নতুন সম্ভাবনার হাতছানি এক ধানে দুই চাল!

একটি ধানের মধ্যে দুটি চাল উদ্ভাবন করে চমকে দিয়েছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের কৃষক মকবুল হোসেন। তার আবিষ্কৃত এ ধানের নাম দিয়েছেন ‘মকবুল ধান’। আমন জাতের এ ধান চাষে খরচ কম ও ভালো ফলন হওয়ায় এলাকার কৃষকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের মহেশ্বরচাঁদা গ্রামের কৃষক মকবুল হোসেনের আবিষ্কৃত এ ধানের বীজ নিতে দূর-দূরান্ত্মের কৃষকরা আসছেন তার বাড়িতে। ইতোমধ্যে তার এই আবিষ্কৃত ধান কৃষি বিজ্ঞানীদের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক দেশের বিভিন্ন গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে।
ধান আবিষ্কার বিষয়ে কৃষক মকবুল হোসেন জানান, ১৯৮২ সালে কৃষি বিজ্ঞানী ড. গুল হোসেন ও ইউএনডিপির কর্মকর্তা নাইমুজ্জামান মুক্তা মহেশ্বরচাঁদা গ্রামে এসে কৃষিতে আধুনিক চাষপদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেন। সে সময়ে তাদের নিকট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি করে ব্যাপক সফল হন তিনি। কৃষক মকবুল এখানেই থেমে থাকেননি। তার ভাবনায় ছিল কৃষিতে নতুন নতুন কিছু আবিষ্কার করা। তার সেই ভাবনা থেকেই ২০১০ সালে বিভিন্ন গ্রামের মাঠের ধান ক্ষেত থেকে ধানের ২০-২৫টি বাইল (ছড়া) সংগ্রহ করেন। এরপর সেই ধানগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে দেখতে পান, একটি ধানের মধ্যে দুটি চাল রয়েছে। তিনি ওই বছরে নিজের জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই ধানের চারা রোপণ করে সাফল্য পান। এরপর পর্যায়ক্রমে ৩-৪ বছরের ব্যবধানে তার ক্ষেতেই এ ধান বীজ তৈরি করে এখন সে দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকের মধ্যে তা সরবরাহ করছেন।

কৃষক মকবুল জানান, আমন জাতের ধানটি দেখতে অনেকটা স্বর্ণা ধানের মতো। আষাঢ় মাসে চারা রোপণ করতে হয়। বিশেষ করে নিচু ডোবা এলাকায় এটি রোপণ করলে ভালো হয়। এতে বিঘাপ্রতি ২০-২২ মণ ফলন পাওয়া যায়। বর্তমানে এ ধান ঢাকা, ময়মনসিংহ, মাগুরা ও দত্তনগর কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে কৃষি বিজ্ঞানীরা গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।
মকবুল হোসেন তার জীবনের ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, স্বাধীনতার পর তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান রফিউদ্দিনের বাড়িতে কামলা খাটতেন। তাতে ছেলেমেয়ে-মাসহ ছয়জনের সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকত। এরপর সংসারের অভাব ঘোচাতে শুরম্ন করেন রিকশা চালানো। তাতেও ভালো আয় রোজগার না হওয়ায় ক্রমেই তার জীবন দুর্বিষহ হতে থাকে। এরপর তিনি গ্রামে ফিরে আসেন। গ্রামের কৃষকদের সংগঠিত করতে হাটখোলায় গড়ে তোলেন একটি কৃষি ক্লাব। সেখান থেকেই এলাকার কৃষকদের নিয়ে কৃষির সাথে যুক্ত হয়ে নতুন জীবনের পথচলা শুরম্ন করেন।
এক ধানে দুই চাল বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, কৃষক মকবুলের এই ধান তিনি দেখেছেন। তারা সরেজমিনে ধানের ক্ষেতে গিয়ে ভালো ফলনও লক্ষ্য করেছেন। তিনি জানান ইতোমধ্যে তার ধান পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন গবেষণাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।