দৃশ্যমান হলো স্বপ্নের সেতু

মহাকাঠামোর (সুপার স্ট্রাকচার) দুটি খুঁটির ওপর ১৫০ মিটার দীর্ঘ ও ৩ হাজার টনেরও বেশি ওজনের একটি স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে গতকাল সকালে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে দেশবাসীর বহুল আকাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু। জাজিরা প্রান্তের ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটির ওপর বসিয়ে দেওয়া হয়েছে এই স্প্যান।

রবিবার ‘তিয়ান ই হাউ’ নামক জাহাজে বসানো ৪ হাজার টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ক্রেন ৬ কিলোমিটার দূরে মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে বহন করে আনতে থাকে ওই স্প্যান। ২৩ নম্বর খুঁটির কাছে যাত্রাবিরতি করে রাতে। সোমবার সকালে আবার যাত্রা শুরু। শুক্রবার দুপুর ২টায় পৌঁছে যায় যথাস্থানে। গতকাল সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে সকাল ৮টায় স্প্যান বসানো শুরু হয় এবং ১০টার মধ্যে স্প্যান বসানো হয়ে যায়। বহুলোক দৃশ্যটি দেখার জন্য জড় হয়। দূর থেকেই দেখতে হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি। স্প্যান বসানোর সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি (মুন্সীগঞ্জ-২), সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ারুল ইসলাম, সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম, পদ্মা সেতুর অ্যাপ্রোচ রোড প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়ক মেজর জেনারেল আবু সাইদ মোহাম্মদ মাসুদ। স্প্যান বসানো দেখে এসে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জাজিরা জেটিতে নেমে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে আকাশের কালো মেঘ কেটে দৃশমান হলো পদ্মা সেতু। বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণের একক কৃতিত্ব আজকের সমসাময়িক বিশ্বের বিপন্ন মানবতার বাতিঘর, দেশরত্ন, সফল রাষ্ট্রনায়ক জননেত্রী শেখ হাসিনার। তার দৃঢ় মনোভাব, সাহসী পদক্ষেপ ও একক প্রচেষ্টার ফসল এই সেতু। অনেকে মনে করেছিলেন এই সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন কিছুতেই সম্ভব নয়। তাদের সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে নিপুণ ও দক্ষ টিমওয়ার্ক সব বাধা উপেক্ষা করে সেতুর কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। আজকের এই মাহেন্দ্রক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিনি অসুস্থতার কারণে বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকায় এখানে আসতে পারেননি। ’ সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে এসে শিগগিরই এখানে আনুষ্ঠানিকতা করবেন। ’ মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে স্প্যান বসানোর চিন্তাভাবনা তাদের ছিল। এ বিষয়ে টেলিফোনে আলাপ করলে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন সেতুর কাজ এক মুহূর্তের জন্য বন্ধ রাখা চলবে না। তাই তার নির্দেশ মেনেই আজ স্প্যান বসানো হলো। মন্ত্রী বলেন, ‘যথাসময়েই পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। এখন পর্যায়ক্রমে বাকি স্প্যানগুলোও খুঁটির ওপর বসানো হবে। ’ তিনি জানান, মূল পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৪৯ শতাংশ, নদীশাসনের কাজ হয়েছে ৩৪ শতাংশ, মাওয়া প্রান্তে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ হয়েছে ১০০ শতাংশ, জাজিরা প্রান্তে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ হয়েছে ৯৮ শতাংশ এবং সার্ভিস এরিয়া-২-এর কাজ হয়েছে ১০০ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, প্রথম স্প্যানটি স্থাপনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্যান্য স্প্যানও ওঠানো শুরু হবে। এখন ৩৭ থেকে ৪২ নম্বর পর্যন্ত ৬টি খুঁটি সম্পন্ন হওয়ার পর্যায়ে। শিগগিরই শেষ হচ্ছে ৩৯ ও ৪০ নম্বর খুঁটির কাজ। ৩৮ নম্বর খুঁটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে এ দুই খুঁটি ধরে আরও ২টি স্প্যান বসবে। স্প্যানের মাঝবরাবর নিচের লেনে চলবে ট্রেন। ওপরে কংক্রিটের চার লেনের সড়কে চলবে গাড়ি। তাই এই স্প্যানের ওপরে রাস্তা ও নিচে ট্রেনলাইন স্থাপন করা হবে।