কৃষকদের ঋণ সহায়তা বাধ্যতামূলক করল সরকার

কৃষকদের ঋণ না দিলে শাস্তি পেতে হবে ব্যাংকগুলোকে। অর্থবছর শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না করলে ব্যাংকগুলোকে এ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক চিঠি দিয়ে ব্যাংকগুলোকে বলেছে, বেসরকারি বিদেশি ও স্থানীয় ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রার কম ঋণ বিতরণ করলে বাকি অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা দিতে হবে। পরবর্তী বছরে এ অতিরিক্ত সমপরিমাণ ঋণ বিতরণ করা না হলে ওই অর্থ আর ফেরত দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে বন্যা, অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে সুদ মওকুফসহ ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে।

কৃষি ও পল্লী ঋণে দুই শতাংশ হারে সুদ আরোপের সুবিধা দিয়ে কৃষকদের ঋণ দিতেও নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশ পরিপালনে কোনো ব্যত্যয় বা ঋণ না দিলে শাস্তি পেতে হবে ব্যাংকগুলোকে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পাঠানো চিঠিতে বলেছে, বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ দিতে কোনো গড়িমসি করতে পারবে না। কোনো ব্যাংক অর্থ বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম ঋণ বিতরণ করলে অবিতরণ করা অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জমা দিতে হবে। এই অর্থের কোনো সুদ দেওয়া হবে না।

পরবর্তী বছরে লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ বিতরণ করতে হবে। অন্যথায় ওই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না। তবে এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে কিছুটা ছাড়ও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থ বছরে মোট ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষি সংশ্লিষ্ট কাজে এই ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

প্রতি তিন মাস পর পর বাংলাদেশ ব্যাংকে এই ঋণ বিতরণের হিসাব জমা দিতে হবে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনেক ব্যাংক তাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। কয়েকটি বিদেশি ব্যাংক কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করেনি।

এ ছাড়া কৃষি ও পল্লী ঋণ নিতে কৃষকদের নানাবিধ হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ কারণে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।