আধুনিক হচ্ছে বিটিসিএলের নেটওয়ার্ক অবকাঠামো

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির পুরনো এক্সচেঞ্জগুলোর যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন করা হবে। কপার ট্রান্সমিশন লাইনের পরিবর্তে ২ হাজার ৩৬৭ কিলোমিটারজুড়ে বসানো হবে ফাইবার অপটিক ক্যাবল। এ লক্ষ্যে ২ হাজার ৫৭৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় ধরে একটি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন সরকার ১ হাজার ৮১৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা ঋণ দেবে।
মঙ্গলবার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ডিজিটাল সংযোগের জন্য টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন শীর্ষক প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিটিসিএল অতিরিক্ত ১৬ লাখ ইন্টারনেট প্রটোকল (আইপি) ফোনের সংযোগ দিতে পারবে। নির্ভরযোগ্য আধুনিট টেলিকমিউনিকেশন সুবিধা গড়ে তোলার পাশাপাশি টেলিফোন ব্যবহারের হার বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেয়া হচ্ছে বলে দাবি করছে পরিকল্পনা কমিশন। জনসাধারণকে কম মূল্যে প্রযুক্তিসেবা দেয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রকল্পটির প্রস্তাব পাঠিয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। একনেকের অনুমোদন পেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বিটিসিএল। ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হচ্ছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুরনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিটিসিএল বর্তমানে ল্যান্ড টেলিফোনসেবা দিয়ে আসছে। এসব লাইনে ভয়েস কল (কথোপকথন) ছাড়া অন্য কোনো সেবা দেয়া যাচ্ছে না। সময়ের ব্যবধানে ইন্টারনেট, ডাটা ও ভিডিও আদান-প্রদানের চাহিদা বাড়ছে। এ চাহিদা মেটাতে বিটিসিএল দেশব্যাপী নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন করতে চাইছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য এনজিএন নেটওয়ার্ক (এনটিএন) শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। ১ হাজার ৮৬১ কোটি ১৫ লাখ টাকার প্রকল্পটিতে চীন সরকার ১ হাজার ৪৫৩ কোটি ২১ লাখ টাকা ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য ছিল। নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলেও চীন সরকার ঋণ চুক্তি না করায় প্রকল্পটি বাতিল করা হয়। পরবর্তী সময় চীন সরকার অর্থায়নে রাজি হওয়ায় নতুন নামে বাড়তি ব্যয়ে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হচ্ছে।
সময়মতো কাজ শুরু না হওয়ায় প্রকল্পটির ব্যয় ৭১২ কোটি ২৫ লাখ টাকা বেড়েছে বলে পরিকল্পনা কমিশনের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। বাড়তি ব্যয়ের ৩৪৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা দেয়া হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। অবশিষ্ট ৩৬৪ কোটি ৭ লাখ টাকা বাড়তি সহায়তা হিসেবে দেবে চীন। এ বিষয়ে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, আমদানি কর ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ১৩৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা। পূর্ত নির্মাণ কাজে ব্যয় বাড়বে ৭৭ কোটি ৬ লাখ টাকা। তাছাড়া মূল প্রকল্পে ৭ লাখ নতুন সংযোগের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও এবারের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সক্ষমতা ১৬ লাখে উন্নীত হবে। ১ হাজার ৪৫২ কিলোমিটারের পরিবর্তে ফাইবার অপটিক লাইন বসবে ২ হাজার ৩৬৭ কিলোমিটারজুড়ে।
ইআরডি সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নমনীয় শর্তে চীন থেকে ঋণ পাওয়া যাবে। ঋণের শর্ত হিসেবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি চীন থেকে আমদানি করতে হবে। চীন সরকারের নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান থেকেই পণ্য, সংশ্লিষ্ট সেবা, কার্য ও ভৌতসেবা কিনতে হবে। প্রচলিত প্রক্রিয়ায় দরপত্র না ডেকে এসব পণ্য ও সেবা চীন থেকে সরাসরি কেনার প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মতামত দিতে গিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশব্যাপী পুরানো টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন করবে বিটিসিএল। এতে ভয়েস কলের পাশাপাশি ইন্টারনেট ও ভিডিও আদান-প্রদানের সুযোগ বাড়বে। ফলে জনসাধারণ কম দামে তথ্যপ্রযুক্তিসেবা পাবে। এরই মাধ্যমে ই-গভর্নেন্স, ই-কমার্স, ই-এডুকেশন, ই-হেলথ, ই-কৃষি ও অন্যান্য সুযোগ বাড়বে। এসব বিষয় বিবেচনায় প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের সুপারিশ করেন তিনি।