তৈরি হচ্ছে টুরিস্ট পুলিশের বিধিমালা

পর্যটন ও দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের নিরাপত্তাসহ বেশকিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য দিয়ে টুরিস্ট পুলিশের জন্য বিধিমালা তৈরি হচ্ছে। ২০১৫ সালে পুলিশ বাহিনীর অধীনে টুরিস্ট পুলিশ গঠন করা হলেও, এখন পর্যন্ত এর কোনো বিধিমালা তৈরি হয়নি। যে কারণে টুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম সম্পর্কে অনেকের কাছে এখনো অজানা রয়ে গেছে। মূলত পর্যটন এলাকা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধান রেখেই এই পুলিশ বাহিনীর সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে দর্শনীয় স্থান আর পর্যটন শিল্পের বিকাশের স্বার্থে এর সৃষ্টির সূত্রপাত। বর্তমানে টুরিস্ট পুলিশের বিধিমালা খসড়া তৈরি হলেও, এর কোনো চূড়ান্ত রূপ নেয়নি। যে কারণে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভার মাধ্যমে এটি চূড়ান্ত রূপ পাবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

টুরিস্ট পুলিশের সদস্যদের জন্য এক ডজনের বেশি দায়িত্ব ও কর্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, পর্যটক আর দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা বিধান করা। এর পাশাপাশি দর্শনীয় স্থানগুলোতে নিরাপত্তা দেয়া। কোনো ধরনের অপরাধ যেন না হতে পারে সেজন্য নিয়মিতভাবে টহল দেয়া। পাশাপাশি যারা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হবে তাদের প্রতি নজরদারি রাখা। পর্যটন সংক্রান্ত কোনো ধরনের অপরাধ ঘটলে তা তদন্ত করাও হবে টুরিস্ট পুলিশের দায়িত্ব। পর্যটন শিল্প কিংবা পর্যটক সংক্রান্ত অগ্রিম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এই বাহিনীকে। একই সঙ্গে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। পর্যটন এলাকায় কি ধরনের অপরাধ হয় তার একটি বিশ্লেষণ করতে হবে এই বাহিনীকে। প্রয়োজনে অপরাধীদের তালিকা তৈরি করতে হবে।

জানা গেছে, পর্যটকদের অধিকতর নিরাপত্তা দিতে আগাম অনেক তথ্য সংগ্রহ করার বাধ্যবাধকতা থাকছে। বিশেষ করে দর্শনীয় স্থানে কোনো ধরনের নাশকতার কর্মপরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্র হচ্ছে কিনা তা নজরদারির চেয়ে এ সম্পর্কিত আগাম তথ্য সরবরাহ করার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে এই বিধিমালায়। মোট কথা নিরাপত্তা বিধান করতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ সব এলাকায় কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে তা তদন্তের জন্য মামলা দ্রুত নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ বাহিনীর যে কোনো শাখা, বিভাগ কিংবা ইউনিটের সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ রাখা ও সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী টুরিস্ট পুলিশের প্রধান কার্যালয় থাকবে ঢাকায়। এর প্রধান হবেন বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি কিংবা এর উপরের পদমর্যাদা সম্পন্ন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। সরকারের নির্ধারিত জনবলের সমন্বয়ে টুরিস্ট পুলিশ গঠন হবে। এর একাধিক ডিভিশন থাকবে। এমনকি, রিজিয়ন, জোন ও সাব জোন থাকবে। প্রত্যেকটির ডিভিশনের অধীনে কয়েকটি রিজিয়ন থাকবে। প্রতিটি রিজিয়নের অধীনে একাধিক জোন ও প্রতিটি জোনের অধীনে একাধিক সাব জোন থাকবে। প্রতিটি রিজিয়নের প্রধান হবেন পুলিশ সুপার। জোন কিংবা সাব জোনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার, ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হবে। টুরিস্ট এলাকায় মামলা তদন্ত করবে টুরিস্ট পুলিশ। টুরিস্ট পুলিশ কোনো মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করলে মহাপুলিশ পরিদর্শকের লিখিত অনুমোদন ছাড়া অন্য কোনো সংস্থায় মামলা হস্তান্তর করা যাবে না বলে বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে টুরিস্ট পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই একই সময়ে কোনো মামলা তদন্তের বিষয় উপস্থাপন করা হলে তখন সিআইডি সেই মামলা গ্রহণ করবে। তদন্ত কাজের জন্য প্রয়োজনে টুরিস্ট পুলিশের হাজতখানা, মালামাল ও জিজ্ঞেস করার জন্য আলাদা কক্ষ থাকবে। পাশাপাশি এক বা একাধিক পরামর্শ বই, পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ বই থাকবে।