মুক্তামনির হাত স্বাভাবিক সিঙ্গাপুর যে অপারেশন করতে ভয় পেয়েছে বাংলাদেশ সেখানে সফল

যেখানে মুক্তামনির হাতের ওজন ছিল ৯ কেজি। সেখান থেকে মাত্র দেড় কেজিতে এসেছে পৌঁছেছে। এরই মধ্যদিয়ে দেশের চিকিত্সা সেবা বিশ্বের দরবারে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল। একের পর এক সফল অপারেশন সম্পন্ন করে দেশের ডাক্তারা বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে নতুন করে পরিচিত করছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কেননা মুক্তামনির হাতের অপারেশন করাটা খুব সহজ ছিল না। যেখানে সিঙ্গাপুর অপারেশনটি করতে ভয় পেয়েছিল, বাংলাদেশ সেই অপারেশনে সফল হয়েছে। দেশের চিকিত্সকরা এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন। তারা সফল করতে সক্ষম হয়েছেন। স্ব্যাস্থমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ইত্তেফাককে বলেন, চিকিত্সা সেবায় বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। একের পর এক সফলতার উদাহরণ সৃষ্টি করছে দেশের চিকিত্সকরা।

তিনমাস আগে গত ১১ জুলাই প্রায় নয় কেজি ওজনের বাড়তি মাংসপিন্ডসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল মুক্তামনিকে। এরই মধ্যে কয়েক দফা অপারেশনে ‘হেমানজিওমা’ রোগে আক্রান্ত মুক্তামনির ডানহাতের বাড়তি মাংসপিন্ড অপসারণ করেন ডাক্তাররা। তার হাতে ৫ দফা অস্ত্রপচার করা হয়েছে। রক্তনালীতে টিউমার ছিল, অস্ত্রপাচার করে সেগুলো ফেলে দেয়া হয়। এরপর হাতের প্রথম অংশে স্কিন গ্রাফটিং করে ব্যান্ডেজ করা হয়। গতকাল রবিবার তার হাতের ব্যান্ডেজ আংশিক খুলে দেওয়া হয়েছে। আর প্রথমবারের মতো ভারমুক্ত হাতটি দেখে মুক্তামনির চোখেমুখে খেলেছে আনন্দের ঝিলিক। দুই সপ্তাহ পরে হাতের বাকি অংশে স্কিন গ্রাফটিং করা হবে জানান চিকিত্সকরা।

ঢামেক বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, আমরা সত্যিকারের সফল হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তামনির চিকিত্সার খরচ বহন করেছেন। বিদেশে এ ধরনের চিকিত্সার খরচ লাগতো কোটি টাকার উপরে।

মুক্তামনির পা থেকে চামড়া নিয়ে তার হাতে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রথম ধাপে প্রায় ৫০ শতাংশ চামড়া প্রতিস্থাপন করা হয়। আগামী দু’সপ্তাহ পড়ে বাকি অংশের অস্ত্রোপচার করা হবে বলে জানান তিনি।

বার্ন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম বলেন, মুক্তামনির হাতের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে মাত্র দেড় কেজি বেশি আছে। হাতের বাকি অংশ স্কিন গ্রাফটিং করার পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। অপারেশনে আমরা শতভাগ সফল হয়েছি। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্লাস্টিক সার্জারি চিকিত্সা বিশ্বেও দরবারে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল। উন্নত বিশ্বের চেয়ে এ ধরনের চিকিত্সায় আমরা কোন অংশে পিছিয়ে নেই।