বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে সমঝোতা চুক্তি

বিদ্যুতের সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। এর মধ্য দিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড সাবস্টেশন, ডিজিটাল সাবস্টেশন এবং গ্রিড অটোমেশন প্রযুক্তি দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় যোগ হবে। বিতরণ ব্যবস্থায় আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজনে গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকায় সুইডেন দূতাবাস এবং এবিবি পাওয়ারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করছে সরকার।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বিতরণ কোম্পানিগুলো নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করতে চায় না। এক্ষেত্রে বাড়তি নির্মাণ ব্যয়কেই বড় করে দেখে তারা। কিন্তু একবার আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করলে এর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমে যায়। যাতে করে প্রকল্পের মোট খরচ কমে যায়। তিনি বলেন, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছবে। তার আগেই পুরনো সব প্রযুক্তি বদলে ফেলতে হবে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এবিবি তাদের আন্ডারগ্রাউন্ড সাবস্টেশন করার অভিজ্ঞতায় ঢাকায় সাবস্টেশন নির্মাণ করবে। বিশ্বের যেসব ঘন বসতিপূর্ণ দেশ রয়েছে সেখানে মাটির নিচে বিদ্যুতের সাবস্টেশন নির্মাণ করা হয়। এতে অন্তত ৭০ ভাগ জমির অপচয় রোধ করা যায়। সাবস্টেশনের ওপরে বহুতল ভবনও নির্মাণ করা যায়। এতে জমির অপচয় রোধ হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুতের সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত হবে। গ্রিডেও আধুনিকতার ছোঁয়া দিতে এবার গ্রিড অটোমেশন পদ্ধতি যোগ করা হচ্ছে।
এর ফলে এনার্জি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইএমএস), ডিস্ট্রিবিউশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ডিএমএস), নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এনএমএস) উন্নত হবে। একই সঙ্গে স্ক্যাডা পদ্ধতির উন্নয়ন করা হবে। আধুনিক এসব কার্যক্রম পাইলট প্রকল্প আকারে গ্রহণ করা হবে। এসব প্রকল্পের সাফল্য দেখেই পরবর্তীতে প্রকল্প নেয়া হবে।
সুইডেনের ঋণে এবিবি প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করবে। সুইডেনের রাষ্ট্রদূত শার্লট শল্টার, এবিবির পক্ষে কান্ট্রি ম্যানেজার হরিকিষ্ণান নারায়নান এবং বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষে যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) শেখ ফয়জুল আমিন সই করেন। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি), ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) এবং ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) আধুনিক এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।