তবু এগিয়ে যাচ্ছে সুলতানের স্বপ্ন

তার স্বপ্ন ছিল একটি আর্ট কলেজ প্রতিষ্ঠার। সৃজনশীলতার মাধ্যমে শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা এবং মানসিক বিকাশ সাধনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ছিল তার জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। শিশুদের ছবি আঁকার প্রতিষ্ঠান শিশুস্বর্গ ও যন্ত্রচালিত বড় নৌকা তৈরি করেন তিনি, যেখানে শিশুরা নৌকায় ঘুরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে গিয়ে ছবি আঁকবেঙ্ঘ আজ ১০ অক্টোবর বিশ্ববরেণ্য সেই চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী।

নড়াইল-ঢাকা সড়কের পশ্চিম মাছিমদিয়ায় শিল্পী সুলতান ১ একর ৩ শতক জায়গা ক্রয় করে শিশুদের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফুল ও ফলের গাছ, বসার জায়গা, পুকুর ও লালবাউল সম্প্রদায় নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তার মৃত্যুর ১৫ বছর পর নড়াইলের সুলতানভক্ত, জেলা প্রশাসন এবং ঢাকার বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ২০০৯ সালের ১০ আগস্ট শিল্পী সুলতানের এ জায়গাকে নির্বাচন করে ‘এসএম সুলতান বেঙ্গল চারুকলা মহাবিদ্যালয়’ গড়ে ওঠে। পরে মহাবিদ্যালয়ের জন্য বেঙ্গল ফাউন্ডেশন শিল্পীর জায়গার সঙ্গে লাগোয়া ৬২ শতক জমি ক্রয় করে। ২০০৯ সালে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে
এস এম সুলতান কমপ্লেক্সের মধ্যে অবস্থিত শিশুস্বর্গ ভবনে অস্থায়ীভাবে এস এম সুলতান বেঙ্গল চারুকলা মহাবিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয়। এ সময় সিদ্ধান্ত হয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এখানেই ক্লাস ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলবে। কিন্তু এত বছর পরও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভবন নির্মাণ হয়নি।

মহাবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য, এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ আ. হানিফ বলেন, ‘নিজস্ব ক্যাল্ফপাস, শিক্ষকস্বল্পতাসহ কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে এ সমস্যা খুব শিগগির কেটে যাবে। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগামী ডিসেম্বরে অস্থায়ী দুটি টিনশেড ভবন নির্মাণ শুরু হবে, দুই মাসের মধ্যে তা সল্ফপম্ন হবে এবং ২০১৮ সালের দিকে আর্ট কলেজের পূর্ণাঙ্গ ভবনের কাজ শুরু করা হবে। এরই মধ্যে এর নকশা এবং প্ল্যান নড়াইল পৌরসভা থেকে পাস হয়েছে।’

এস এম সুলতান বেঙ্গল চারুকলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ অশোক কুমার শীল জানান, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দুই বছর মেয়াদি প্রি-ডিগ্রি এবং তিন বছর মেয়াদি বিএফএ পাস কোর্স চালু হয়েছে। বর্তমানে সুলতান কমপ্লেক্সের মধ্যে শিশুস্বর্গ ভবনের তিনটি কক্ষে বিভিন্ন বর্ষের পর্যায়ক্রমে ক্লাস, প্রশাসনিকসহ প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম চলছে। শিক্ষকস্বল্পতার জন্য সভ্যতার ইতিহাস এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন বিষয়ে অতিথি শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে।’

মাটি ও মানুষের শিল্পী এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ১৯৮২ সালে রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘একুশে পদক’, ১৯৯৩ সালে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘স্বাধীনতা পদক’ লাভ করেন তিনি। এ ছাড়া লন্ডনের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’সহ দেশি-বিদেশি বহু সম্মানে ভূষিত হন তিনি। বরেণ্য এই শিল্পীর ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে জেলা প্রশাসন ও সুলতান ফাউন্ডেশন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মঙ্গলবার সকালে কোরআনখানি, সুলতান কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে শিল্পীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মাজার জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা।