পরিবর্তন আসছে পদ্মা সেতুর ১৪ পিয়ারের নকশায়

পরিবর্তন আসছে পদ্মা সেতুর ১৪ পিয়ারের নকশায়পরিবর্তন আসছে পদ্মা সেতুর ১৪ পিয়ারের নকশায়
পদ্মা সেতুর মূল নকশায় নদীর তলদেশের ৯০-১২০ মিটার পর্যন্ত পাইল বসানোর কথা ছিল। বলা হয়েছিল, ছয়টি পাইল মিলে তৈরি হবে একটি পিয়ার। তবে ১৪টি পিয়ারে এ নকশা আর থাকছে না। মাটি পরীক্ষায় এসব পিয়ারের স্থানে নদীর তলদেশের ১১৫-১২০ মিটার গভীরে কাদার স্তর পাওয়ায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে নকশায়। প্রকল্পের প্যানেল অব এক্সপার্টের সদস্যরা বলছেন, নতুন নকশায় পাইলের গভীরতা ১০ মিটার পর্যন্ত কমানো হতে পারে। পাশাপাশি এই ১৪টি পিয়ারে ছয়টির বদলে সাতটি পাইল বসানোর চিন্তাভাবনা চলছে।
সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মোট ৪২টি পিয়ারে গড়ে উঠবে পদ্মা সেতু। এর মধ্যে নদীতে ৪২টি ও দুই পাড়ে দুটি পিয়ার থাকবে। দুটি পিয়ারের কাজ পুরোপুরি শেষ। কয়েক দিনের মধ্যেই পিয়ার দুটির ওপর স্টিলের স্প্যান বসানো হলেই দৃশ্যমান হয়ে উঠবে পদ্মা সেতু।
পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, মাটি পরীক্ষার সময় ১৪টি পিয়ারের পাইলিংয়ের ১১৫-১২০ মিটার গভীরতায় কাদার স্তর পাওয়া যায়। এ কারণে মাওয়া প্রান্তের ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ও জাজিরা প্রান্তের ২৬, ২৭, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২ ও ৩৫ নম্বর পিয়ারের কাজ বন্ধ রাখা হয়। চলতি বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা এসে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নতুন নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু করেন।
পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্যানেল অব এক্সপার্ট টিম সূত্রে জানা গেছে, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা নতুন নকশা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এ প্রতিবেদনের আলোকেই ১৪টি পিয়ারের নকশায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
জানতে চাইলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্যানেল অব এক্সপার্টের সভাপতি অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, পদ্মা নদীর তলদেশের বিভিন্ন স্থানের মাটিতে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। এ কারণে ১৪টি পিয়ারের নকশায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হতে পারে। মূল নকশা অনুযায়ী, প্রতিটি পিয়ারে ছয়টি পাইল হওয়ার কথা। আমরা এসব পিয়ারে পাইলের সংখ্যা একটা বাড়িয়ে দেয়ার চিন্তাভাবনা করছি।
১২০ মিটার গভীর পর্যন্ত কাদার স্তর থাকায় পাইলের গভীরতাও কমিয়ে আনার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানান অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী। তিনি বলেন, স্থানভেদে গভীরতা সর্বোচ্চ ১০ মিটার পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। শিগগিরই পরিবর্তিত নকশা চূড়ান্ত হবে।
নকশায় জটিলতা দেখা দেয়ার পর প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলেছিলেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১৪টি পিয়ারের নকশা চূড়ান্ত হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, মাস তো এখনো শেষ হয়নি। আশা করছি, শিগগরিই নকশাটি চূড়ান্ত করে ফেলতে পারব।
নকশা জটিলতায় থাকা ১৪টি পিয়ার বাদে বাকি পিয়ারগুলোর কাজ চলছে পুরোদমে। গতকাল সরেজমিন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হ্যামার দিয়ে চলছে পাইলিংয়ের কাজ। এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিয়ার নির্মাণ। পিয়ার দুটির কাছে রাখা হয়েছে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ধূসর রঙের স্টিলের স্প্যান। এটি স্থাপিত হবে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিয়ারের ওপর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী (ব্রিজ) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই স্প্যানটি ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিয়ারের ওপর বসানো হবে। বর্তমানে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। স্প্যানটি বসালেই দৃশ্যমান হয়ে উঠবে পদ্মা সেতু।
মূল সেতু ও নদী শাসনের কাজ তদারক করছে কোরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে নামের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। আর মূল কাঠামো নির্মাণের কাজ করছেন চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা। তাদের সহায়তা করছেন বিপুল সংখ্যক দেশী শ্রমিক। সেতুর সার্বিক কাজ তদারক করছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান ও কলম্বিয়ার সেতু বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ প্যানেল, যার নেতৃত্বে রয়েছেন অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী।
১২০ মিটার গভীরে কাদার স্তর পাওয়া ১৪টি পিয়ারের নতুন নকশা সম্পর্কে জানতে চাইলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, নতুন নকশার সব কাজ শেষ। কয়েক দিনের মধ্যেই তা চূড়ান্ত করা হবে।
নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা নির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করছি। ২৪ ঘণ্টা ধরেই সেতুর কাজ চলছে। কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও আমি মনে করি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্মাণ শেষ করা সম্ভব হবে। সে অনুযায়ী আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।