ভাসমান বেডে সবজি চাষে সুদিন ফিরেছে কৃষকের

ভাসমান বেডে সবজি চাষ করে দিনবদল করেছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার শোভান গ্রামের মোঃ শহিদ তালুকদার। নদীতে ভেসে থাকা কচুরিপানা দিয়ে ভাসমান বেড তৈরি করে ৩০ বছর আগে সবজি চাষ শুরু করেছিলেন তিনি। এখন অর্ধ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। তার সন্তানরা উচ্চশিক্ষা অর্জন করছেন। ভাসমান বেডে শহিদের সবজি চাষ এখন পুরো জেলার মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ভরা মৌসুমে চাঁদপুর জেলা ছাড়াও আশপাশের অনেক জেলা থেকে কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষাণার্থী ও চাষিরা ভাসমান বেডের এ সবজি চাষ পরিদর্শন করতে আসেন।

জানা গেছে, ৩০ বছর আগে বরিশাল থেকে জনৈক চারা বিক্রেতা ভাসমান বেডে একটি চারা নিয়ে শোভন গ্রামে আসেন। ওই চারাটি দেখতে গিয়ে শহিদ নষ্ট করে ফেলেন। তাকে দিতে হয় অর্থদ-। আর এ কারণে শহিদের জেদ চাপে ও আগ্রহ সৃষ্টি হয়Ñ নিজের এলাকাতেই তিনি ভাসমান বেড তৈরি করে সবজির আবাদ করবেন। শোভন গ্রামের পাশের ডাকাতিয়া নদীর তীরে শুরু করেন ভাসমান বেড তৈরির কাজ। কচুরিপানা দিয়ে তৈরি এসব বেডে সবজি চাষ করে পান সফলতা। পরবর্তীকালে কচুরিপানার অংশ জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করেও বাড়তি সুবিধা ভোগ করছেন।

শহিদ জানান, ভাসমান বেডে লাউ, কুমড়া, লালশাকসহ ১৫ থেকে ১৬ জাতের সবজি চাষ করা সম্ভব। প্রতি বছর এপ্রিলে শুরু হয় এই বেড তৈরির কাজ। তিনি বলেন, ‘আমি এ বছর ৫০টি ভাসমান বেড তৈরি করেছি। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। এ থেকে আমি প্রায় ৬ লাখ টাকা আয় করতে পারব বলে আশা করছি।’ ৩০ বছরে ভাসমান বেডে সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি। আর সবজির আয় দিয়ে তার দুই ছেলে ও এক মেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। এক ছেলে অনার্স ও এক ছেলে একাদশ শ্রেণীতে পড়ছেন। আর একমাত্র মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী। তার এ সফলতা দেখে আশপাশের মানুষের মাঝে ভাসমান বেডে সবজি চাষের আগ্রহ বাড়ছে।
শোভন গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম তালুকদার বলেন, এক শতাংশ পরিমাণ ধাপ তৈরি করতে প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ হয়। আর আয় হয় প্রায় ৮ হাজার টাকা। খরচ বাদে প্রতি শতক বেডে থেকে লাভ থাকে ৪ হাজার টাকা। ফিরোজপুর গ্রামের কৃষক শামিম জানান, পানিতে ভাসমান কচুরিপানা দিয়ে বেড তৈরি করে সবজির আবাদ হওয়ায় কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। ফলে সবজির উৎপাদন খরচ অনেক কম হয়। এ সবজি থাকে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত ও নিরাপদ।
এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহছান হাবিব বলেন, প্রতি বছরই ফরিদগঞ্জে ভাসমান বেডে সবজির আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে কৃষকের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা কচুরিপানা দিয়ে ভাসমান বেড তৈরি করে সবজি চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন বলে জানান তিনি।