আত্রাইয়ে শুঁটকি পল্লীতে ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি

মৎস্যভা-ার হিসেবে খ্যাত উত্তর জনপদের স্থানগুলোর মধ্যে একটি নওগাঁর আত্রাই। এ বছর নদীর পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে জেলেদের জালে ধরা পড়তে শুরু করেছে দেশি প্রজাতির নানান মাছ। পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছ ধরা পড়াতে স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ীদের চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক বইছে। এখন শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আত্রাইয়ের শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। এলাকাজুড়ে এখন চলছে শুঁটকি তৈরি। আর এ শুঁটকি তৈরি করে এখন জীবিকা নির্বাহ করছে শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন আত্রাই থেকে শত শত মণ শুঁটকি মাছ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ শুরু হয়েছে।

এবার বন্যায় এলাকার শত শত চাষকৃত মাছের পুকুর ডুবে যাওয়ায় নদীতে দেশি মাছের বিচরণ অনেক বেড়ে গেছে। তাই জেলেরা নদীতে উৎসাহ নিয়েই মাছ ধরছেন। ধরাও পড়ছে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন রকম মাছ। আর এ মাছগুলো প্রতিদিন ভোর থেকে বিক্রি হচ্ছে আত্রাই আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন টোলমুক্ত ঐতিহ্যবাহী মাছ বাজার আড়তে। এলাকার ব্যবসায়ীরা দেশি মাছ বিশেষ করে পুঁটি, রাইখোর, চান্দা, শোল, টাকি, বোয়াল মাছ দিয়ে শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলা থেকে রেল, সড়ক ও নৌপথে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন শত শত মণ মাছ বাজারজাত করা হয়। রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের সৈয়দপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁসহ দেশের প্রায় ১৮ থেকে ২০টি জেলায় বাজারজাত হয় ঐতিহ্যবাহী খ্যাতিসম্পন্ন আত্রাইয়ের শুঁটকি মাছ। আর এ মাছের শুঁটকি তৈরি করে এখন জীবিকা নির্বাহ করছে আত্রাইয়ের শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া গ্রাম শুঁটকি তৈরিতে বিশেষভাবে খ্যাত। শুধু বর্ষা মৌসুমে শুঁটকি তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করা হতো। আর এ অর্থ দিয়ে তারা পরিবারের সারা বছরের ভরণপোষণ নিশ্চিত করত। কিন্তু গত বছর বাজার মন্দা থাকায় এসব ব্যবসায়ী হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। কাঁচা মাছের আমদানি কম, বাজারে মূল্য বেশি থাকায় শুঁটকির বাজারে নেমেছিল ধস। সব কিছু মিলিয়ে ব্যবসায়ীদের গত বছর লাভের পরিবর্তে গুনতে হয়েছিল লোকসান। বর্তমানে মাছের ব্যাপক আমদানি, মূল্য কম এবং শুঁটকির বাজার মূল্য বেশি থাকায় ব্যবসায়ীদের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দ। ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের শুঁটকি ব্যবসায়ী শ্রী রামপদ শীলের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, গত বছর প্রতি চালানেই আমাদের লোকসান গুনতে হয়েছিল। শুঁটকি তৈরির আসল টাকাই উঠে আসেনি। এ বছর কাঁচা মাছের চাহিদা বেশি, দাম কম থাকায় শুঁটকিতে লাভ ভালো হবে বলে আশা করছি। শুঁটকি ব্যবসায়ী জাহেদুল ইসলাম জানান, পরিবার-পরিজন নিয়ে শুঁটকি তৈরি করছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্রাইয়ের শুঁটকির চাহিদা আছে। তিন মণ মাছ শুকালে এক মণের মতো শুঁটকি তৈরি হয়। এটা খুব কষ্টের কাজ। তবে লাভ ভালো হলে সব কষ্ট লাঘব হবে।