ঝিনাইদহে জনপ্রিয় হচ্ছে পার্চিং কমছে কীটনাশকের ব্যবহার

ঝিনাইদহে কৃষকদের মধ্যে ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকা দমনে সেক্স ফেরোমন ট্র্যাপ ও বিষ টোপের পাশাপাশি পার্চিং পদ্ধতি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এতে করে দীর্ঘমেয়াদে মাটি এবং প্রাণীর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার দিন দিন কমছে।

জানা যায়, ১৯৬৩ সালে দেশে ‘ইন্ডিন’ নামে এক প্রকার কীটনাশক ব্যবহার শুরু হয়। কৃষকরাও এটি লুফে নেন। বর্তমানে দেশে নামে-বেনামে তিন শতাধিক কীটনাশক বাজারজাতকরণের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ গত কয়েক বছরে দেড় শতাধিক কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। একই সঙ্গে কীটনাশকের ক্ষতিকর দিকগুলোর বিষয়ে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব কলাকৌশল ব্যবহারে উত্সাহ দেয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষি বিভাগ পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে।

এই পদ্ধতিতে ধানের জমিতে গাছের ডাল বা বাঁশের কঞ্চি অথবা ধঞ্চে গাছ রোপণ করা হয়। ধানের সঙ্গে গাছও বড় হয়। তখন এই গাছের ডালে কীটপতঙ্গভুক পাখি বসে। ফলে কোনো প্রকার খরচ ছাড়াই পোকা দমন হয়। কীটনাশকের ক্ষতি থেকেও বাঁচা যায়।

এ বিষয়ে কৃষিবিদ প্রফেসর আমিনুর রহমান বলেন, কৃষক জমিতে পার্চিং ব্যবহার করলে দুভাবে লাভবান হবেন। একটি অর্থ সাশ্রয় ও পরিবেশবান্ধবভাবে পোকামাকড় দমন, অপরটি হচ্ছে পার্চিং তৈরি করতে সাধারণত আফ্রিকান ধঞ্চে গাছ ব্যবহার করা হয়। এই গাছের দেহে এবং শিকড়ে থাকা ব্যাকটেরিয়া প্রকৃতি থেকে নাইট্রোজেন তৈরি করে। ফলে জমিতে নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া সারের ব্যবহার কমিয়ে আনা যায়।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর গ্রামের কৃষক মঞ্জুরুল আলম জানান, স্থানীয় কৃষি অফিসারের পরামর্শে আমন ধানের জমিতে চারা রোপণের পরপরই ধঞ্চে লাগিয়েছেন। মাঝে মাঝে গাছের ডাল পুঁতে পার্চিং তৈরি করে সফলভাবে পোকা দমন করতে পেরেছেন। এখন কীটনাশক ব্যবহার না করলেও চলে বলে জানান তিনি। একই গ্রামের কৃষক আমির হোসেনও একইভাবে সফল হয়েছেন।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, একই জমিতে উপর্যুপরি রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির বৈশিষ্ট্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে মাটির অম্লতা নষ্ট হচ্ছে, পানি ধারণক্ষমতা কমছে এবং অনুজৈবিক কার্যাবলি ব্যাহত হচ্ছে। এতে মাটির উত্পাদন ক্ষমতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। সে কারণে জৈব ও প্রাণিজ সার ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া বন্যা ও খরা সহনশীল জাতের বীজ ব্যবহার, লাইন লগো পদ্ধতি, কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে পার্চিংয়ের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে, যেখানে কৃষক সম্পূর্ণ বিনা খরচে ক্ষতিকর পোকা দমন করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তাই এই পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকরা দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।