তরুণ নির্মাতার বিশ্বজয়

প্রথমবারের মতো দেশের কোনো স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হলিউডের ‘গ্লোবাল ইউথ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে’ প্রদর্শিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটির নাম ‘আ লেটার টু গড’। পরিচালক ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনি-ভার্সিটির সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষার্থী সাদীকুর রহমান, পরিচালক হিসেবে যার নাম হেমন্ত সাদীক। ছবিটি শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস স্কুলে গ্লোবাল ইউথ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনের জন্য ছিল ‘অ্যাওয়ার্ড উইনিং’ তালিকায়।
পড়াশুনার পাশাপাশি এ তরুণ নির্মাতা নির্মাণ করেছেন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এ পর্যন্ত সাতটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন এ মেধাবী তরুণ। তবে সবচেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছেন ‘আ লেটার টু গড’ নির্মাণের পর। ইতোমধ্যে ছবিটি মরক্কোতে অনুষ্ঠিত অওরজাজাত ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হয়েছে এবং চীনে অনুষ্ঠিত থার্ড এশিয়া ইউথ মাইক্রো ফিল্ম এক্সিবিশনের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রদর্শিত হয়েছে। এ ছাড়া ফিলিপাইনের সিনেমাঙ্গা ইন্টারন্যাশ-নাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, মেক্সিকোর ফিফথ ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, গ্র্যান্ড বাহামায় অনুষ্ঠিত ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং মিশরের এএম ইজিপ্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। শুধু তাই নয়, আগামী ৭-১১ নভেম্বর নরওয়েতে অনুষ্ঠেয় রিঙ্গেরিক ইন্টারন্যাশনাল ইউথ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হবে ছবিটি। অপরদিকে আগামী ৯ নভেম্বর ইতালির সিত্তাদেল্লাতে অনুষ্ঠেয় জিয়ো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অ্যান্ড এক্সপোতে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি।
তরুণ পরিচালক হেমন্ত সাদীক বলেন, আমি যে গল্পগুলো বলতে চাই সেগুলো খুব সহজেই সিনেমার মাধ্যমে তুলে ধরতে চাই। কারণ সিনেমার মাধ্যমে একসাথে অনেক মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়। একটা সময় ছিল নাটক, সিনেমার কিছুই বুঝতাম না। তবে আবৃত্তি, সাধারণ জ্ঞান, রচনা লেখা ইত্যাদি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতাম। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে একদিন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখলাম ‘আমার দেখা প্রিয় চলচ্চিত্র’ শিরোনামে রচনা প্রতিযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উত্সব কমিটি। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ইচ্ছে হলো। কিন্তু আমি তো কোনো চলচ্চিত্র দেখিনি! ভাবনায় পড়ে যাই। কী করা যায়। হঠাত্ মনে পড়ল দীপু নাম্বার টু’র কথা। আর পুরনো বইয়ের দোকান থেকে কিনে ফেললাম বইটি এবং সেটা পড়েই লিখলাম একটি রচনা। রচনাটি জমা দেই। আমার সাথে অনেকেই রচনা লিখে জমা দেয়। কী সৌভাগ্য! সেই রচনার জন্যই ডাক পেলেন বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উত্সবে অংশ নেওয়ার। সেই উত্সবে যোগ দেওয়ার পর জীবন-জগত্ সবকিছু পাল্টে গেল আমার। সেই যে সিনেমার পোকা মাথায় ঢুকে গেল, আজ অব্দি বের হয়নি সেটা।
এ তরুণ পরিচালক আরো বলেন, যখন কোনো দেশ থেকে মেইল আসে, তখন মনটা খুশিতে ভরে যায়। কারণ জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থেকে যাত্রা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের হলিউড অব্দি পৌঁছাটা আনন্দের। কিন্তু এ জন্য দীর্ঘ ক্লান্তিকর এক সংগ্রামমুখর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে আমাকে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস স্কুলে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ইউথ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণের কথা থাকলেও উপস্থিত থাকতে পারিনি। দেশ থেকে একমাত্র আমিই প্রথম যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। তবে আগামী ৫ নভেম্বর যাচ্ছি নরওয়ে এবং ৮ নভেম্বর যাবো ইতালি। ওখানে চলচ্চিত্র বিষয়ক কর্মশালায় অংশগ্রহণ করব।
‘আ লেটার টু গড’-এর পরিচালক হেমন্ত সাদীক ইতোমধ্যে ১০ম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উত্সবে সেরা তরুণ নির্মাতার পুরস্কার অর্জন করেছেন। এ ছাড়া সিলেট চলচ্চিত্র উত্সবে সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে মারমা ভাষা ও বাংলা ভাষায় নির্মিত এ চলচ্চিত্রটি।