বায়োচার ব্যবহারে অধিক ফলন

জমিতে বায়োচার ব্যবহারের সুফল পেয়েছেন নওগাঁর মান্দার কৃষক শহিদুল ইসলাম। চলতি মৌসুমে ১০ কাঠা জমিতে হলুদের চাষ করেছেন।

চাষের সময় জমিতে ব্যবহার করেছেন বায়োচার। তার হলুদের খেত এখন ঝলমল করছে। তরতাজা গাছ দেখে আনন্দে নেচে উঠছে তার মন। খেতের বর্তমান অবস্থায় তিনি বাম্পার ফলনের আশা করছেন।
কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, জমিতে বায়োচার ব্যবহার করায় রাসায়নিক সার তেমন ব্যবহার করতে হয়নি। চলতি মৌসুমে আলুর খেতেও বায়োচার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তার হলুদের খেতে বায়োচার প্রদর্শনীর একটি সাইনবোর্ডও লাগিয়েছে বেসরকারি সংস্থা সিসিডিবির বায়োচার প্রজেক্ট কর্তৃপক্ষ। কৃষক শহিদুল ইসলাম নওগাঁর মান্দা উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের চকশ্যামরা গ্রামের বাসিন্দা। উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের আরেক কৃষক লহির উদ্দিন মণ্ডল পাঁচ কাঠা জমিতে ধানের চাষ করেছেন। সাম্প্রতিক বন্যায় তার জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন তার জমিতে ধানের শীষ দেখা দিয়েছে। বায়োচার ব্যবহারে সুফল পেয়েছে চকশ্যামরা গ্রামের আরেক কৃষক আজিজুল ইসলাম। তিনি এক কাঠা জমিতে বেগুনের চাষ করেছিলেন। অর্ধেক জমিতে বায়োচার ও অবশিষ্ট জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন তিনি। বায়োচার ব্যবহূত অংশে বেগুনের ফলন ও সাইজ অন্য অংশের চেয়ে অনেকগুণ ভালো পেয়েছেন। সিসিডিবি মান্দার বায়োচার প্রজেক্ট ফ্যাসিলিটেটর জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, উপজেলার কয়েকটি গ্রামের ৩৭ জন নারী ‘আখা’ (কৃষিবান্ধব চুলা) ব্যবহার করছেন। এ চুলা থেকে উত্পন্ন বায়োচার জমিতে প্রয়োগ করেছেন ৫১ জন কৃষক। এদের মধ্যে সবজি চাষি রয়েছেন ১৭ জন। তিনি আরও বলেন, ২০১৬ সালে এ উপজেলায় ‘আখা’র মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে বায়োচার উৎপাদন শুরু করা হয়।

এ সময় ১০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা নিয়মিত আখা ব্যবহার করে রান্নার পাশাপাশি বায়োচার উৎপাদন করেন। তা বিভিন্ন ফসলে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে সুফল পেয়েছেন। তাদের এমন সফলতা দেখে প্রতিবেশীরাও আখা ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

আখা ব্যবহারকারী গৃহিণী সালমা বেগম ও সুমি খাতুনসহ কয়েকজন নারী জানান, বাড়ির উঠানে বায়োচার মিশিয়ে করলা, শিম, লাউয়ের গাছ লাগিয়ে তারা সুফল পেয়েছেন। এসব সবজির গুণগত মানও ভালো। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় লাগানো সবজির তুলনায় ফলন অনেক বেশি পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করেন তারা। প্রচলিত চুলায় বেশি লাকড়ির প্রয়োজন ও লাকড়ি পুড়ে ছাইয়ে পরিণত হয়। চুলায় লাকড়ি কম লাগে, ধোঁয়া হয় না ও সময় কম লাগে। প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষ্ণ কুমার সিংহ জানান, দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৪৬ জন, নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ৩৭ ও মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় ৩৭ জন নারী কৃষিবান্ধব চুলা ব্যবহার করছেন। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও কার্বন নিঃসরণ কমানোই এই প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্য। হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বায়োচার নিয়ে সিসিডিবি’র সঙ্গে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করছে। মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক জানান, আখা কৃষিবান্ধব চুলায় লাকড়ি ব্যবহার করে বায়োচার উৎপাদন করা হয়ে থাকে। এটি ব্যবহারে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও অনুজীবের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। মাটির জৈব গুণাগুণ বাড়িয়ে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করে।