ভাসমান পদ্ধতির সবজি চাষ জনপ্রিয় করতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ

ভাসমান সবজি ও মসলা চাষ জনপ্রিয় করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি ও মসলা চাষে ইতোমধ্যে সফলতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)। ঢেঁড়স, পুঁইশাক, বরবটি, শসা, করলা, হলুদসহ বেশ কয়েকটি সবজি ও মসলার উচ্চফলনশীল আধুনিক জাতও উদ্ভাবন করেছে সংস্থাটি। উদ্ভাবিত জাত এখন মাঠপর্যায়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষের অপেক্ষায়। সেজন্য আলাদা প্রকল্প হাতে নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ‘ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ’ শীর্ষক এ প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ৬৩ কোটি কোটি টাকা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আজকের সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উত্থপান করা হতে পারে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আকস্মিক বন্যায় ফসলের ক্ষতি ঠেকানো ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় এ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এতে জোর দেয়া হচ্ছে গবেষণার ওপর। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপ্রবণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আর পরিবর্তিত জলবায়ুর কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে কৃষি খাত। এরই মধ্যে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ওই সব অঞ্চলের মাটি ও পানিতে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এছাড়া জলমগ্নতা, উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যা এবং একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই আছে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে দীর্ঘ সময়ের জন্য অনেক স্থান জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। হাওড় এলাকায় আকস্মিক বন্যায় প্রায় সময় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে স্থানভিত্তিক সৃজনশীল কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং এর সম্প্রসারণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে নেয়া হয় এ প্রকল্পের উদ্যোগ। একনেক সভায় অনুমোদন পেলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) সহযোগিতায় বারি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০১৭ সালের জুলাই হতে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রসঙ্গত, ভাসমান বেডে মসলা ও সবজি চাষ করে সফল হয়েছেন দেশের অনেক কৃষক। ডিএইর তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ১২ হাজার কৃষক ভাসমান পদ্ধতির সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত আছেন। উৎপাদিত সবজি বাজারে বিক্রি করে ইতোমধ্যে অর্থ উপার্জনও করেছেন তারা। ভাসমান পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ মাটিবিহীন ও পানির উপরে শাকসবজি চাষাবাদ হয়ে থাকে। ব্যবহৃত হয় না কোন রাসায়নিক সার ও কীটনাশক। এমনকি চাষের জন্য প্রয়োজন পড়ে না বাড়তি কোন জমির। মূলত হাওড় ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ভাসমান পদ্ধতিটি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। বর্তমানে ভাসমান বেড স্থাপন করা হচ্ছে কচুরিপানা দিয়ে ধাপ বানিয়ে। ওই ধাপের ওপর লালশাক, পুঁইশাক, ডাঁটাশাক, গিমাকলমি, ঢেঁড়স, শিম, লতিরাজ কচু, লাউ, হলুদ প্রভৃতি সবজি চাষ করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় শাকসবজি ও মসলার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য স্থানভিত্তিক ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষে গবেষণা করা হবে। একই সঙ্গে এ পদ্ধতির চাষ সম্প্রসারণেও উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থায়ন করবে বারি (৩৬ কোটি) এবং ডিএই (২৭ কোটি)।