সাড়ে ১১ কোটি টাকার সার-বীজ প্রণোদনা

বৃহত্তর রংপুরের ৫ জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত্ম ৯২ হাজার ৭৬৯ কৃষককে ১১ কোটি ৫৩ লাখ ৫২ হাজার ৯৪৮ টাকার সার ও বীজ প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগের মাধ্যমে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে প্রণোদনার সার বীজ বিতরণ করা হচ্ছে। আগামী বছরের ফেব্রম্নয়ারি মাস পর্যন্ত্ম তা অব্যাহত থাকবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ৫ জেলায় প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। এর মধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় ৬ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমি। উলেস্নখযোগ্য প্রধান ফসলের মধ্যে ছিল আমন ধান এবং স্বল্পমাত্রার বীজতলা।

সরকার দেশব্যাপী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত্ম কৃষকদের সহায়তার জন্য প্রণোদনার ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে রংপুর অঞ্চলে ৯২ হাজার ৭৬৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত্ম কৃষকের তালিকা করা হয়। তালিকা অনুযায়ী প্রত্যেককে ১ বিঘা জমির বিপরীতে বীজ ও সার দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রংপুরে তালিকাভুক্ত ১৭ হাজার ৪১৮ কৃষকের মধ্যে গম বীজ ৬ হাজার জন, ভুট্টা ৬ হাজার ৭শ’ জন, সরিষা ৩ হাজার জন, গ্রীষ্মকালীন মুগ ৭শ’ জন, মাষকালাই ১ হাজার জন ও বিটি বেগুন ১৮ জন।
গাইবান্ধায় ২১ হাজার ১৮০ জন তালিকাভুক্ত কৃষকের মধ্যে গম বীজ ৬ হাজার জন, ভুট্টা ৬ হাজার ৭৫০ জন, সরিষা ৫ হাজার জন, গ্রীষ্মকালীন মুগ ৭শ’ জন, মাষকালাই ২ হাজার ৭শ’ জন ও বিটি বেগুন ৩০ জন। কুড়িগ্রামে ২৪ হাজার ৬৯৯ জন তালিকাভুক্ত কৃষকের মধ্যে গম বীজ ৬ হাজার জন, ভুট্টা ৬ হাজার জন, সরিষা ৭ হাজার ৫শ’ জন, চীনা বাদাম ২২৫ জন, গ্রীষ্মকালীন তিল ৭৫০ জন। গ্রীষ্মকালীন মুগ ৭শ’ জন, মাষকালাই ৩ হাজার ৫শ’ জন ও বিটি বেগুন ২৪ জন।
লালমনিরহাটে ১৪ হাজার ৭২৪ জন তালিকাভুক্ত কৃষকের মধ্যে গম বীজ পাবেন ৪ হাজার ৫শ’ জন, ভুট্টা ৬ হাজার ৫শ’ জন, সরিষা ১ হাজার জন, গ্রীষ্মকালীন মুগ ৭শ’ জন, মাষকালাই ২ হাজার জন ও বিটি বেগুন ২৪ জন। নীলফামারীতে ১৪ হাজার ৭৪৮ জন তালিকাভুক্ত কৃষকের মধ্যে গম বীজ ৬ হাজার জন, ভুট্টা ৬ হাজার ৫শ’ জন, সরিষা ১ হাজার ৫শ’ জন, গ্রীষ্মকালীন মুগ ৭শ’ জন, ও বিটি বেগুন ৪৮ জন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক মো. মনিরম্নজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত্ম কৃষকদের ৮টি ফসল আবাদে সহায়তা হিসেবে এই বীজ ও সার দেয়া হচ্ছে।
ইতোমধ্যে কৃষকরা কয়েকটি ফসলের প্রণোদনা পেয়েছেন। তিনি বলেন, তালিকাভুক্ত কৃষককের মধ্যে একজন কৃষক শুধু ১টি ফসলের প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। প্রত্যেক কৃষক বীজের পাশাপাশি ডিএপি ও এমএপি সার পাচ্ছেন সাধারণ কৃষক। এবার ৫ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৭ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা হলেও ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৬ হেক্টরে আমন ধান চাষাবাদ হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।