বজ্রপাত ঠেকাতে তালবীজ রোপণ

বজ্রপাত থেকে মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নেত্রকোনার ১০টি উপজেলার বিভিন্ন সড়কে লক্ষাধিক তালবীজ রোপণের বিষয়টিকে আমরা স্বাগত জানাই। নিঃসন্দেহে এটি খুবই ভালো একটি উদ্যোগ।

বুধবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ও নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত মঙ্গলবার জেলার ১০টি উপজেলার ৩০৫টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রায় ৫৫৮ কিলোমিটার এলাকায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩২টি তালবীজ রোপণ করা হয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

আমাদের পরিবেশ সুরক্ষায় গাছের অবদান অপরিসীম। যে এলাকায় গাছ থাকে না, সে এলাকা রুক্ষ মরুভূমিতে পরিণত হয়। জীববৈচিত্র্যের অস্তিত্ব রক্ষায় গাছের ভূমিকা অতুলনীয়। প্রায় সব গাছেই রয়েছে মানুষের বেঁচে থাকার উপাদান। আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় তালগাছের রয়েছে অপরিসীম সক্ষমতা। এর পাতা বাতাসের গতিবেগ কমিয়ে দেয়। খুব উঁচু হয় বলে বজ্রপাত প্রতিহত করে। এ ছাড়া তালগাছ সব ধরনের মাটিতে জন্মায়। কোনো রকম পরিচর্যা ছাড়াই এ গাছ নিজস্ব শক্তিতে সোজা ও ওপরের দিকে লম্বা হয়ে ওঠে। রোগবালাইয়ের আক্রমণ তেমন চোখে পড়ে না। তালগাছের তলায় অন্য ফসলও আবাদ করা যায়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গত বছরের মে মাসে বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে। বজ্রপাতে প্রতিবছর মানুষের প্রাণহানি হলেও আগে সরকারি নথিতে বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে গণ্য করা হয়নি। অথচ বিশ্বে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয় বাংলাদেশে। সারা পৃথিবীতে যত মানুষ বজ্রপাতে মারা যায়, তার এক-চতুর্থাংশ মারা যায় এ দেশে।

নেত্রকোনা জেলা ছাড়াও দেশের আরও কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যে তালবীজ রোপণ করা হয়েছে। আরও কয়েকটি জেলায় রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই দেশের সব জেলাতেই তালবীজ রোপণ করা হোক। বজ্রপাতের মতো দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পাক মানব ও প্রাণিকুল।
আরও সংবাদ
বিষয়:
সম্পাদকীয়:

মন্তব্য
মন্তব্য করতে লগইন