ নিতে অনেকেই আসছেন। টার্কি মুরগি বিক্রি ও বাচ্চা উৎপাদন করে কোটিপতি হবার স্বপ্ন দেখছেন আলাউদ্দিন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বসত ভিটায় ৭ শতাংশ জায়গার ওপর আলাল টার্কি ফার্ম নামে টার্কি মুরগির খামার গড়ে তোলেন আলাউদ্দিন। ২০ বছর প্রবাসী জীবন কাটানোর পর দেশে কিছু করতে চান এরপর প্রথমে ঢাকায় কাঁশবন মা-ায় একটি খামার থেকে প্রাথমিক ধারণা নেন এরপর ওখানেই ২১৫টা টার্কি মুরগি পালন শুরু করেন। বর্তমানে প্রায় ৪০০টি টার্কি মুরগি আছে আলাউদ্দিনের খামারে। টার্কি মুরগির পাশাপাশি তিতি মুরগি ১৫০টি, ফ্রান্সের দেশি মুরগি, বিভিন্ন জাতের বিদেশি কবুতরের খামারও গড়ে তুলেছেন।

মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল গ্রামের ব্যবসায়ী আলামিন বলেন, আলাল ভাই এলাকার মানুষকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তার কাছ থেকে বাচ্চা নিয়ে শৌখিন খামারি ছোট আকারে টার্কি পালন শুরু করেছি। শুধু আমি না সখীপুর ও মির্জাপুর উপজেলার আরও অনেক খামারি আছে যারা আলাল ভাইয়ের এখান থেকে ডিমওয়ালা মুরগি ও ছোট বাচ্চা নিয়ে টার্কির খামার শুরু করেছেন।

আলা উদ্দিনের বাবা শামছুল হক বলেন, টার্কি মুরগির পাশাপাশি তিতি মুরগি, ফ্রান্সের দেশি মুরগি, বিভিন্ন জাতের বিদেশি কবুতরের খামারও গড়ে তুলেছেন। সকালে বিভিন্ন পাখির ডাক শুনে ঘুম ভাঙতে ভালোই লাগে।

আলাল টার্কি খামারের স্বত্বাধিকারী আলাউদ্দিন বলেন, এখন ৪০০ শত টার্কি মুরগি রয়েছে আমার খামারে। ইচ্ছে আছে ৪০০০ হাজার মুরগির খামার তৈরি করার। টার্কি মুরগির খাবারের জন্য কোন সমস্যা হয় না। দানাদার খাদ্য ছাড়াও কলমির শাক, বাঁধাকপি ও সবজি জাতীয় খাবার বেশি পছন্দ করে। মাংস উৎপাদনের জন্য দানাদার খাবার দেয়া হয়। প্রতিটির ওজন হয় প্রায় ১৬ কেজি। টার্কির রোগাবালাই খুবই কম। বছরে ১১০টির বেশি ডিম দিয়ে থাকে। ডিম থেকে বাচ্চা হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে টার্কি ডিম দিতে শুরু করে। ৬ মাসের মেয়ে টার্কি ওজন হয় ৫/৬ কেজি। আর পুরুষ টার্কিগুলোর প্রায় ৮ কেজি।

তিনি আরও জানান, টার্কি দাম তুলনামূলক একটু বেশি। চর্বি কম হওয়ায় অন্যান্যর পাখির তুলনায় মাংস খুবই সুস্বাধু। তবে এ ব্যবসায় সরকারি বা বেসরকারি (এনজিও) থেকে আর্থিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করলে বা লোন দিলে উপজেলায় খামারি বাড়বে। বাণিজ্যিকভাবে মাংস উৎপাদন এবং টার্কি মুরগির খামারো বৃদ্ধি পাবে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন নতুন খামারি আমার কাছ থেকে মুরগি কিনে তারাও টার্কি মুরগি খামার তৈরি করছেন।

এ বছরের লাভের টাকায় দিয়ে একটি হ্যাচারি মেশিন ক্রয় করার ইচ্ছে আছে। টার্কি একটি বড় আকারের গৃহপালিত পাখি। ময়ূরের মতো পাখর মেলতে পারে। এলকার বিভিন্ন জায়গায় থেকে দেখতে আসে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উকিল উদ্দিন বলেন, টার্কি বড় আকারের গৃহপালিত পাখি। এদের উৎপত্তি উত্তর আমেরিকায়, থাকলেও বর্তমানে প্রায় সব দেশে পালন করছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খাদ্য তালিকায় অন্যতম উপাদান। টার্কি মুরগি এখনও পাখি শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এ দেশের অনুকূল আবহাওয়া ও পরিবেশে টার্কি পালনে অন্যান্য দেশের তুলনায় সহজ। টার্কি প্রাণী একটি সহনশীল জাত, যে কোনো পরিবেশ দ্রত এরা নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। রোগবালাই ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এটি পালন করে সহজেই লাভবান হওয়া যায়। এ মাংসে অধিক পরিমাণে প্রোটিন ও কম পরিমানে চর্বি রয়েছে। সুস্বাদু এই মুরগির রোগ বালাই তেমন হয় না।