অবশেষে গোলাপবাগ মাঠে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগছে

রাজধানীর ধলপুরের গোলাপবাগ মাঠটি দীর্ঘ বছর ব্যবহারের অনুপযোগী থাকার পর অবশেষে নতুন করে আধুনিক মাঠটিকে ব্যবহার উপযোগী করতে নির্মাণ কাজ শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। ঢাকা দক্ষিণের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বুধবার এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। প্রায় ১৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই মাঠটিকে আধুনিক বিশ্বের উন্নত শহরের যে কোন খেলার মাঠের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই মাঠটিকে সাজানোর কাজ হাতে নিয়েছে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ। মেয়র সাঈদ খোকনের বিশেষ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন দক্ষিণ সিটি এলাকায় ‘জলসবুজে ঢাকা’ নামে প্রকল্পের কাজের অংশ হিসেবে এই মাঠটিকে নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে। মাঠটি হবে এলাকার অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র ও খেলার মাঠ। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলালের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব আহমেদ মন্নাফী, কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ফরাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ, স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রকল্প পরিচালক আসাদুজ্জামান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং কর্পোরেশনের অন্যান্য উর্ধতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ এ প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হবে। প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা এক অনন্য সাধারণ রূপ লাভ করবে। নারী, শিশু এবং বয়স্ক সকলের জন্যই এসব মাঠে নাগরিক সুযোগ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন রকম বৃক্ষরোপণ করে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে এ মাঠটিতে। এর ফলে এসব মাঠে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হাঁটাহাঁটি করার সুযোগ পাবেন।

ডিএসসিসি সূত্র জানায়, বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটির মেয়াদ আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করা হবে। সূত্র জানায় ঢাকা দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই মাঠটিসহ দক্ষিণ সিটির মোট ৩১ পুরনো স্থানেই আধুনিক পার্ক ও খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই জলসবুজে ঢাকা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানা গেছে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এই মাঠে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাটমিন্টন, টেবিল টেনিসসহ বিভিন্ন খেলার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া সকাল-সন্ধ্যা শিশু নারী বৃদ্ধসহ সকল শ্রেণীর মানুষের চলাচলের প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থাই থাকবে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এই গোলাপবাগ মাঠের পাশেই থাকবে বাস কাউন্টার। একটি আধুনিক মানের নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা জিম বা শরীরচর্চাকেন্দ্র তৈরি করা হবে। ক্রিকেট ও ফুটবল খেলার জন্য ভিআইপি গ্যালারি থাকবে। স্টোর রুম ও খেলোয়াড়দের বসার জন্য ওয়েটিং রুম থাকবে। এছাড়া সাধারণ গ্যালারি ও ক্লাব অফিস থাকবে। আগত দর্শক ও সকল শ্রেণীর নাগরিকের সুবিধার্থে নারী-পুরুষের পৃথক সুবিধাসহ আধুনিক পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে। প্রতি গ্রুপে এগারো জন করে খেলোয়াড় খেলতে পারে এমন বিশাল আকারে ফুটবল খেলার মাঠ তৈরি করা হবে। থাকবে আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন ক্রিকেট খেলার মাঠ। এছাড়া ক্লাইম্বিং ওয়াল, মাংকি ক্লাইম্বিং, সিøপারের ব্যবস্থা থাকবে। যা বাংলাদেশে এই প্রথম।

সূত্র জানায়, টিনএজদের খেলাধুলার জন্য টেবিল টেনিস, ব্যাটমিন্টন কোর্ট ও তাদের ব্যায়ামের জন্য নানা উপকরণ দেয়া থাকবে। সমাজের যে কেউ এসব যন্ত্রপাতি সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন।

এছাড়া বাচ্চাদের খেলাধুলার জন্য সি-স, মাংকি ব্রিজ, সান্ড এরিয়া তৈরি করা হবে। এলাকার মানুষের সার্বিক দিক চিন্তা করে মাঠের স্বার্থে লাইব্রেরি, গ্যালারি, ক্লাইম্বিং ওয়াল, সিøপার ক্লাব রুম ও একটি পাবলিক টয়লেটসহ একটি ওয়াসার পানির পাম্প কক্ষ বসানো হবে।

এছাড়া নিরাপত্তা রুম, ক্লাব ঘর, ওয়েটিং লাউঞ্জ, সার্ভিস রুম, বেশ কিছু দোকান টিকেট কাউন্টারসহ মোট ৩৪টি স্থায়ী স্থাপনার বিশেষ কক্ষ তৈরি করা হবে। যা এলাকাবাসীর সুবিধার্থে মাঠের উন্নতির কাজে ব্যবহার করা হবে। পার্কটির চারপাশে সবুজায়নের অংশ হিসেবে প্রচুর পরিমাণ দেশী-বিদেশী ও ফুলের গাছ লাগানো হবে। এসব মাঠ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা, ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা প্রদানসহ সার্বিক পরিচালনার জন্য স্থানীয় লোকদের সম্পৃক্ত করা হবে। তারাই এসব মাঠ ও পার্কের সঠিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। তবে এ কাজে সহায়তা করবে স্থানীয় কাউন্সিলর ও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।