উদ্বোধনের অপেক্ষায় দ্বিতীয় তিতাস রেল সেতু

উদ্বোধনের অপেক্ষায় দ্বিতীয় তিতাস ও দ্বিতীয় ভৈরব রেল সেতু। সেতু দুটি নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। সেতু দুটি চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-নোয়াখালীসহ পূর্বাঞ্চলীয় জোনের মধ্যে ট্রেন চলাচলের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১০ মিনিট কমে যাবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াত করা যাবে ৪ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী সেতু দুটির উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ডাবল লাইন নির্মাণের সুফল তুলতে দ্বিতীয় তিতাস ও দ্বিতীয় ভৈরব সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। পুরনো ও নতুন দুটি সেতু দিয়েই ট্রেন চলাচল করবে। একটি দিয়ে ডাউন ট্রেন অপরটিতে আপ ট্রেন চলাচল করবে। সেতুগুলো যাতে ডুয়েল গেজ হিসেবে ব্যবহার করা যায় এজন্য সেতুর ওপর ডুয়েল রেললাইন স্থাপন করা হয়েছে।

২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় তিতাস সেতু নির্মাণ প্রকল্পের চুক্তি হয় ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যানন এফএলসিএল কনসুরটিউমের সঙ্গে। ২০১৪ সালের ২৭ জানুয়ারি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ডাবল লাইন স্থাপনের লক্ষ্যে ২১৮.৭০ মিটার দৈর্ঘ্য সেতুটির প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। চলতি বছরের ৩১ মার্চ নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে নির্মাণ শেষ করতে পারেনি ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে নির্মিত সেতুর ওপর স্থাপন করা লাইন সংযোগ ও সিগন্যাল বাতির কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তবে এসব কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। স্লিপার, রেললাইন নির্মাণ ও পাথর বসানোর হয়েছে সেতুতে। পরীক্ষামূলকভাবে সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চালানো হয়েছে। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, উদ্বোধনের আগেই লাইন সংযোগ ও সিগন্যাল বাতির কাজ শেষ করতে পারবেন।

অন্যদিকে ২০১৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইরকন-এফকন জেভির সঙ্গে দ্বিতীয় ভৈরব সেতু নির্মাণ প্রকল্পের চুক্তি হয়। একই বছরের ২৫ ডিসেম্বর প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৬৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ৩ বছরের প্রকল্পে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক দফা সময় নিয়ে চার বছরের মাথায় সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করেছে ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইরকন অ্যান্ড এফকনস জেভি কোং। এ সেতুর সঙ্গে ভৈরব ও আশুগঞ্জ প্রান্তের ছয়টি ছোট সেতুর নির্মাণ কাজও শেষ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সেতুতে স্লিপার, রেললাইন নির্মাণ ও পাথর বসিয়ে পরীক্ষামূলক ট্রেন চালানো হয়েছে। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা।

দ্বিতীয় তিতাস ও দ্বিতীয় ভৈরব সেতু নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক ও রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) আবদুল হাই বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়েছে। দ্বিতীয় তিতাসে সিগন্যালের কাজ চলছে।

রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, নভেম্বরের যে কোনো সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দুটি সেতুর উদ্বোধন করবেন। সেতুগুলো উদ্বোধন হলে পণ্য পরিবহনে সুবিধা হবে। গত ২৭ অক্টোবর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা যাওয়ার পথে আখাউড়া স্থলবন্দরে শূন্যরেখায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।