মানবিক বাংলাদেশ

রাখাইন রাজ্যে চলছে হত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতন-অঘ্নিসংযোগ। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরতায় যখন বিপম্ন সেখানকার রোহিঙ্গা জীবন, ঠিক তখনই তাদের আশ্রয়দাতা হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছে অন্য এক মানবিক বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন, এ দেশের ১৬ কোটি মানুষের মুখে খাবার জুটলে কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকেও আমরা খাওয়াতে পারব। প্রয়োজনে ভাগাভাগি করে খাব। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাঁচ দফা প্রস্তাবও উপস্থাপন করেছেন। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের নতুন করে এ দেশে আসা শুরু হয় গত ২৫ আগস্ট থেকে। রোহিঙ্গা আসার এই ঢল অব্যাহত থাকলে অচিরেই বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শরণার্থী আশ্রয়দাতা দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশে তখন আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা হবে ১৫ লাখের মতো।।

ইউএনএইচসিআরের তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে শরণার্থীদের আশ্রয়দাতা দেশগুলোর শীর্ষে রয়েছে তুরস্ক। সেখানে সিরিয়াসহ বিভিম্ন দেশ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে আসা মানুষের সংখ্যা ২৯ লাখ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আশ্রয়দাতা পাকিস্তানে আছে ১৪ লাখ শরণার্থী।

জাতিসংঘের দুটি সংস্থার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর বলেছিলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়াতে পারে। এ সংস্থা দুটির একটি জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর, অন্যটি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম। আইওএমের পরিচালনা ও জরুরি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মেদ আবদিকার মোহামুদ ও ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার জর্জ ওকোথ ওব্বোর আশঙ্কা, রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়াতে পারে। যদি শেষ পর্যন্ত তাই হয়, তাহলে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়াবে ১৪ লাখ।

এ ছাড়া, বাংলাদেশে এবার আসা শরণার্থীর মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ হাজার সন্তানসম্ভবা নারী রয়েছেন। তাদের সন্তানরা পৃথিবীতে এলে এ সংখ্যা ১৫ লাখ স্পর্শ করবে। এর ফলে বাংলাদেশ পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শরণার্থী আশ্রয়দাতা দেশে পরিণত হবে।

টেকনাফ ও উখিয়া মিলে বর্তমানে রোহিঙ্গাদের ছয়টি শরণার্থী শিবির রয়েছে। এগুলোর মধ্যে টেকনাফের লেদা ও নয়াপাড়ার দুটি এবং উখিয়ার কুতুপালংয়ের দুটি পুরনো শিবির। এই চারটি শিবিরের মধ্যে আবার নয়াপাড়া ও কুতুপালংয়ের একটি নিবন্ধিত ও অন্য দুটি অনিবন্ধিত। এ ছাড়া উখিয়ার বালুখালীতে গত বছর ৯ অক্টোবরের পর আসা রোহিঙ্গারা একটি বস্তি গড়ে তুলেছিল, যা এবার আরও বিস্তৃত হয়েছে। তবে এখন যেন উখিয়া ও টেকনাফের সর্বত্র শরণার্থী শিবির। এ দুই উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা চার লাখ ৭১ হাজার ৭৬৮। এ নিয়ে সংশয় নেই- ২৪ আগস্ট রাতের পর মিয়ানমারের রাখাইনে শুরু হওয়া সেনা অভিযানের পর আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা স্থানীয়দের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে গেছে।

এই বিপুল শরণার্থীর চাপে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টির আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি শরণার্থীদের জন্য এখনই সাত কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৬১৬ কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছে। এ ছাড়া জানানো হয়েছে, প্রায় আট লাখ ৮০ হাজার শরণার্থীর জন্য বছরে প্রায় এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। শরণার্থীদের ত্রাণ ও আশ্রয়ণ নির্মাণের জন্য ছয় মাসে লাগবে এক হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বিভিম্ন রাষ্ট্র থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা এসেছে।

৩১ দিনে পাঁচ লাখ : রোহিঙ্গারা আসতে শুরু করে প্রায় এক মাস আগে, গত ২৫ আগস্ট থেকে সেদিন এসেছিল মাত্র ১৫ জন। ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের (আইএসসিজি) তথ্যানুযায়ী, প্রথম দিন নৌকায় করে এই ১৫ শরণার্থী টেকনাফের উপকূলীয় গ্রাম শামলাপুরে পৌঁছে। আইএসসিজি জানাচ্ছে, ২৫ আগস্ট থেকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা চার লাখ ১২ হাজার ২২১। অবশ্য জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রোহিঙ্গা এসেছে চার লাখ ৮০ হাজার। ২৫ আগস্টের ৩০ দিন পর গতকাল ২৪ সেপ্টেম্বর এসেছে আনুমানিক ১৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা।

