আজ মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভারের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও দুর্ভোগের পর যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেয়া হচ্ছে রাজধানীর মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভার। আজ গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ ফ্লাইওভারের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভার প্রকল্পের পরিচালক সুশান্ত কুমার পাল জানান, ফ্লাইওভার নির্মাণের সব কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্প এলাকার নিচের রাস্তাগুলোর কার্পেটিংও প্রায় হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করার পর পরই ফ্লাইওভারটি যান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ খুলে দেয়া হবে।

ফ্লাইওভারটি উদ্বোধনের জন্য ওই এলাকায় একটি অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এটি উদ্বোধনের সময় ওই মঞ্চে পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মো. ওসমান গণিসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত থাকবেন। এ কারণে একদিনের জন্য ওই সড়কটি ব্যবহার না করার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছেন মেয়র সাঈদ খোকন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গণভবনে থাকবেন। আমরা থাকব মৌচাক প্রান্তে। সেখানে একটা অনুষ্ঠানও হবে। এ কারণে ওই রাস্তাটা বন্ধ থাকবে। নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে, যেন তারা খুব জরুরি কাজ না থাকলে ওই এলাকার সড়ক ব্যবহার না করেন।

তিন ভাগে মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজ করা হয়েছে। একটি অংশে রয়েছে সাতরাস্তা-মগবাজার-হলি ফ্যামিলি পর্যন্ত, আরেকটি অংশ শান্তিনগর-মালিবাগ-রাজারবাগ পর্যন্ত এবং শেষ অংশটি বাংলামোটর-মগবাজার-মৌচাক পর্যন্ত।  ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ এ ফ্লাইওভারের হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল থেকে সাতরাস্তা পর্যন্ত অংশ উন্মুক্ত করা হয়। এরপর ওই বছরেরই ১৫ সেপ্টেম্বর এ ফ্লাইওভারের ইস্কাটন-মৌচাক অংশ খুলে দেয়া হয়। সর্বশেষে চলতি বছরের ১৭ মে এফডিসি মোড় থেকে সোনারগাঁও হোটেলের দিকের অংশটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়।

২০১১ সালে এ ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এরপর কয়েক ধাপে ব্যয় বেড়ে তা ১ হাজার ১৩৫ কোটি টাকায় পৌঁছায়।

৮ দশমিক ৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চার লেনের এ ফ্লাইওভারে ওঠা-নামার জন্য তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, সোনারগাঁও হোটেল, মগবাজার, রমনা (হলি ফ্যামিলি হাসপাতালসংলগ্ন রাস্তা), বাংলামোটর, মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ও শান্তিনগর মোড়ে লুপ বা র্যাম্প রাখা হয়েছে।