রংপুরে নীল চাষে ভাগ্য বদল

নীল চাষিরা জানান, এ বছর নীল চাষে অনেক লাভবান হয়েছেন। অথচ প্রথম দিকে নীল চাষে ততটা আগ্রহীও ছিলেন না এবং চাষ থেকে তেমন লাভবানও হতে পারতেন না। ফলে তাদের সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। ২০০৮ সালের পর থেকেই নীল চাষে অধিক আগ্রহী হতে থাকেন এবং এলাকায় ধীরে ধীরে নীল চাষির সংখ্যাও বাড়তে থাকে। একটি এনজিও’র মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে ‘মালগাছ’ মনে করে তারা এতদিন যা চাষ করতেন তা আসলে ‘মালগাছ’ নয় ‘নীল গাছ’। যার পাতা দিয়ে তৈরি হয় মূল্যবান নীল এবং গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহূত হয়। রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর হরকলি ঠাকুরপাড়া গ্রামের কৃষক ও অসহায় স্বামী পরিত্যক্ত বিধবা এবং প্রতিবন্ধী নারীরা নীল চাষের মাধ্যমে নিজেরা যেমন বেঁচে থাকার উপায় খুঁজে পেয়েছেন তেমনি তাদের পরিবারের জন্য দু মুঠো ভাতসহ সন্তানদের লেখা-পড়ার খরচ যোগাতে পারছেন। এমনকি তাদের নিত্যপ্রয়োজন মেটানোর পরও তারা সঞ্চয় করতে পারছেন এবং ঈদ, পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উত্সব উদ্যাপনের সক্ষমতা লাভ করেছেন।

প্রায় দেড়শ বছর আগে নীল চাষ করে শত শত পরিবার দেনার দায়ে সর্বস্বান্ত হলেও গত প্রায় আট বছরে গঙ্গাচড়া উপজেলার পাগলাপীর হরকলি ঠাকুরপাড়া এলাকার ৪ হাজার কৃষক ৯৫০ একর জমিতে নীল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এখন এই নীল চাষই অনেকের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। স্বাবলম্বী হয়েছেন ওইসব কৃষক পরিবার। দারিদ্র ও অসহায়ত্বকে পিছে ফেলে তারা ঝুঁকে পড়েছে নীল চাষে। রংপুরের এই নীল ঢাকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

সাধারণত চৈত্র মাসে এর বীজ বপন করা হয় এবং আশ্বিন-কার্তিক মাসে গাছগুলো শিকড়সহ তুলে পাতাসহ মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। এক একর জমিতে নীল চাষ করতে সাধারণত ২ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। সবুজ সার তৈরির ক্ষেত্রে সাধারণত গাছের আগার পাতাগুলো কেটে তা গর্তে পূঁতে রাখা হয়। মাটিতে তিন ফুট গর্ত করে পাতার সঙ্গে খড় যুক্ত করে গর্তটি ভরাট করে দেয়া হয়। দু সপ্তাহ পর তা তোলা হয়। এরপর এগুলো সারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয় জমিতে। নীলের পাতা একটি উন্নত মানের সবুজ সার। চাষিরা প্রধানত রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে নীল কিংবা মালের চাষ করছেন। নীল গাছ কাঠের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।