বিশ্ব নেতৃত্বে বাংলাদেশ

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় বাংলাদেশকে। মেধা, বুদ্ধি, যোগ্যতা এবং দক্ষতার ভিত্তিতে এদেশের মানুষ ক্রমাগত দেশকে পৌঁছে দিচ্ছে বিশ্ব নেতৃত্বের সর্বোচ্চ আসনে। বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রায় ২২টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন পদে অবস্থান করে নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।

১৮৮৯ সালের জুনে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে Inter Parliamentary Union(IPU) প্রতিষ্ঠা করে, যার সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে IPU-এর সদস্য পদ লাভ করলেও; ১৯৭৫ সালে সেই সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় এবং ১৯৮৬ সালে পুনরায় সেখানে যোগ দেয়। গত ১৬ অক্টোবর ২০১৪-তে IPU-এর ১২৫ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে প্রথম কোনো বাংলাদেশি হিসেবে প্রেসিডেন্ট (২৮তম) নির্বাচিত হয়েছেন সাবের হোসেন চৌধুরী। গত ১ থেকে ৫ এপ্রিল ২০১৭-তে ঢাকায় বিশ্বের প্রায় ১৭১টি দেশের আইনসভার আন্তর্জাতিক সংগঠনের ১৩৬তম অ্যাসেমব্লি অনুষ্ঠিত হয়। যা ছিল বাংলাদেশের ৪৬ বছরের ইতিহাসে সর্ববৃহত্ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলন।

এর পাশাপাশি সম্প্রতি রাসায়নিক অস্ত্র নিরোধক বিষয়ক বিশ্বসংস্থা Organization for the Prohibition of Chemical Weapons (OPCW)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সংগঠনেরও নেতৃত্ব লাভ করেছে বাংলাদেশ। কোনো দেশে রাসায়নিক অস্ত্রের বিষয়ে পরিদর্শন বা পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হলে জাতিসংঘ এ সংগঠন থেকে সহায়তা নিয়ে থাকে। গত ৭ থেকে ১০ মার্চ ২০১৭-তে নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অনুষ্ঠিত হয় নোবেলজয়ী আন্তর্জাতিক সংস্থা OPCW-এর ৮৪তম নির্বাহী পর্ষদের অধিবেশন। যেখানে প্রথমবারের মতো সর্বসম্মতিক্রমে (২০১৭-১৮ মেয়াদে) এক বছরের জন্য ৪১ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী পর্ষদের ২০তম চেয়ারপারসন হিসেবে নির্বাচিত হন নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মোহাম্মদ বেলাল।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটর তিনটি ফরমেটেই শীর্ষে অবস্থান করে ক্রিকেটবিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য সাকিব আল হাসান। টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি২০-তে যথাক্রমে তিনি ৪৩১, ৩৭৭ এবং ৩৪৬ পয়েন্ট নিয়ে ১ নাম্বার অলরাউন্ডারের মর্যাদা লাভ করেছেন।

তাছাড়া, বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বরাবরের মতোই নেতৃত্বের আসনে বাংলাদেশের নাম উল্লেখযোগ্য। মরক্কোর মারাকাশে অনুষ্ঠিত হওয়া সর্বশেষ জলবায়ু সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর নেতৃত্বও দিয়েছে বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমানো ও জলবায়ু তহবিলে অর্থায়নে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পক্ষে নেতৃত্ব প্রদানকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০২০ সালের প্যারিস চুক্তি কার্যকরের ব্যাপারে ভূমিকা ছিল সত্যিই প্রসংশনীয়। এছাড়াও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (CPA), আইটিআই, এশিয়া-প্যাসেফিক ইন্সটিটিউট ফর ব্রডকাস্টিং ডেভেলপমেন্ট, ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল স্যাটেলাইট অর্গানাইজেশন, জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ মানবাধিকার কাউন্সিলের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী সংগঠনগুলোর মূল দায়িত্ব লাভ করেছে বাংলাদেশ। যা অর্জনে এদেশের প্রতিনিধিদের কঠোর প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়েই পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।

বিশ্ব নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশিষ্ট পর্যায়ে অবস্থান করছে। একটু সচেতনভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বর্তমান অবস্থান ধরে রেখে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আগামীতে বাংলাদেশের ভূমিকা আরো জোরালো এবং শক্তিশালী হবে বলে আশা করা যায়।