ভাসমান পদ্ধতিতে হাঁস পালনে তিন যুবকের সফলতা

মেধা, শ্রম আর একাগ্রতার মাধ্যমে হাঁস পালনে চমক সৃষ্টি করছেন ভোলার বোরহানউদ্দিনের তিন যুবক। এখন তারা স্বাবলম্বী। চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক। অন্যের কাছে শ্রম বিক্রি কিংবা পরিবারের বোঝা হয়নি তারা। বেকার যুবকরা আজ তাদের ফার্মে চাকরি করে সংসার চালাচ্ছে। সোমবার সকালে তেতুলিয়া নদীর তীরে এমনই তিন সত্,পরিশ্রমী যুবকের সাথে কথা বলে তাদের সফলতার কথা জানা যায়।

গংগাপুর ইউনিয়নের জয়নাল আবেদিনের ছেলে মিজানুর রহমান (২২) তাদেরই একজন। তিনি জানান, ‘বিভিন্ন সময়ে বাবার কাছ থেকে হাত খরচের টাকা চাইতাম। কখনো দিতে পারতেন। কখনো পারতেন না। তখন নিজেকে খুব অসহায় মনে হতো। তাই ভাবলাম নিজেকেই কিছু করতে হবে। প্রথমে ৫০টি হাঁস নিয়ে খামার শুরু করি। বর্তমানে আমার খামারে হাঁসের সংখ্যা এক হাজার।’ তিনি জানান, সিলেটের হবিগঞ্জ থেকে প্রতিশ’ হাঁস ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় কিনে আনেন।

ছোট অবস্থায় কয়েকদিন বাসায় পালন করেন। একটু বড় হওয়ার পর ভাটার সময় তেতুলিয়া নদীর মাঝে জেগে ওঠা মাঝের চরে দিয়ে আসেন। ওখানে শামুক ও ছোট আকৃতির মাছ খায়। হাঁসগুলো সারাদিন ওই চরের পানিতেই খেলা করে। সন্ধ্যা হলে জাল দিয়ে বানানো ঘরে এসে আশ্রয় নেয়। ভোর রাতে হাঁসগুলো ডিম পাড়ে। খুব সকালে ডিমগুলো সংগ্রহ করা হয়। পরে স্থানীয় বাজারে বিক্রয় করা হয়। তিনি আরো জানান, সারাবছরই কম-বেশি হাঁসগুলো ডিম দেয়। অগ্রহায়ণ কিংবা পৌষ মাসে প্রতি হাজার হাঁস দৈনিক ন্যূনতম আটশ’ ডিম দিয়ে থাকে। রোগ-ব্যাধি না থাকলে বছরে পাঁচ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। হাঁসগুলো দেখা-শুনার জন্য দুইজন লোক রাখা হয়েছে। আট বছর ধরে খামার করে তিনি নিজেদের থাকার জন্য ঘর, হাল চাষের জন্য বেশ কিছু জমি কিনতে সক্ষম হন। সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন।

অন্য যুবক বিল্লাল হোসেন (৩৫)। ১২ বছর বয়সেই বাবা আবু হাওলাদারের সাথে হাঁসের খামার করেন। সেই থেকেই হাতেখড়ি। বর্তমানে তিনি পাঁচশ’ হাঁস পালন করেন। সবগুলো হাঁস লাল রঙের। দেখতে খুবই সুন্দর। জানতে চাইলে তিনি জানান, একজনের হাঁস যাতে অন্যের সাথে মিশতে না পারে সেজন্য সবাই যার যার হাঁস রঙ করেন। তিনি জানান ,অগ্রহায়ণ মাস থেকে ডিম পাড়া শুরু হয়ে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে। এরপর অবশ্য কম পাড়ে। ডিম পাড়া একশ’ হাঁসের সাথে ১০টি পুরুষ (হাঁসা) হাঁস দলে রাখতে হয়। এসব ডিম বাচ্চা উত্পাদনে ব্যবহার হয়। তবে হাঁসগুলোকে তিন মাস অন্তর অন্তর ভ্যাকসিন দিলে রোগ-বালাই থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তার দুইজন কর্মচারীর বেতনসহ সব খরচ শেষে বছরে তার পাঁচ লাখ টাকা আয় হয়।

একই রকম কথা বললেন হাসেম মাতব্বরের ছেলে নুরনবী। তিনি ১৫ বছর ধরে হাঁসের ফার্ম করছেন। ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়াসহ চার কড়া (১৬ শতাংশ) জমিও কিনতে সক্ষম হয়েছেন। গংগাপুর ইউপির জনপ্রতিনিধি কালাম বর্দ্দার জানান, ‘আমার এলাকার অনেক যুবক চরে এভাবে হাঁস পালন করে খুবই ভালো আছে।’