প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বাংলাদেশ-আজ ও আগামীর সম্ভাবনা

ইউরোপের রেনেসাঁ বিপ্লবের কথা আমরা জানি। সেই বিপ্লব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক নবদিগন্ত উন্মোচন করেছিল। বাঙালী হিসেবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিপ্লবের বিষয়টি এক সময় আমাদের কাছে সোনার হরিণ বলে মনে হতো। কিন্তু সময়ের পালা বদলের ধারায় আজ বাংলাদেশে ডিজিটাল বিপ্লবের যে ধারা সূচনা করেছে তার একমাত্র কৃতিত্ব বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘শিক্ষা মানুষকে কেবল শিক্ষিতই করে না, বরং গৌরবান্বিতও করে।’ এ কথার নেপথ্যে যে গভীর অর্থটি লুকিয়ে আছে তা হলো- শিক্ষা থেকে অর্জিত জ্ঞান মানুষ ব্যবহার করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেশকে বিকশিত করবে। এর মাধ্যমে শুধু ব্যক্তি গৌরবান্বিত হবে না, দেশও গৌরবে অভিষিক্ত হবে। ড. কুদরত-ই-খুদা কেবল শিক্ষার আলোকবর্তিকাই বহন করেননি, গবেষণার ক্ষেত্রেও তার অনন্য ভূমিকা বাংলাদেশকে গৌরবান্বিত করেছে। ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া পারমাণবিক গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিযাত্রার জন্ম দিয়েছিলেন। আজকাল বিদেশ থেকে দেশে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে এসে অনেক গবেষক বলে থাকেন দেশে গবেষণার কোন পরিবেশ নেই। প্রকৃতপক্ষে কথাটি যথাযথ নয়। কেননা এ দেশের মাটিতেই জন্ম নিয়েছিলেন স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, সত্যেন বোস, কাজী মোতাহার হোসেন, দ্বীজেন শর্মাসহ অসংখ্য জগদ্বিখ্যাত গবেষক। এক্ষেত্রে পরিবেশ যতটা না দায়ী তার চেয়ে দায়ী বিদেশ ফেরত গবেষকদের মানসিকতা। আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, জাপানের মতো দেশগুলোর গবেষণার সুযোগ-সুবিধা বাংলাদেশে নেই বলে অনেক গবেষক তাদের গবেষণাকর্ম বন্ধ করে দেন, যা কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। গবেষণা একটি সৃষ্টিশীল ও মননশীল বিষয়। এই আলোকে আলোকিত হয়ে অনেক গবেষক বাংলাদেশে বিশ্বমানের গবেষণা করে চলেছেন। হয়ত অচিরেই আমরা দেখতে পাব বাংলাদেশের গবেষকরা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কারের মাধ্যমে গোটা জাতিকে গৌরবান্বিত করেছেন। আর এক্ষেত্রে বর্তমান সরকার যে অবদান রেখে চলেছে তার ফলে বাংলাদেশে বিশ্বমানের গবেষণাগার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। পাটের জিনতত্ত্ব আবিষ্কার বর্তমান সরকারের গবেষণার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কারণেই সফল হয়েছে। একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশ থেকে উন্নত বিশ্বে মেধা পাচার হতো। কিন্তু বর্তমান সরকারের গবেষণা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপের মাধ্যমে আজকাল দেখা যাচ্ছে আমেরিকা, ইউরোপ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষকরা ফিরে আসছেন, যা জননেত্রীর প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার মনোভাব ও আন্তরিকতার জন্যই সম্ভব হয়েছে। ফলে মেধাসম্পদ পাচারের বিষয়টি আজ অর্থহীন হয়ে পড়েছে। এই মেধাবী গবেষকরা দেশে ফিরে গবেষণার ক্ষেত্রে তাদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছেন। আর প্রধানমন্ত্রীর প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে চেতনা তা আজ বাস্তবে রূপায়িত হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে কৃষি প্রযুক্তিতে যে নতুন নতুন চিন্তা-ভাবনা ও সৃজনশীলতা তৈরি হয়েছে তার ফলে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে গবেষকরা অনুপ্রাণিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সফল পদক্ষেপে। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রি এ পর্যন্ত ৬৭টি এবং বিনা ১৪টি নতুন উচ্চফলনশীল (উফশী) ধানের জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব নিয়ে এসেছে। ডায়াবেটিকবান্ধব ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ ধানের জাতের গবেষণায় বিশ্বে প্রথম সফল হয়েছেন বাংলাদেশের গবেষকরা। বর্তমান সরকারের সময় কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন সেবা প্রদানের জন্য কাজ করছে কৃষি কল সেন্টার। আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসেই কৃষকরা কৃষিবিষয়ক সকল পরামর্শ পাচ্ছেন। সরকারের কৃষি গবেষণার ক্ষেত্রে বাস্তবমুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে বছরে ৫টি ফসল উৎপাদনের পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে বর্তমান সরকার সার