সবুজে ঢাকবে ত্রিশাল

সবুজ ত্রিশাল গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এক বছর আগে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় রোপিত হয়েছিল তিন লক্ষাধিক নানা প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ওষধি গাছ। স্বপ্নটা দেখেছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন। বছর ঘুরে এখন হিসাব-নিকাশের পালা। স্বপ্নটা বাস্তবায়নের দায়িত্বটা কাঁধে নিয়েছিল বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ গাছই বছর শেষে বেঁচে আছে। গাছের খবর রাখার জন্য যে ট্রি হেলথ কার্ড করা হয়েছিল, তাও সযত্নে রেখেছে শিক্ষার্থীরা। গাছের যত্ন আর দেখভালও করে চলেছে ওরা। শুধু তা-ই নয়, অনেক শিক্ষার্থী এখন নিজ উদ্যোগেই গাছ রোপণ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত বছরের মার্চ থেকে শুরু হয়ে অক্টোবর পর্যন্ত ধাপে ধাপে উপজেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে একটি করে বনজ, ফলদ, ওষধিসহ তিন লাখ পাঁচ হাজার গাছ তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সেসব গাছের পরিচর্যার দায়িত্বও দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। এর আগে গাছের উপকারিতা, পরিবেশ রক্ষায় গাছের প্রয়োজনীতা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয় তাদের।

গাছের চারা নেওয়ার পর শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ বাড়ির আঙিনায় চারা রোপণ করে পরিচর্যা শুরু করে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি সবাই এ মহতী কাজে যার যার অবস্থান থেকে যুক্ত হয়। এদিকে গাছ সম্পর্কে প্রকৃত ও সঠিক তথ্য জানার জন্য ইউএনও আবু জাফর রিপন উদ্ভাবন করেন ট্রি হেলথ কার্ড। গাছের পরিচর্যার তথ্য সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি চারা গছের সঙ্গে একটি করে হেলথ কার্ড দেওয়া হয়েছিল শিক্ষার্থীদের। লেখাপড়ার পাশাপাশি হেলথ কার্ডের মাধ্যমে নিয়মিত শিক্ষকদের কাছে গাছের প্রতিবেদন দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা আর সংশ্লিষ্টদের তদারকির কারণে এক বছরের মাথায় এসে এখন হিসাবের পাল্লায় সাফল্যের দিকটাই ভারী।

উপজেলার ফাতেমা নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী নাসরিন আক্তার বলেন, ‘আমি তিনটি চারা পেয়েছিলাম। এর মধ্যে একটি চারাগাছ মরে গেছে। বাকি দুটি গাছ ভালোভাবেই বেঁচে আছে। প্রতিদিন গাছের যত্ন নিই। গাছগুলোকে বাঁচাতেই হবে। ’ ইসলামী একাডেমির নবম শ্রেণির ছাত্র মোকাম্মেল হক বলেন, ‘আমি পেয়ারা আর মেহগনির চারা পেয়েছিলাম। দুটি গাছই ভালো আছে। ’ নজরুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, দু-এক মাস পরপরই কোনো একটি সমাবেশে তাঁরা গাছের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান। শিক্ষার্থীরা গাছ রক্ষায় এখন নিজেরাই অনেক সচেতন।

ফাতেমা নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রঞ্জন কুমার তালুকদার বলেন, “আমার বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী হেলথ কার্ড এবং ‘তোমার গাছটি কেমন আছে’ শীর্ষক একটি ফরমসহ চারাগাছ পেয়েছে। প্রতি মাসেই এ হেলথ কার্ডটি চেক করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সবাই খুশি। ”

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের কাণ্ডারি। তাদের মাঝে প্রকৃতি প্রেম ছড়িয়ে দিতে পারলে তা হবে বিরাট একটি মহতী কাজ। সর্বোপরি ত্রিশালবাসীর আন্তরিকতায় গত বছর দেওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ গাছই বেঁচে আছে। এ গাছগুলোর পরিচর্যা করতে হবে। এ ছাড়া প্রতি বছরই নতুন করে গাছ রোপণ করতে হবে। এভাবেই গড়ে উঠবে সবুজ ত্রিশাল। ’ এদিকে গত আগস্টে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও প্রায় ১৬ কিলোমিটার অংশজুড়ে রোপণ করা হয়েছে তিন হাজার কৃষ্ণচূড়া। মহাসড়কের ধারে এসব গাছের চারা রক্ষার জন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদেরও সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এ উদ্যোগটিও সর্বমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে।