প্রধানমন্ত্রীর জীবন সংগ্রাম নিয়ে সেমিনার হবে

দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে তাকে নিয়ে সেমিনার করবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ৩০ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে এ সেমিনার হবে। এতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতিতে আগমন, গ্রাম-গঞ্জে ঘুরে দলকে সংগঠিত করা, বারবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা, দেশের ক্ষুধা-দারিদ্রপীড়িত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে তার ভূমিকা-অবদান এবং তার দীর্ঘ সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবন তুলে ধরা হবে। দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবীরা বঙ্গবন্ধু কন্যার দেশপ্রেম এবং মানবতাবাদের দিকগুলো তুলে ধরবেন।

দলের বিশ্বস্ত সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। প্রসঙ্গত, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে, আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন। এদিন ৭০ বছরে পা দেবেন তিনি। ১৯৪৭ সালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম তার। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগদানের লক্ষ্যে এ মুহূর্তে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ লক্ষ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রদর্শনের জন্য শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য দিক নিয়ে তৈরি হবে ভিডিও ক্লিপ। সেমিনারে তার বেড়ে ওঠা, ১৫ আগস্টের নির্মম-নিষ্ঠুর-নৃশংস হত্যাকাণ্ড, অনিচ্ছাকৃত প্রবাস জীবন, মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফেরাসহ ঝঞ্ঝাবহুল ঘটনাবলি তুলে ধরা হবে। আলোচনায় একাধিক বুদ্ধিজীবী প্রধানমন্ত্রীর জীবনী নিয়ে আলোকপাত করবেন। দেশ ও জাতির জন্য শেখ হাসিনার অবদান তুলে ধরবেন।

সূত্রমতে, দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। ভারত থেকে ফেরার পর সবকিছু চূড়ান্ত করা হবে। তবে এরই মধ্যে সেমিনারের বিষয়বস্তুগুলো ঠিক করে রাখা হবে। দলের প্রচার উপ-কমিটি এ নিয়ে কাজ করছে।

সূত্র জানায়, সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার পর এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য মাধ্যমেও প্রচার চলবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি পোস্টার, ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমেও প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানের বিষয়ে সবাইকে জানানো হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার সময় ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে স্বামীর সঙ্গে ইউরোপে অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। এরপর বেশ কয়েক বছর তাকে ভারতে থাকতে হয়। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে ১৯৮১ সালে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর দেশের আনাচে-কানাচে সফর করে সংগঠনকে গতিশীল করে তোলেন। গত ৩৬ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল সে াতধারার প্রধান নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।

তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এবং অন্য রাজনৈতিক জোট ও দলগুলো ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে বিজয়ী হয়। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বেই তৎকালীন বিএনপি সরকারের পতন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিজয় অর্জন করে আওয়ামী লীগ। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির পর এক-এগারোর সরকার ওই বছরের ১৬ জুলাই তাকে গ্রেফতার করে। সংসদ ভবন চত্বরের বিশেষ কারাগারে দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস বন্দিত্বের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে এর আগে কয়েক দফা গৃহবন্দি থাকেন তিনি।

১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে দীর্ঘ ২১ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে চার-তৃতীয়াংশ আসনে বিশাল বিজয় অর্জনের মাধ্যমে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠিত হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরপর দ্বিতীয় মেয়াদের মহাজোট সরকার গঠিত হয়েছে। এ ছাড়া ১৯৮৬ সালের তৃতীয়, ১৯৯১ সালের পঞ্চম এবং ২০০১ সালের অষ্টম সংসদে অর্থাৎ মোট তিন দফা বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই সন্তানের জননী এবং তার পাঁচ নাতি-নাতনি রয়েছে।