মিরসরাইয়ে আখের বাম্পার ফলন

মিরসরাইয়ে আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। আর ভালো ফলনে দারুণ খুশি মিরসরাইয়ের আখচাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার পাশাপাশি রোগবালাই কম হওয়ায় প্রতিটি উপজেলায়ই ফলন ভালো হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় বর্তমানে ফসলটি আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। এতে দিন দিন মিরসরাইয়ের আখ চাষের পরিধি বাড়ছে।

আখ দেখতে অনেকটা মুলি বাঁশের মতো। প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাত লম্বা হয়। প্রতিটি আখের মূল্য ত্রিশ থেকে ৩০, ৬০ কিংবা ১০০ টাকা পর্যন্ত। দৈনিক এক বাজারে আখ বিক্রি হয়। ৮শ থেকে ১ হাজার পিস। কৃষকরা জমি থেকে আখ তুলে তা পরিষ্কার করে আখের আড়তে বিক্রি করে দেন। আবার অনেকে নিজে দাঁড়িয়ে খুচরা বিক্রি করেন। মিরসরাই উপজেলার কৃষকরা সাধারণত স্থানীয় বারইয়ারহাট বড় তাকিয়ায় অবস্থিত আখের আড়ত থেকে পাইকারি দামে শত হিসেবে আখ ক্রয় করে তা বিভিন্ন বাজারে দাঁড়িয়ে খুচরা বিক্রি করেন। উপজেলার নাহেরপুর, ঘরতাকিয়া, জোরারগঞ্জ, মস্তান নগর, খৈয়াছুরা, মিঠাছরা এবং বড়তাকিয়া এলাকায় আখের চাষ হয়। প্রতিদিন শান্তিরহাট, জোরারগঞ্জ, বারইয়ারহাট, মিটাছরা, মিরসরাই, বাড়তাকিয়া বাজারে দৈনিক এই আখ খুচরা বিক্রি করা হচ্ছে। এদিকে বিক্রেতারা জানান, এ বছর বৃষ্টি বেশি থাকায় তারা আখ তুলে বাজারে বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছেন। তবুও তারা বাজারে আখ বিক্রি করছেন। আর গরম বাড়লেই বিক্রিও বেশি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৫ হেক্টর জমি থেকে ১৮ হাজার টন আখ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। এর বিপরীতে চাষ হয়েছে ১৫ হেক্টর জমিতে। গত বছরও এখানে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। আবাদ হয়েছিল ১৩ হেক্টর জমিতে। জানা যায়, মিরসরাইয়ে ২০৮ জাতের আখের চাষ বেশি হয়। রোপণের পর প্রায় নয় মাস পরিচর্যা করতে হয়। ফলন ঘরে তুলতে অক্টোবর মাসের শেষ পর্যন্ত সময় লাগলেও অনেকেই সেপ্টেম্বর থেকে আখ কাটা শুরু করে বর্তমানে তা বাজারজাত করছেন।

কয়েকজন আখচাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার তারা ভালো মুনাফা অর্জন করেছেন। তারা বলছেন, অন্যবারের তুলনায় এ বছর আখের উৎপাদন ভালো হয়েছে, বাজারে দামও ভালো।

উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের আখচাষি দিদারুল আলম ও সুমন মিয়া বলেন, আখে সাধারণত লাল-পচা রোগ ছাড়া অন্য কোনো রোগ হয় না। এ বছর রোগটির তেমন উপদ্রব ছিল না, ফলনও ভালো হয়েছে। এখন শুধু কাটার অপেক্ষা।

একই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের নাহেরপুর গ্রামের আখচাষি নুর হোসেন বলেন, ১০ বছর ধরে আখ চাষ করছি। গত বছর এক একর জমিতে আখ চাষ করেছি। লাল-পচা রোগের আক্রমণে কিছু আখ নষ্ট হলেও শেষে ফলন ভালো হয়েছে। এ বছর দুই একর জমিতে আখ চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। অপর এক চাষি মো. এছাক বলেন, দুই একর জমিতে আখের আবাদ করতে খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। তবে দাম ভালো পাওয়ায় প্রায় ৮০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।

তবে চাষিরা অভিযোগ করে বলেন, কৃষি বিভাগের কোনো কর্মকর্তাই মাঠপর্যায়ে তেমন পরিদর্শনে আসেন না। তাই বিভিন্ন সময় রোগবালাই হলে প্রতিকারের জন্য চাষিদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এ ব্যাপারে কথা হলে উপজেলার সব গ্রামের আখচাষিদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এ উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া আখ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাই অন্যান্য বছরের তুলনায় আখ চাষের পরিমাণ বাড়ছে।’

তিনি আরো বলেন, গত পাঁচ বছরে প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। চাষিদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পারদর্শী করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে অধিক ফলন হওয়ার পাশাপাশি বাজার মূল্য ভালো হওয়ায় আগামীতে চাষ আরো বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

আখের উপকারিতা: পিপাসা লাগলে পানির কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। কিন্তু যদি গরমকালে সুস্থ থাকতে চান, তাহলে শুধু পানি খেলে চলবে না। সেই সঙ্গে খেতে হবে আখের রসও। কেননা এ সময় ঘামের সঙ্গে শরীরে উপস্থিত নানা খনিজ বিপুল পরিমাণে বেরিয়ে যায়, ফলে শরীর দুর্বল হতে শুরু করে।

আরো বিভিন্নভাবে আখের রস এই গরমকালে আমাদের সাহায্য করতে পারে যেমন- ১. শরীরে পানির মাত্রা স্বাভাবিক রাখে, ২. ইলেকট্রোলাইটসের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে, ৩. ক্লান্তি দূর করে, ৪. ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো করে, ৫. লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, ৬. হজম ক্ষমতা বাড়ায়, ৭. ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন রোধ করে, ৮. যে কোনো ধরনের সংক্রমণ কমায়। গরমকালে যদি সপ্তাহে তিনবার এক গ্লাস করে আখের রস খাওয়া যায় তো আর কোনো কথাই নেই। কারণ এই পানীয়তে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ, যা সংক্রমণের প্রকোপ কমাতে দারুণ কাজে দেয়।