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া ও রহমতের বিল এলাকা দিয়ে রোববার প্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ১০ হাজারের মতো। কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার অন্তত ৩৯টি সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে রোহিঙ্গারা। যদি বাকি ৩৭টি পয়েন্ট দিয়ে ২০০ করে মানুষও অনুপ্রবেশ করে থাকে, তাহলে আরও প্রায় সাড়ে সাত হাজার রোহিঙ্গা এসেছে। সে হিসাবে, গত এক মাসে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইতিমধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা আরও বেশি।

সংখ্যা নিরূপণ পদ্ধতি : শরণার্থী আসার হিসাব কীভাবে করা হচ্ছে, জানতে চাইলে ইউএনএইচসিআরের একটি সূত্র জানায়, বিশ্বের বিভিম্ন স্থানে শরণার্থীর সংখ্যা নির্ধারণে সংস্থাটি একই পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে। এ পদ্ধতিতে শরণার্থী আসতে শুরু করলে মাঠ পর্যায়ে প্রবেশপথের একাধিক স্থান এবং যেসব স্থানে এসে শরণার্থীরা জড়ো হয় সেসব স্থানে ইউএনএইচসিআরের কর্মীরা অবস্থান নিয়ে গণনার মাধ্যমে সংখ্যা নির্ধারণ করেন। এ পদ্ধতিতে শরণার্থী আসার সংখ্যা সম্পর্কে মোটামুটি ৯০ ভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়।

এবার কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার অন্তত ৩৯টি সীমান্ত দিয়ে ঢুকেছে রোহিঙ্গারা। টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মোহম্মদ রশিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এবার এ পর্যন্ত লাখ ছয়েক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। তিনিও সংখ্যাটি নিরূপণ করেছেন অনুমানের ওপর নির্ভর করে। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এবার অন্তত ১৭৯ গ্রামের সব রোহিঙ্গা চলে এসেছে এবং প্রতি গ্রাম থেকে গড়ে সাড়ে তিন হাজার মানুষ এসে থাকলে সংখ্যাটা হবে ছয় লাখ ২৬ হাজার ৫০০।

নিবন্ধন হয়েছে সাড়ে ১৩ হাজার : রোহিঙ্গারা আসতে শুরু করার বেশ পর গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের পক্ষে নিবন্ধনের দায়িত্বে নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেট একেএম লুৎফর রহমান গতকাল বেলা ১১টার দিকে জানান, এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৪১৮ রোহিঙ্গা নিবন্ধিত হয়েছে। নিবন্ধন কার্যক্রম এখন পর্যন্ত শুধু উখিয়ার কুতুপালং থেকে পরিচালিত হচ্ছে। তবে টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক জানান, দ্রুত টেকনাফেও নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে এবং পাসপোর্ট অফিসের লোকজন সে কাজটি পরিচালনা করবেন।

১৯৭৮ থেকে ২০১৭ : ১৯৭৮ সালে এদেশে প্রথম রোহিঙ্গা শরণার্থী আসতে শুরু করে। সেবার বাংলাদেশে আসা তিন লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে আড়াই লাখ শরণার্থী মিয়ানমার পরে ফিরিয়ে নিয়েছিল। ১৯৯২ সালে আসে দুই লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৭ জন শরণার্থী। এর মধ্যে মিয়ানমার ফিরিয়ে নিয়েছে দুই লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে। ফলে প্রতিবারই কিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে থেকে গেছে। তবে ১৯৯২ সালের পর আরও বেশ কয়েকবার রোহিঙ্গারা এলেও তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো উদ্যোগ আর দেখা যায়নি। সর্বশেষ গত বছর ৯ অক্টোবরের পর বাংলাদেশে আসে ৭৮ হাজার রোহিঙ্গা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গত জুন মাসে সমাপ্ত রোহিঙ্গা শুমারি থেকে জানতে পারে, দেশের প্রায় ৫০টি জেলায় রোহিঙ্গারা রয়েছে। ‘বাংলাদেশে অবস্থানরত অনিবন্ধিত মিয়ানমার নাগরিক শুমারি’ নামে পরিচালিত ওই শুমারির প্রকল্প পরিচালক ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর উপপরিচালক (শুমারি) আলমগীর হোসেনের সঙ্গে টেলিফোনে সমকালের কথা হয় গত ১০ সেপ্টেম্বর। তিনি জানিয়েছিলেন, রোহিঙ্গা শুমারির আওতায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও পটুয়াখালী- ছয় জেলায় থাকা রোহিঙ্গাদের গণনা করা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের ছবি তোলা ও ডাটাবেজের কাজ করতে গিয়ে তাদের সঙ্গে আলাপে আরও প্রায় ৫০ জেলায় তাদের আত্মীয়স্বজন আছে বলে তারা জানতে পারেন। শুমারিতে অনিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা কত পাওয়া গেছে- জানতে চাইলে সদ্য সমাপ্ত ওই প্রকল্পের পরিচালক তা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছিলেন, ‘এটি ছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প এবং প্রতিবেদন তাদের কাছে জমা দিয়ে দিয়েছি। কিছু জানাতে হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই জানাবে।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে রোহিঙ্গা শুমারি নিয়ে কিছু জানায়নি। তবে ১০ সেপ্টেম্বরেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে ধারণা পাওয়া যায়, শুমারিতে পাওয়া জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ছিল চার লাখ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, ‘মিয়ানমার থেকে আসা মানুষের সংখ্যা ৭,০০,০০০ ছাড়িয়েছে। যার মধ্যে গত ১৫ দিনে এসেছে প্রায় ৩,০০,০০০।’

