কেঁচো সারে লাভবান হচ্ছেন কৃষক

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) উৎপাদনে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। কেঁচো সার উৎপাদন বাড়াতে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্যোগে এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রদর্শনী ছাড়াও উপজেলার বেখৈরহাটী ব্লকের বিভিন্ন গ্রামের অর্ধশতাধিক কৃষাণ-কৃষাণি ব্যক্তি উদ্যোগে কেঁচো সার উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত সার ও কেঁচো বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। জমিতে কেঁচো সার প্রয়োগের ফলে অন্যান্য রাসায়নিক সার কম লাগায় এবং মাটির জৈব পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি করায় কৃষক কেঁচো সার উৎপাদন ও ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রোগ্রাম ফেজ-২ প্রজেক্টের অর্থায়নে উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে ৩০টি ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) উৎপাদন প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। এজন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে প্রদর্শনীর আওতায় কৃষকদের মাঝে প্রয়োজনীয় কেঁচোসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষককে কেঁচো সার উৎপাদনে সার্বিক পরামর্শ দেয়াসহ অন্যান্য কৃষককেও এ সার উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুকতাদিরুল আহমেদ ও কৃষি কর্মকর্তা হাসান ইমাম উপজেলার বিভিন্ন ভার্মি কম্পোস্ট প্রদর্শনী পরিদর্শন করেছেন।

ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনকারী উপজেলার বেখৈরহাটী গ্রামের কৃষাণি জরিনা আক্তার ও কৃষক খোকন মিয়া জানান, ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন খুবই সহজ। খরচও কম। বর্তমানে তারা নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত সার ১০ টাকা কেজি ও প্রতিটি কেঁচো ১ টাকা দরে বিক্রি করছেন। বেখৈরহাটী ব্লকের ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন প্রদর্শনীর কৃষক আশরাফুল আলম জানান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন প্রদর্শনীর জন্য প্রয়োজনীয় কেঁচোসহ যাবতীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করছে। ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে এলাকার কৃষক খুবই লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলার বেখৈরহাটী ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলী আসকার খান জানান, ওই ব্লকের বিভিন্ন গ্রামের অর্ধশতাধিক কৃষাণ-কৃষাণি ব্যক্তি উদ্যোগে কেঁচো সার উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত সার ও কেঁচো বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। ইচ্ছে করলে নারীরাও বাড়িতে বাড়িতে ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) উৎপাদন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান ইমাম জানান, প্রদর্শনীর কৃষক ছাড়াও সব কৃষককে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এ সার উৎপাদনে কৃষক দিন দিন আগ্রহী হচ্ছেন। এতে লাভবানও হচ্ছেন তারা। ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে কেন্দুয়া উপজেলা এক সময় মডেল হবে।