আমতলীতে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

আমতলীতে এ বছর আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ক্ষেতে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। যেদিকে চোখ যায় শুধু মাঠের পর মাঠ সোনালি ধানে পরিপূর্ণ। মৌসুমের শুরুতে বৈরী আবহাওয়ার পরও এ বছর আউশের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। স্বপ্নের সোনালি ধান কাটা শুরু হয়েছে। দামও ভালো বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

এ উপজেলায় এ বছর আউশের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৮শ’ ৭৫ হেক্টর জমি। ৭টি ইউনিয়নে চাষ হয়েছে ১০ হাজার ৯শ’ ৪০ হেক্টর জমিতে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৮ হাজার ৯শ’ ৩৭ টন। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৫০ হাজার টন ধান উৎপাদন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। কৃষকরা প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শেষদিক থেকে শুরু করে জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত আউশ ধান রোপণ করে। এ বছর আমতলীতে কৃষকরা ব্রি-৪৮ ও ব্রি-২৭ জাতের দুটি ধান বেশি রোপণ করেছে। এ ছাড়া কোনো কোনো এলাকায় গোটা ইরি, ব্রি-৪২, বিআর-২, বিআর-৩, বিআর-১৪, ব্রি-৪৩ চাষ করেছে। শুরুতে বৈরী আবহাওয়া থাকলেও আউশের ক্ষেতের তেমন ক্ষতি হয়নি। ফলে আউশের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা হেক্টরপ্রতি সাড়ে চার থেকে পাঁচ টন ধান পাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি থেকে ধান কাটা শুরু করে ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি এক মাস ধরে ধান কাটবে কৃষকরা। এ সময় কৃষকরা ধানা কাটা, মাড়াই ও আমন লাগানোর কাজে খুব ব্যস্ত সময় কাটাবে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। হলদিয়া গ্রামের শানু মোল্লা জানান, আউশ চাষের পর লাগাতার বৃষ্টি ছিল। কিন্তু তাতে ফসলের কোনো ক্ষতি হয়নি। এখনও ধান কাটা শুরু করিনি। আশা করি, গতবারের চেয়ে অনেক বেশি ফলন পাব। শুনেছি, বাজারে ধানের দামও ভালো। তাই লোকসানের কোনো আশঙ্কা নেই।

চন্দ্রা গ্রামের নেছার উদ্দিন বলেন, আউশ ধানের ফলন ভালো হয়েছে। ৫ বিঘা জমিতে আউশের চাষ করেছি। আশা করি, ১শ’ মণ ধান পাব। এ বছর ফলন ভালো ও ধানের দাম বেশি থাকায় কৃষকদের লোকসান গুনতে হবে না।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম বদরুল আলম বলেন, আউশ মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বৈরী আবহাওয়ার পরও এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি। বাজারে আউশ ধানের দাম বেশি থাকায় কৃষকরা লাভবান হবে।