ত্রাণ তৎপরতা : ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব শাহ কামাল বলেন, মানবিক কারণেই আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। নিজেদের অর্থায়নেই শুরু হয় ত্রাণ তৎপরতা। তবে বিদেশ থেকেও সহায়তা এসেছে এবং আরও ত্রাণ আসা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১০ লাখ টাকার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ১০ লাখ টাকা ও ৫০০ টন চাল বরাদ্দ করে রোহিঙ্গাদের জন্য। তুরস্ক দিয়েছে প্রায় ৩৭ টন চাল, ছয় টন ডাল, ছয় দশমিক তিন টন চিনি, পাঁচ হাজার ৮০০ লিটার তেল। প্রতিদিন ১০ হাজার রোহিঙ্গাকে রাম্না করে খাওয়ানো হচ্ছে।

আজারবাইজান ২০ টন চাল ও আটা দিয়েছে। মাংস দিয়েছে ১০ টন। তেল দিয়েছে ২০ হাজার লিটার। মরক্কো প্রায় ৯ টন চাল দিয়েছে। কম্বল দিয়েছে এক হাজারটি। ইন্দোনেশিয়া ১০ টন চাল দিয়েছে। ইরান ৩০০ তাঁবু, সাড়ে চার হাজার কম্বল ছাড়াও ৯ ধরনের গৃহস্থালি সামগ্রী দিয়েছে। ভারত ৯ হাজার ২০৬ প্যাকেট ত্রাণ দিয়েছে। প্রতি প্যাকেটে পাঁচ কেজি চাল, দুই কেজি ডাল, এক কেজি চিনিসহ ১১ ধরনের সামগ্রী রয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি দিয়েছে ৭৫ টন চাল। এ চাল ৭৫ হাজার শরণার্থীর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। ইউএনএইচসিআর দিয়েছে ৩৫ কোটি টাকা, যা দিয়ে শরণার্থী শিবিরে চলাচলের উপযোগী রাস্তা নির্মাণ করবে সেনাবাহিনী। বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহে আট ঘণ্টায় ৬৪ হাজার লিটার পানি শোধন করতে পারে এমন দুটি মোবাইল পানি শোধনাগার স্থাপন করা হয়েছে। ইউএনএইচসিআর ও জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থার উদ্যোগে ১০ হাজার এবং বাংলাদেশ ও তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে চার হাজার শেড নির্মাণ কাজ চলছে। প্রতিটি শেডে ছয়টি পরিবার আশ্রয় পাবে।

তবুও আগুন : রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা বন্ধ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠাতে এবার প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক চাপ স্পষ্ট হয়েছে। এবারই প্রথম জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ রাখাইনে গণনিষ্ঠুরতার জন্য নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও রোহিঙ্গা প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর একটি ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এ চাপ সত্ত্বেও রাখাইনে এখন পর্যন্ত গণহত্যা বন্ধ হয়নি। গত ২৩ সেপ্টেম্বর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বরও রাখাইনে রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বলার তথ্য পেয়েছে তারা। গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত করা সাপেক্ষে মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার কথা বলেছেন, যা আসলে সবার মধ্যে হতাশাই ছড়িয়েছে।

এদিকে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মিয়ানমার সফরের আহ্বান জানিয়েছেন। এ নিয়ে গতকাল বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, এটি তিনিও শুনেছেন। তবে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো নিমন্ত্রণ পাননি। পেলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে তিনি নিশ্চয় যাবেন। কারণ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়নি।
প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ করেছেন রাশেদ মেহেদী, ফসিহ উদ্দীন মাহতাব, জাহিদুর রহমান, আশরাফুল গণি ও আবদুর রহমান