নেত্রকোনায় বন্যার্ত কৃষকদের আশা দেখাচ্ছে ‘ভাসমান পদ্ধতি’

বেড পদ্ধতি বা ভাসমান পদ্ধতিতে ধানের চারা ও সবজি চাষে নেত্রকোনার কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। জলাশয়ের ওপর অল্প শ্রম ও অর্থে অতিবৃষ্টি,    পাহাড়ি ঢল ও অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভালো উপার্জনের একটি ক্ষেত্র তৈরি করেছে এ চাষপদ্ধতি।

নেত্রকোনা জেলা সদরসহ কলমাকান্দা, মোহনগঞ্জ, পূর্বধলা এবং হাওড় উপজেলা মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরি এ ছয়টি উপজেলায় এবার ভাসমান পদ্ধতিতে আমনের বীজতলা ও শাকসবজির চাষ করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে সর্বাধিক ফল পেতে কৃষি বিভাগ থেকেও কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

পূর্বধলা উপজেলা সদরের কোমাবিল ও হুগলা ইউনিয়নের কদমা বিল এবং মোহনগঞ্জের বড়কাশিয়া বিরামপুর ইউনিয়নের নাকডরা বিলে ভাসমান বেডে সবজি চাষ ও বীজতলা তৈরিতে সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা। তাদের বীজতলা ও সবজি চাষ দেখে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্য কৃষকরাও এ পদ্ধতির বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

পূর্বধলা উপজেলার দ্বীগজান গ্রামের কৃষক কালাম মিয়া জানান, ভাসমান পদ্ধতিতে ধানের চারা ও সবজির যে ফলন হয়েছে তাতে তিনি খুব খুশি। তার দেখাদেখি এলাকার আব্দুস সালাম, ফারুক মিয়া, শহীদ মিয়া, লাল চানসহ অন্য কৃষকরাও বন্যার ক্ষতি পোষাতে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেছেন।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, অতিবৃষ্টিতে বন্যা ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ নিচু এলাকায় চাষাবাদের জন্য মাটি পাওয়া না গেলেও পানির ওপর ভাসমান পদ্ধতিতে প্রচুর ফসল চাষ করা সম্ভব। এতে বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।

এ পদ্ধতি বর্ণনা করতে গিয়ে পূর্বধলা উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোনায়েম খান জানান, ধাপে ধাপে কচুরিপানা পচিয়ে সুবিধাজনক দৈর্ঘ্যের এবং তিন ফুট উচ্চতার বেড তৈরি করা হয়। বেডে বীজ বপন বা চারা রোপণের ২০-২৫ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়। এ পদ্ধতিতে প্রায় সব ধরনের সবজির চাষ করা যায়।

নেত্রকোনার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) ড. বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস জানান, গত বছর তারা কৃষকদের পরীক্ষামূলকভাবে ভাসমান পদ্ধতিতে চাষাবাদের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কৃষকরা এখন মাত্র ২৫ দিনের মাথায় সফলতা পাচ্ছেন কোনো খরচ ছাড়াই। এ পদ্ধতির সুবিধা হলো, যত বন্যাই হোক— চারার কোনো ক্ষতি হবে না।