সূচক ও লেনদেন বেড়েছে পুঁজিবাজারে

দ্বিতীয় দিনের মতো ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে পুঁজিবাজারে। বুধবার দেশের দুই পুঁজিবাজারেই সূচকের উন্নতি ঘটে। বেড়েছে বাজারগুলোর লেনদেনও। এর আগে টানা মন্দার পর মঙ্গলবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে পুঁজিবাজারগুলো। গতকাল দিনের শুরুতে কিছুটা বিক্রয়চাপ থাকলেও পরে মূল্যবৃদ্ধির ধারায় ফিরে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকলে উভয় বাজারেই মূল্যবৃদ্ধি ঘটে বেশির ভাগ কোম্পানির।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ২৬ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ৬ হাজার ১৩৩ দশমিক ২৩ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি বুধবার দিনশেষে পৌঁছে ৬ হাজার ১৫৯ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে। একই সময় ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৮ দশমিক ৭৮ ও ২ দশমিক ৬০ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ১২৩ দশমিক ২২ ও ৭৩ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট। সিএসই-৫০ ও শরিয়াহ সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৮ দশমিক ৩০ ও ৬ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট।
সূচকের পাশাপাশি উন্নতি ঘটে দুই পুঁজিবাজারের লেনদেনেও। ঢাকা শেয়ারবাজার গতকাল ৮৮৪ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ৮৩ কোটি টাকা বেশি। মঙ্গলবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৮০১ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে ৩৯ কোটি টাকা থেকে ৪৬ কোটিতে পৌঁছে লেনদেন।
এ দিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকিং খাতের কোম্পানি সিটি ব্যাংকের অংশীদার হলো বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনস (আইএফসি)। সম্প্রতি সিটি ব্যাংক আইএফসির নামে সাড়ে ৪ কোটি নতুন শেয়ার ইস্যু করেছে। আর আইএফসির প থেকেও এই শেয়ারের মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে।
এ উপলে আয়োজিত একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইন আইএফসির ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন গ্রুপের রিজিওনাল হেড, এশিয়া ও প্যাসিফিক ভিত্তরিও ডি বেল্লোর হাতে একটি ক্রেস্ট তুলে দেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, সিটি ব্যাংক আইএফসির কাছে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ১৮ টাকা ৩০ পয়সা প্রিমিয়ামসহ ২৮ টাকা ৩০ পয়সা দরে ৪ কোটি ৬০ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩টি শেয়ার ইস্যু করেছে। এজন্য আইএফসিকে গুনতে হয়েছে ১৩০ কোটি ৪৪ লাখ ৭৮ হাজার ১১৩ টাকা।
নতুন এ শেয়ার ইস্যুর ফলে ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২১ কোটি ৮৯ লাখ ২৬ হাজার ৬৪০ টাকায়। আগে এ মূলধন ছিল ৮৭৫ কোটি ৭৯ লাখ ৮০ হাজার ৩১০ টাকা। এ ছাড়া শেয়ার প্রিমিয়ামের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫০ কোটি ৪৩ লাখ ৮৮ হাজার ৭৯৬ টাকা। এর আগে যা ছিল ৬৬ কোটি ৮ লাখ ৫৭ হাজার ১৩ টাকা।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২ জুন সিটি ব্যাংককে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর অনুমতি দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ব্যাংকটি নতুন শেয়ার ইস্যু করে ৪৬ কোটি ৯ লাখ টাকা মূলধন বাড়ানোর অনুমতি পায়, যা আইএফসির নামে ইস্যু হবে। এ ক্ষেত্রে আইএফসির শর্ত ছিল সিটি ব্যাংকের বোর্ডে আইএফসির একজন প্রতিনিধি রাখতে হবে। কিন্তু শুরুর দিকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকে।
পরে বাংলাদেশ ব্যাংক এ শর্ত মেনে নিলে বিষয়টি সুরাহা হয়। এর ফলে এখন থেকে সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে আইএফসির একজন প্রতিনিধি থাকবে। ব্যাংকের আশা, আইএফসির পরামর্শ ও সহযোগিতায় এটি একটি বিশ্বমানের ব্যাংকে পরিণত হবে।
গতকাল দুই পুঁজিবাজারের বেশির ভাগ খাতে ছিল মিশ্র আচরণ। ব্যাংক, প্রকৌশল, খাদ্য, সিমেন্ট, টেক্সটাইল, মিউচুয়াল ফান্ড ও সিরামিক খাতে এ আচরণ দেখা যায়। অপর দিকে বীমা, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও চামড়া খাতে দাম বাড়ে বেশির ভাগ কোম্পানির। তবে গত দুই দিন ব্যাংকিং খাতের একচ্ছত্র প্রাধান্য থেকে বেরিয়ে আসে পুঁজিবাজারগুলো, যা বাজারের বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশের জন্য ছিল স্বস্তির। কারণ সম্প্রতি ব্যাংক ছাড়া বাজারের অন্য খাতগুলোতে ব্যাপক দরপতনের ঘটনা ঘটে।
ঢাকায় গতকাল লেনদেন হওয়া ৩৩২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৮০টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ১১৫টি। অপরিবর্তিত ছিল ৩৭টির দর। অপর দিকে চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া ২৪৩টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ১২৭টির দাম বাড়ে, ৮৩টির কমে এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে লঙ্কা-বাংলা ফিন্যান্স। ৫৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৮৪ লাখ ৫৪ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। ৪০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লেনদেন করে এক্সিম ব্যাংক উঠে আসে দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে সিটি ব্যাংক, আমরা নেটওয়ার্ক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ও বিবিএস ক্যাবলস।