গাছে মাল্টা, মনে নতুন স্বপ্ন

মাহমুদুল হাসান মুকুল একজন পেশাদার কৃষক। বাড়ি ঠাকুরগাঁয়ের রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ ইউপির করনাইট গ্রামে। কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। শখের বসেই তিনি তার বাসায় লাগিয়েছিলেন কমলা লেবুর গাছ। কিন্তু গাছ পরিচর্যায় অভিজ্ঞতা না থাকায় সফলতা আসেনি। এরপর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জয়দেবের পরামর্শে ৪০ শতকের জমির ওপর মাল্টা ও কমলা লেবুসহ শতাধিক গাছ রোপণ করেন। আর এক বছরেই পান সফলতা। গাছে গাছে ধরেছে মাল্টা। আর এতেই তিনি নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন।

মুকুল জানান, ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জয়দেব তাকে সরকারি অর্থায়নে মাল্টা চাষের জন্য প্রস্তাব করেন। এ প্রস্তাবে তিনি আকাশ থেকে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি রাজি হয়ে ৪০ শতকের জমির ওপর মাল্টা ও কমলা লেবুসহ শতাধিক গাছ রোপণের প্রস্তুতি নেন এবং এর ওপর ভিত্তি করে সরকারিভাবে কৃষি অফিসের কাছে গাছ পরিচর্যার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ওই বছর অক্টোবর মাসে গাছ রোপণ করেন। রোপণের মাত্র ১ বছর ১১ মাস পরই গাছে ফল আসে। এ সফলতায় আলোচনায় আসেন মাহমুদুল। সরেজমিন দেখা যায়, মুকুলের বাগানের গাছে গাছে মাল্টা ধরেছে। কোনোটি পেকে হলুদ হয়েছে, কোনোটি সবুজ। এ দৃশ্য অপরূপ লাগছিল। মাল্টা চাষি মুকুল বলেন, অক্লান্ত পরিশ্রম আর কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় মাল্টা চাষে সফল হয়েছি। আমার ৪০ শতক জমির প্রদর্শনীতে মাল্টার ৬৫টি গাছ, কমলা লেবুর ৫টি গাছ, বাতাবি লেবুর ১০টি গাছ, কলম্ব লেবুর ৫টি গাছসহ শতাধিক গাছ রয়েছে। অনেক আগেই লেবু গাছে ফলন ধরেছে। সাম্প্রতিক কালে মাল্টা ফল আসা শুরু করেছে। এরই মধ্যে মাল্টা পেকেছে, খেতেও খুব সুস্বাদু। তিনি আরও জানান, তার এ সফলতা দেখে এখন অনেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন মাল্টা চাষ করার জন্য।