মোবাইলের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেনকারী গ্রাহকের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়াল

পুঁজিবাজারে এখন অনেকেই মোবাইলে লেনদেন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ফলে দিন দিন মোবাইলের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেনকারী গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে দেড় বছরে মোবাইলের মাধ্যমে লেনদেনকারীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল ৯ অক্টোবর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোবাইলে লেনদেনকারী অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৩৮৯ জনে।

 

মোবাইলে লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয় কিনা তা জানতে চাইলে শেয়ার বিনিয়োগকারী হোসাইন চিশতি সিপলু বলেন, মোবাইলে শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সমস্যায় পড়িনি। বরং এর মাধ্যমে নিজের লেনদেন নিজেই করতে পারছি। ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তাদের কাছেও যেতে হচ্ছে না। ফলে নিজের ইচ্ছেমতো লেনদেন করা সম্ভব হচ্ছে। তাছাড়া আগে শেয়ার কেনা বা বিক্রির জন্য একবার লিমিট দিলে তা পরিবর্তন করতে আবারও কর্মকর্তাকে ফোন দিতে হতো। আর এখন মতো যতো বার ইচ্ছা লিমিট দেওয়াও যাচ্ছে আবার তোলাও যাচ্ছে। ফলে শেয়ার ব্যবসা করা সহজ হয়েছে। তাছাড়া মোবাইল অ্যাপ চালু হওয়ার আগে পোর্টফোলিও দেখার জন্য বিনিয়োগকারীদের ব্রোকারেজ হাউসে যেতে হতো। এখন যারা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করছেন, তারা যেকোনো স্থান থেকেই নিজেদের  পোর্টফোলিও দেখতে পারেন।

 

ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, মোবাইল অ্যাপ চালুর এক বছরের মধ্যে এর মাধ্যমে  লেনদেনকারীর সংখ্যা বাড়ে প্রায় সাতগুণ। বর্তমানে তা ১০ গুণে দাঁড়িয়েছে। এটি পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক। এখন বিনিয়োগকারীরা সব সময়ই মোবাইলের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন করতে পারছেন। ফলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। বাড়ছে লেনদেনও। তাই মোবাইলে লেনদেনের বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, বিনিয়োগকারীদের শেয়ার লেনদেন পদ্ধতি সহজ করার জন্য ২০১৬ সালের ৯ মার্চ দেশের প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসইতে সংযোজন করা মোবাইল অ্যাপ। ওই বছরের জুনেই তা দুই হাজার অতিক্রম করে। অক্টোবরে তা দ্বিগুণ হয়। ডিসেম্বরে মোবাইলে লেনদেন করা গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়ায় ছয় হাজারে। চলতি বছরের শুরুর দিকে এটি আরও জনপ্রিয়তা পায়। এখন দিন যতো যাচ্ছে পুঁজিবাজারের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বাড়ছে। ২০১৭-এর প্রথম চার মাসে গ্রাহকসংখ্যা বাড়ে প্রায় সাত হাজার। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন করে এমন গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৯৭৬ জনে।

 

ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, এ অ্যাপ ব্যবহার করা বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদও বটে। কারণ যেকোনো আর্থিক তথ্য দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছে যায়। এতে বিনিয়োগকারীদের হিসাবে শেয়ার কেনা বা বিক্রির তথ্য সঙ্গে সঙ্গেই জানতে পারেন বিনিয়োগকারী। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এ অ্যাপ ব্যবহারের আগ্রহ বাড়ছে।