মাগুরায় আখ চাষে লাভবান চাষিরা

মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলায় হলুদ গেন্ডারী আর সদর উপজেলার শত্রুজিৎপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজলা নামের নতুন জাতের আখের আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চাষীরা এ আখ আবাদ করে লাভবান হওয়ায় নতুন করে চাষীরাএ আখ চাষে উৎসাহিত হচ্ছে। বর্তমানে জেলার অন্যতম অর্থকরী ফসল হিসেবে গেন্ডারী আর কাজলা জাতের আখ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রথমে উপজেলার ঘাষিয়াড়া গ্রামের চাষীরা গেন্ডারী জাতের আখের চাষ করতো। লাভজনক হওয়ায় গত কয়েক বছরে আবাদ বৃদ্ধি পেয়ে তারাউজিয়াল, মোর্ত্তজাপুর, বাখেরা, টিকেরবিলা,চরচৌগাছি, বরালিদহ সদর উপজেলার শত্রুজিৎপুর এলাকার বিভিন্ন গ্রামে এর আবাদ বিস্তার লাভ করেছে। চলতি মৌসুমে প্রায় দুইশত হেক্টর জমিতে গেন্ডারী ও কাজলা আখের চাষ হয়েছে। এর থেকে চাষিরা দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা উপার্জন করবে বলে আশা করছে। চাষিরা জানায়, ধান পাটসহ অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় তারা এ আখ চাষে ঝুকেছেন। এ আখ নরম মিষ্টি চিবিয়ে খাওয়া সহজ। এ কারণে জনগনের কাছে খুবই প্রিয় খাবার।এ আখকে বলা হয় চিউইং টাইপ সুগারক্যান। চাহিদা থাকায় কৃষকরা অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছে এ আখের আবাদ করে। বর্তমানে। এখানকার আখ জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে আসতে শুরু করেছে। এক শ্রেনীর ব্যবসায়ীরা ভ্যান বোঝাই করে কৃষকদের কাছ থেকে পাইকারি ভাবে প্রতি ১০০ টি আখের আটি দেড় থেকে দুই হাজার টাকায় কিনে খুচরা ভাবে প্রতিটি আখ ২৫ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করছে। তবে নতুন জাতের কাজলা আখ দামে সস্তা এবং আকারে বড় হওয়ায় এর চাহিদা বেশী। আর এ কারণে এই আখের আবাদ বেশী হচ্ছে। শ্রীপুর উপজেলার ঘাষিয়াড়া গ্রামের আখচাষি টিপু মিয়া, নাজমুল সাজজাদও জুয়েল মিয়া জানায়, অপেক্ষাকৃত উঁচু ও বেলে মাটিতে এ আখের আবাদ ভাল হয়। গত বছর বিঘা প্রতি জমিতে এ আখের চাষ করে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার আখ বিক্রি করেছেন। এবারও ভাল লাভ আশা করছেন তারা। বরালিদহ গ্রামের অপর এক চাষি জানান, পাশ্ববর্তী ফরিদপুরের মধুখালীতে সুগার মিল থাকায় তারা এক সময় অন্যান্য জাতের আখ চাষ করতো। কিন্তু মিলে আখ বিক্রিতে নানান জটিলতা থাকায় ঐ ঝামেলায় না গিয়ে স্বাধীন ভাবে এ আখের চাষ করে তারা ভালই আছেন। ঘাষিয়াড়া গ্রামের চাষি জুয়েল জানায় এবার সে ১৮ শতক জমিতে আখ চাষ করেছেন্ ইতিমধ্যে ১লাখ ৮০ হাজার টাকার আখ বিক্রি করেছেন। তিনি আশা করছেন এখান থেকে সে ভাল লাভবান হবেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এসব চাষাবাদের তেমন কোন খবর রাখেনা বলে এলাকার কৃষকরা জানান। তারা কেবলমাত্র জানেন এ আখ চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। কৃষি বিভাগ আন্তরিক হলে জেলার কৃষকরা এ আখ চাষের আধুনিক পদ্বতি প্রয়োগ করে অধিক লাভবান হতে পারবে বলে কৃষকরা মনে করেণ। কৃষি বিভাগের উচিৎ কেবল মাত্র আনুষ্টানিকতার মধ্যে না থেকে বাস্তবে কৃষকদের স্বার্থে কাজ করা।