বিতরণ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন সাধন করেছে। সৌরশক্তি, বায়ো ফুয়েল ও বিদ্যুতের অন্যান্য বিকল্প শক্তি আবিষ্কৃৃত হয়েছে, যার মাধ্যমে কৃষকরা বাংলাদেশের গবেষকদের আবিষ্কৃত কৃষিযন্ত্রাদি ব্যবহার করে সফলতা পাচ্ছেন। দেশে কৃষি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার গুরুত্ব প্রদান করায় ১১ লাখ ৩২ হাজার ২০২ টন চাল এবং দুই লাখ ২৬ হাজার ৭১৩ টন গম সংরক্ষিত আছে, যা গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে তিন লাখ টনেরও বেশি। বর্তমানে উদ্বৃত্ত চালের পরিমাণ ৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন মেট্রিকটন। এখানে উল্লেখ্য যে, সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে চাল উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ৩১ দশমিক ৩২ মিলিয়ন মেট্রিকটনে দাঁড়ায়। ২০১১-২০১২ এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৩৩ মিলিয়ন মেট্রিকটনের অধিক চাল উৎপাদন হয়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ধান ও মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির যে বিপ্লব বর্তমান সময়ে ঘটে গেছে তার ফলে বাংলাদেশ আর চাল আমদানিতে বিশ্বাস করে না, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে চাল রফতানিতে। জাতীয় কৃষি নীতিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার প্রদান করে জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতি ২০১৪ ও জাতীয় ক্ষুদ্রসেচ নীতি ২০১৪ প্রণয়ন বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে। এক সময় উত্তরাঞ্চলকে বলা হতো মঙ্গাপ্রবণ এলাকা। আজ বর্তমান সরকারের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শস্য উৎপাদনের পদক্ষেপের ফলে ২০১৪ সালে তিন কোটি ৬৮ লাখ টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে। ফলে মঙ্গাপ্রবণ এলাকা আজ উন্নয়নের উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শৈশবে মধুমতী নদীর তীরে প্রযুক্তিবিহীন ভাসমান চাষ পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তার এই শৈশবের চিন্তাধারা পরবর্তীতে বিকাশ লাভ করেছে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় ভাসমান চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবনের মাধ্যমে। গৌরবের বিষয় হলো এই যে, প্রধানমন্ত্রীর সৃজনশীল এই চিন্তাধারা জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) কর্তৃক স্বীকৃতি লাভ করেছে।

বাংলাদেশের একজন তথাকথিত নেত্রী সাবমেরিন কেবল ও সমুদ্রের গভীরে চলমান সাবমেরিনের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারেননি বলে বাংলাদেশ এক সময় তথ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছিল। সেই ভগ্নদশা থেকে তথ্য ও প্রযুক্তির দ্বার উন্মোচন করে ইন্টারনেট সেবা দেশের প্রত্যেক মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। আজ গ্রামের মানুষও ইন্টারনেট সেবার আওতায় চলে এসেছে, যা ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার মূল লক্ষ্য। এই জননন্দিত নেত্রী ও তার সুযোগ্য উত্তরসূরি সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সারাদেশে তৈরি হয়েছে ১ লাখ ওয়াই-ফাই জোন। এর ফলে গ্রামের একজন কৃষক মোবাইল ইন্টারনেটের সাহায্যে কৃষি কাজের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে পারছেন। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তার জ্ঞানকে প্রয়োগপূর্বক ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা ও গবেষণায় আলোকিত করে তুলছেন। ছাত্র-ছাত্রীরা কম্পিউটারের মাধ্যমে ভর্তি ফরম সংগ্রহ করছে, পরীক্ষার ফলাফল মোবাইল ইন্টারনেট ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে আলাদীনের জাদুর চেরাগের মতো স্বল্প সময়ের মধ্যে পেয়ে যাচ্ছে। ইন্টারনেট ও মোবাইল ইন্টারনেটের মাধ্যমে পানি, বিদ্যুত, গ্যাস, খাজনা, করসহ বিভিন্ন বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে সুবিধা ভোগ করছে। ই-টেন্ডারিং মাধ্যমে টেন্ডার জমাদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং, এটিএম ব্যাংকিং, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাস, ট্রেন ও প্লেনের টিকেট সংগ্রহ করা সহজ হয়েছে। কল সেন্টার, আইটি সিটি, আইটি পার্ক নির্মাণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কানেকটিভিটির মাধ্যমে দেশের পশ্চাৎপদ অঞ্চলগুলোকে উন্নয়নের ধারায় নিয়ে আশা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেসিংয়ের মাধ্যমে একই সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলের