প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আরেক নাম পদ্মবিল

মুগ্ধতার রেশ ছড়িয়ে পড়ে আমাদের মনজুড়ে। নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চিনিডাঙ্গার পদ্মবিল তেমনই ভালো লাগার আবেশ সৃষ্টি করে। বিল ভ্রমণে মন-প্রাণ জুড়িয়ে যায়। এখানে জলজ ফুলের রানী পদ্ম প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে উঠে মেলে ধরেছে আপন সৌন্দর্য। এতদিন অনেকটাই লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল বিলটি। বিলের চারদিকে শুধু পদ্ম আর পদ্ম। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এ পদ্ম দেখলে মন-প্রাণ জুড়িয়ে যায়। এমন অপরূপ দৃশ্য ভ্রমণপিপাসুদের হাতছানি দেয়। বিলে ডিঙ্গি নৌকায় ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ মনে পড়তে পারে কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কেউ কথা রাখেনি’ কবিতাটি—
‘মামা বাড়ির মাঝি নাদের আলি বলেছিল, বড় হও দাদাঠাকুর/তোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাব/সেখানে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর ভ্রমর খেলা করে!/নাদের আলি, আমি আর কত বড় হব? আমার মাথা এই ঘরের ছাদ ফুঁড়ে আকাশ স্পর্শ করলে তারপর তুমি আমায়/তিন প্রহরের বিল দেখাবে?’ কবিতাটি পড়ে যাদের তিন প্রহরের বিল আর পদ্মফুল দেখার সাধ জন্মেছিল তারা কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পেতে পারেন বিল আর পদ্মফুল দেখার হাহাকার থেকে।

সকালের দিকে ফোঁটা পদ্ম বেশি দেখা যায়। পড়ন্ত বিকালে ফুলের সঙ্গে অস্তগামী সূর্য আপনার মনের কাব্যিকতা বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ। বিলের পাশে জেলে পল্লীর মানুষজন প্রবল উৎসাহে ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে ঘোরাবে। এখানকার মানুষ প্রবল অতিথিপরায়ণ। সারা বেলা ঘুরে নৌকার ভাড়া দিতে গেলে মুখ ফুটে কোনো দাবি করবে না। ১০০ থেকে ২০০ টাকা দিলে তো মহাখুশি। এখানকার মানুষ সবাই মত্স্যজীবী। ফুলের দিকে বাড়তি নজর নেই কারও। ফলে পদ্ম ফুটে থাকে স্বগৌরবে।
কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা আঁখি খাতুনের সঙ্গে। তিনি জানান, শুধু ফুলের কারণেই চিনিডাঙ্গা বিলটি পরিচিত হয়েছে উঠছে। ধীরে ধীরে পরিচিত হওয়ায় ইতিমধ্যে পদ্মের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে বিলে আসতে শুরু করেছে দর্শণার্থী। ডিঙ্গি নৌকা করে বেড়ানোর কারণে বাড়তি আয়ও হচ্ছে স্থানীয়দের।

পারকোল গ্রামের উমেদ আলী বলেন, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যথাযথ প্রদক্ষেপ নিলে লোকচক্ষুর অন্তরালের চিনিডাঙ্গা বিলের সৌন্দর্যও বিকশিত হয়ে উঠতে পারে পর্যটনের অন্যতম স্থান।

বিল ভ্রমণে আসা ফারজানা কেয়া বলেন, নাটোরের চিনিডাঙ্গা বিল ঘুরতে এসেছি। অনেক সুন্দর একটি জায়গা। অনেক পদ্মফুল। নাটোর শহর থেকে একটু দূরে এত সুন্দর একটা জায়গা আছে, না এলে বুঝতে পারতাম না।

জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, নাটোরে আসলে দেখার অনেক কিছু আছে। পর্যটনের সর্বশেষ আবিষ্কার, যা সাংবাদিকরা আবিষ্কার করেছেন, এজন্য তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই। চিনিডাঙ্গা বিল নামে একটি বিল আছে যেখানে পদ্ম ফোটে, শাপলাও ফোটে। জেলা প্রশাসনের সবাই মিলে বিলটি দেখে আসব। প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা পদ্মফুলের উৎপাদন বাড়িয়ে বিলটাকে আরও সৌন্দর্যমণ্ডিত করা হবে। সেই সঙ্গে জেলার ব্যান্ডিং সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত করে চিনিডাঙ্গা বিলটি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হিসেবে গড়ে তোলা হবে।