দেশি মাছে হাজারো যুবক স্বাবলম্বী

দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষ করে নিত্যদিনের অভাব আর বেকারত্বকে বিদায় জানিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার হাজারো যুবক। অল্প খরচে মাছ চাষ দিগুণ লাভজনক হওয়ায় উপজেলার বেকার যুবকরা এ পেশাকে বেছে নিয়েছেন নিজ নিজ কর্ম হিসেবে। পুকুর কিংবা জলাশয়ে শিং, তেলাপিয়া, মাগুর, খলিশা, টেংরা, জুংলা, রুই, কালবাউশ, ঘইন্যা, নন্দিনা, সরপুঁটি, পুঁটিসহ দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষ করছেন তারা। উপজেলা মৎস্য অধিদফতরের তথ্য মতে, পলাশে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মাছ চাষি রয়েছেন। আর এ পেশায় কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার লোকের।
সরেজমিন পলাশ উপজেলার জিনারদী, চরসিন্দুর, ডাঙ্গা ও গজারিয়া ইউনিয়নসহ ঘোড়াশাল পৌর এলাকাগুলোয় দেখা যায়, দেশীয় মাছ চাষে ঝুঁকেছেন অনেক বেকার যুবক। নিত্যদিনের অভাব আর বেকারত্ব জীবনকে বিদায় জানিয়ে তাদের অনেকেই হয়েছেন স্বাবলম্বী। এছাড়া মাছ চাষের পরিচর্যায় কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার লোকের।
উপজেলার ঘোড়াশালের সফল মাছ চাষির মধ্যে একজন আবদুল সুলাইমান মিয়া। তিনি জানান, কাজের আশায় বেশ কয়েক জায়গায় ঘোরাঘুরি করে অবশেষে ৫ শতাংশ জমিতে পুকুর করে পোনা চাষের মাধ্যমে কর্মজীবনের শুরু তার। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সুলাইমানকে। ছোট্ট একটি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করা সুলাইমানের এখন পুকুর সংখ্যা ২০। তার দেখাদেখি ঘোড়াশালের অনেক বেকার যুবক মাছ চাষে আগ্রহী হন। ঘোড়াশালের আরেক সফল মাছ চাষি শামসুল হক সরকার। মাছ চাষে সাফল্য পাওয়ায় তিনি এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি বলেন, মাছ চাষে নিষ্ঠা, সততা ও পরিশ্রম দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের দেশের বেকার যুবকরা তাদের বেকাররত্ব জীবন দূর করতে পারেন। এটা শুধু অর্থ উপার্জন নয়, এতে এনে দেয় পুরস্কার ও সম্মান।
পলাশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রুবানা ফেরদৌস বলেন, উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৭০০ সফল মাছ চাষি রয়েছেন। মাছ চাষের প্রতি যুবকদের আগ্রহ বাড়াতে এবং মাছ চাষের মাধ্যমে বেকাররত্ব দূর করার লক্ষ্যে প্রতি বছরই জাতীয় মৎস্য সপ্তাহে মাছ চাষের ওপর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পুরস্কার দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, আমরা সবসময়ই উপজেলার মাছ চাষিদের খোঁজখবর ও পরামর্শ দিয়ে থাকি।