শহর ও গ্রামের মানুষের সঙ্গে সুখ-দুঃখ ও তাদের উন্নয়নের বিষয়ে মতবিনিময় করছেন। বর্তমান সরকারের সময়ে থ্রিজি চালু হয়েছে এবং অতিদ্রুত বাংলাদেশ প্রবেশ করতে যাচ্ছে ফোরজি টেকনোলজিতে। যা বর্তমান সরকারের সমন্বিত উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত। আওয়ামী লীগের গত পাঁচ বছর মেয়াদে ২৫ হাজারেরও বেশি কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে, যা দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, গবেষণা সবক্ষেত্রেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী ৫টি পর্যায়ের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্নকে আজ বাস্তবে রূপায়িত করার পথে এগিয়ে চলেছেন। ইতোমধ্যেই ই-গভর্ন্যান্স পদ্ধতি প্রক্রিয়া সারাদেশে চালু হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকারের সব উন্নয়নমূলক কাজকর্ম ডিজিটালাইজড করা হবে। এর ফলে সরকারের কাজকর্মে গতিময়তা সৃষ্টি হবে। গণতন্ত্রের প্রধান শর্ত সরকারের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পরিবেশ তৈরি হবে। আনন্দের বিষয় এই যে, ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন এ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন (এ টু আই) প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়টি হচ্ছে স্কুল-কলেজে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার উৎকর্ষতা সাধন। তৃতীয় পর্যায় হচ্ছে তথ্য ও প্রযুক্তিকেন্দ্রিক শিল্প এবং কলকারখানা গড়ে তোলা। চতুর্থ পর্যায়টি হলো আইটি পার্ক গড়ে তোলা। এ প্রসঙ্গে বলা যায় বিভিন্ন অঞ্চলে আইটি পার্ক গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশের স্বনামধন্য আটটি বিশ্ববিদ্যালয়কে আইটি পার্ক নির্মাণের জন্য প্রস্তাব প্রেরণ ও তা কার্যকরের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। পঞ্চম পর্যায়ে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যা ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।

আজ রোবট্রিক্সের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। মনোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে, পদ্মা সেতু নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন, গার্মেন্টস সেক্টর আধুনিকায়ন, বিদ্যুত উৎপাদনসহ সবক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় নেতৃত্বে। দুরন্ত জলতরঙ্গের মতো উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের গবেষক, প্রকৌশলী, শিক্ষকসহ সবার অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে প্রধানমন্ত্রীর অবিরাম প্রচেষ্টা।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ ছাড়া কোন দেশ অগ্রসর হতে পারে না। আমেরিকা, জাপান, ইংল্যান্ডের মতো উন্নত দেশগুলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চর্চা এবং প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের লক্ষ্য অর্জনে সমর্থ হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। তিনিই প্রথম চিন্তা করেছেন যে, প্রযুক্তির বিকাশ ও প্রয়োগ না করা গেলে একটি দেশ উন্নত হতে পারে না। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে পরিকল্পনা তিনি গ্রহণ করেছেন তা আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশের ধারণাকেই প্রতিষ্ঠিত করবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতির জনকে নন্দিত হয়েছেন। একইভাবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আধুনিক বাংলাদেশের জননী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া উচিত। লি কুয়ান ইউ, মাহাথির মোহাম্মদকে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত রাষ্ট্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আধুনিক সিঙ্গাপুরের জনক ও আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। এর আগে নাগরিক কমিটির প্রধান প্রথিতযশা সাহিত্যিক সৈয়দ শামছুল হকের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীকে দেশরতœ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে নাগরিক কমিটি উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।

রাতের আঁধার আজ দূর হয়েছে। আলোকিত বাংলাদেশ ২০২১ ও ২০৪১-এর ভিশন নিয়ে তার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা ও প্রযুক্তির উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত আছে, অব্যাহত থাকবে। সেই উন্নয়নের অভিযাত্রায় আমরা সহযাত্রী হতে চাই। কেননা এর মধ্যেই নিহিত আছে বাঙালী ও বাংলাদেশের চেতনা।