খুলনায় ব্রি-৭৫ ধানে কৃষকের মুখে হাসি

বিস্তীর্ণ মাঠে ব্রি-৭৫ ধানের সোনালি শিষ। হালকা বাতাসে দোলানো পাকা ধানে প্রশান্তি এনে দেয় কৃষকের মনে।

আশপাশের জমিতে ধান কাঁচা থাকলেও এরই মধ্যে ব্রি-৭৫ ধান কাটতে শুরু করেছেন কৃষকরা। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি আমন মৌসুমে খুলনায় প্রথমবারের মতো নতুন উদ্ভাবিত ব্রি-৭৫ জাতের ধানের আবাদ করা হয়েছে। মাত্র ১১০ দিনে ফলন ঘরে উঠায় হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। পাশাপাশি একই জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি, আলু ও সরিষা আবাদের সুযোগ পাচ্ছেন তারা। কম সময় ও কম খরচে বেশি মুনাফা। তাই, কৃষকদের মধ্যে এ ধান সাড়া ফেলেছে। রোগবালাইয়ের প্রকোপ না থাকায় ধানের উৎপাদন ব্যয়ও কম। জানা গেছে, খুলনা, সাতক্ষীরা ও যশোরের যেসব এলাকায় সেচ ব্যবস্থা আছে, সেখানে ব্রি-৭৫ ধানের চাষ খুবই উপযোগী। একাধিক ফসল চাষাবাদ এলাকায় লাগসই প্রযুক্তি এটি। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, অন্যান্য ব্রি জাতের তুলনায় এই ধানের চাল অপেক্ষাকৃত চিকন ও সুগন্ধি হওয়ায় এটি লাভজনক। খুলনার মহেশ্বরপাশা কার্তিককুল বিলের প্রবীণ চাষি সিদ্দিক শেখ জানান, ‘প্রথমদিকে অনেকে ধানের এই জাত নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তবে অল্পদিনে ফসল পাওয়ায় আশপাশের অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এতে রোগ-বালাই কম, কীটনাশক দেওয়া লাগে না। কম খরচে হেক্টরপ্রতি সাড়ে ৪ থেকে ৫ টন ধান পাওয়ায় আমরা খুশি। ’ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার বিশ্বাস জানান, আমন মৌসুমে ব্রি-৭৫ ধান কৃষকের জন্য সুসংবাদ। মাত্র ১১০ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে তারা এই ধান ঘরে তুলতে পারছেন। আগাম ফলনের কারণে একই জমিতে কৃষক রবিশস্য, আলু ও শীতকালীন সবজি করতে পারছেন। ফলে বাড়তি ধান ও আগাম রবিশষ্যে তারা লাভবান হবেন। কৃষিবিদ জাকিয়া সুলতানা জানান, এ জাতের চালে সামান্য সুগন্ধি আছে। তবে রান্নার সময় সুগন্ধ বেশি পাওয়া যায়। চাল চিকন ও সুগন্ধি হওয়ায় কৃষক ভালো দাম পাবেন। ব্রি-৭৫ ধানের কাণ্ড শক্ত, তাই হেলে পড়ে না ও শিষ থেকে ধানও ঝরে পড়ে না। সারের মাত্রা অন্যান্য উফশী জাতের চেয়ে ২০ শতাংশ কম লাগে। তিনি বলেন, ব্রি-৭৫ ধানের গড় ফলন হেক্টরপ্রতি সাড়ে ৪ টন। তবে উপযুক্ত পরিচর্যায় প্রতি হেক্টরে সাড়ে ৫ টন পর্যন্ত ফলন হতে পারে।