দেশেই উৎপাদন হচ্ছে বিশ্বমানের ৩ হাজার রকম বৈদ্যুতিক সামগ্রী

প্রায় ৩ হাজার রকমের বৈদ্যুতিক সামগ্রী উৎপাদন করছে শিল্প বিচ্ছিন্ন অঞ্চল বরিশাল নগরীর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মাদী ইলেকট্রিক প্রোডাক্ট (এমইপি)। ইতোমধ্যে এ প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক সামগ্রী উৎপাদনে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এমইপিতে কাজ করছেন প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় উৎপাদিত বৈদ্যুতিক সামগ্রীর সুনাম ও বাজার ছড়িয়ে পড়েছে বিদেশেও।

এমইপির কর্মকর্তারা জানান, গ্যাস সরবরাহ না থাকা এবং পরিবহন ব্যবস্থার জটিলতা সত্ত্বেও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশ্বমানের নতুন নতুন প্রোডাক্ট উৎপাদন করে যাচ্ছেন তারা। এগুলো নিরাপাদ ও বিদ্যুৎসাশ্রয়ী। তাদের উৎপাদিত সামগ্রীর মধ্যে সুইচ, সকেট, সার্কিট, রেগুলেটর, এনার্জি বাল্ব, এলইডি টিউব, ক্যাবলস, সিলিং ফ্যানসহ প্রায় ৩ হাজার রকমের পণ্য রয়েছে।

এমইপির নির্বাহী পরিচালক শকিল আলম চাকলাদার জানান, ১৯৭৪ সালে তারা সুইচ, সকেট ও সার্কিট উৎপাদন করে এ কারখানার যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে তাদের ৩ হাজার প্রকার বৈদ্যুতিক সামগ্রী বিভিন্ন ইপিজেডের মাধ্যমে বিদেশেও রফতানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কুংটং নামে একটি চায়না কোম্পানি তাদের নানা ধরনের পণ্য বিদেশে সরবরাহ করে থাকে। সরকারিভাবেও তাদের পণ্যের চাহিদা রয়েছে।

জানা গেছে, সারা দেশের পল্লী বিদ্যুতের মেইন সুইচ এমইপি সরবরাহ করে থাকে। আন্ডারগ্রাউন্ডের ক্যাবলও তারা সরবরাহ করছেন। তাদের প্রতিটি প্রোডাক্ট আধুনিক প্রযুক্তি দ্বারা তৈরি হচ্ছে।

জানা যায়, তাদের উৎপাদিত বৈদ্যুতিক সামগ্রীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফ্যান, সুইস সকেট, ক্যাবেল ও সিলিং ফ্যানের চাহিদা বেশি। বর্তমানে তাদের সবচেয়ে বড় কার্যক্রম হচ্ছে কপার প্লান স্থাপন। দেশের সব বৈদ্যুতিক সামগ্রীর প্রতিষ্ঠানকে বিদেশ থেকে রড আমদানি করে পণ্য তৈরি করতে হয়। কিন্তু এমইপি এখন ক্যাথড থেকে সরাসরি তামার রড তৈরি করছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন আকারের তামার তার তৈরি হচ্ছে।

অত্যাধুনিক সুপার এনামেল মেশিনের মাধ্যমে নিজেস্ব প্রযুক্তিতে ফ্যানের কয়েল ও মোটরের কয়েল উৎপাদন হচ্ছে।

এমইপির চেয়ারম্যান সামসুল আলম চাকলাদার জানান, তার ছোট্ট কারখানাটি এখন কপার প্লান স্থাপন করতে শুরু করেছে। এ অঞ্চলের আর কোথাও এভাবে বৈদ্যুতিক সামগ্রী উৎপাদন হয় না। এটা বরিশালবাসীর জন্য এটি গর্বের প্রতিষ্ঠান।