এগিয়ে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এগোচ্ছে দেশও

‘উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে উচ্চশিক্ষা’ এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বাঙালির আলোকস্তম্ভ, স্বর ও সুরের প্রতীক, জাতির বিবেক হিসেবে স্বীকৃত অদম্য অপরাজেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পদার্পণ করছে ৯৭ বছরে। সেই ১৯২১ সালের ১ জুলাই থেকে পথচলা এ বিশ্ববিদ্যালয় অদ্যাবদি নিরবচ্ছিন্ন গতিতে সৃষ্টি করে চলছে একের পর এক অমর কাব্য। বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত এটি সেই বিরলতম বিশ্ববিদ্যালয়, যা একটি জাতির জšে§ পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশ নামের স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বিশ্বের বুকে যে মহাকাব্য রচিত হয়েছিল, তার প্রধান প্রভাবক, প্রধান কেন্দ্রবিন্দু এ বিশ্ববিদ্যালয় পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাস বিনির্মাণের গর্বিত প্রধান অংশীদার। সংকটাপন্ন দিশেহারা বাঙালি জাতিকে পথ দেখানো, মুক্তির নেশায় উজ্জীবিত করার মধ্য দিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শুধু বিদ্যাচর্চায়ই থেমে থাকেনি এর কার্যক্রম, নেতৃত্ব দিয়েছে মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে। অন্যায়-অবিচারে হয়েছে প্রতিবাদমুখর। ভাষা, শিক্ষা, মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার আদায়ে এবং সেই সঙ্গে গণমানুষের মাঝে মুক্তির চৈতন্য সৃষ্টিতে এ বিশ্ববিদ্যালয় মহিরুহের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে বারবার। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ১৯২৩ সালের ১৭ আগস্টের সভায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোটো বা লক্ষ্য নির্ধারণ করে। ট্রুথ শ্যাল প্রিভেইল অর্থাৎ সত্যের জয় সুনিশ্চিত। সে সত্য প্রতিষ্ঠার জন্যই অনির্বাণ শিখার মতো কাজ করে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তাই তো বাঙালি জাতির জীবনের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বঞ্চনার সত্যকে দেদীপ্যমান করে তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছে। পরিণত হয়েছে ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ এবং তার পরবর্তী সামরিকতন্ত্র, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ সব অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সূতিকাগারে। এ কারণে বলা হয়, বাঙালি জাতির আন্দোলন-সংগ্রামের যত প্রাপ্তি, তার প্রধান অংশীদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রতিষ্ঠাকালীন থেকেই এ বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান-বিজ্ঞান, মুক্তবুদ্ধি, দর্শন, সাহিত্য, শিল্পকলা ও রাজনীতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদান এবং চর্চার ক্ষেত্রে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করে আসছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিন্তাচেতনার গভীরে শেকড় সঞ্চার করেই বিকশিত হয়েছে আমাদের জাতিসত্তা ও স্বাধিকার চেতনা। সে ঐতিহ্য আজও বর্তমান। অবিশ্বাস্য প্রত্যয়ে দেশের এ সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অফুরন্ত প্রাণশক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে এবং প্রস্তুত করে চলছে দেশ পরিচালনার ভবিষ্যতের সারথিদের। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় একটি বিশেষ সাধনার ক্ষেত্র। সাধারণভাবে বলা চলে, সে সাধনা বিদ্যার সাধনা।’ এ সাধনাই বিশ্বজ্ঞানের সঙ্গে ব্যক্তিমনের সমন্বয় ঘটায় এবং নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করে জাতিকে। এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য, অসাধারণ। বিদ্যার সাধনার মধ্য দিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় একদিকে দক্ষ পেশাজীবী, সচেতন আলোকিত মানুষ তৈরি করছে; অন্যদিকে গবেষণার মধ্য দিয়ে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে। এক্ষেত্রে বার্ট্রান্ড রাসেলের একটি উক্তি প্রযোজ্য। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দুইটি উদ্দেশ্য সাধনের জন্য রয়েছে। প্রথমত, কতকগুলো বৃত্তি বা পেশার জন্য পুরুষ ও নারীদের শিক্ষা দিয়ে তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, আশু কোনো কিছু লাভের সম্ভাবনা সম্মুখে না রেখেও উচ্চস্তরের জ্ঞান অর্জনের ও গবেষণার সুযোগ দান করা। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ রকম ছাত্র দেখতে চাই, যারা কিছু পেশা বা বৃত্তির জন্য উচ্চশিক্ষা চায় এবং যাদের এ বিশেষ যোগ্যতা আছে, যার দ্বারা তারা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে সমাজে মূল্যবান কিছু দিতে পারে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ দুইটি উদ্দেশ্য সাধনের জন্য বেশ সাফল্যের সঙ্গেই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কাজ করে গেছে এবং পরিণত হয়েছে এ দেশের জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ, গবেষণাভিত্তিক অবকাঠামো আর মানবসম্পদের প্রধান উৎসে।
চীনের বিপ্লবী নেতা মাও সেতুং বলেছিলেন, ‘তুমি যদি ১ বছরের জন্য কোনো পরিকল্পনা কর, তবে ধানের বীজ রোপণ কর, ১০ বছরের জন্য হলে গাছ লাগাও আর সারা জীবনের জন্য হলে শিক্ষিত মানুষ তৈরি করো।’ বাঙালি সমাজে এ শিক্ষিত সচেতন মানুষ তৈরি করার প্রধান কারিগরই হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গবেষক, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীদের আঁতুড়ঘর এ বিশ্ববিদ্যালয়ই। এখানেই বপিত হয়েছে জাতীয় সমৃদ্ধির শেকড়। ড. অমলেন্দু বসু তার ‘স্মৃতির ধূসর সরণিতে’ লেখেন “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানের নিরন্তর অগ্রসরমান, এখানে ব্যক্তিত্বের সংযত বিকাশের অমূল্য সুযোগ, এখানে জ্ঞান পথিক যুবজনচিত্ত ক্রমে এগিয়ে যায়, তার জীবনের মন্ত্র, উপনিষদের ভাষায় ‘চরৈবেতি এগিয়ে চলো, এগিয়ে চলো…।’ সহসা বোধ করলাম যে, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি কতকগুলো সুদৃশ্য ও বিশাল হর্ম্যে বিচরণ করার জন্য নয়, এসেছি এক অন্তহীন আলোকিত মনোজগতে বিচরণ করার জন্য। সহসা যেন আমার অনভিজ্ঞ আদর্শ-সন্ধানী তরুণ সত্তায় অনুভব করলাম একটা বিরাট দায়িত্ব। এ দায়িত্বের চেতনা এবং দায়িত্ব পালনের অনির্বাণ সন্তোষ, দুইয়ের উৎস ছিল আমাদের শিক্ষায়তন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।” এ বিশ্ববিদ্যালয় এ কর্ম থেকে বিচ্যুত হয়নি কখনও। দেশ ও সমাজের বিকাশ এবং অগ্রগতিতে বিভিন্ন অঙ্গনে অতীতে ভূমিকা রেখেছেন, বর্তমানেও রাখছেনÑ এমন অনেক পথিকৃৎ ব্যক্তিত্বেরই ছাত্রজীবন কেটেছে কলা ভবন, মধুর ক্যান্টিন, সেন্ট্রাল লাইব্রেরি, হাকিম চত্বর, টিএসসি, সায়েন্স অ্যানেক্স ভবন ও কার্জন হলের সবুজ চত্বরে। এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, বুদ্ধদেব বসু, মুনীর চৌধুরী, স্যার এ এফ রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ড. মকসুদুল আলমসহ অসংখ্য বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। সত্যেন বোস, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, শ্রীনিবাস কৃষ্ণান, কাজী মোতাহার হোসেন, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, প্রফেসর আবদুর রাজ্জাক, সরদার ফজলুল করিম, আনিসুজ্জামানের মতো অগণিত কৃতী সন্তানের স্মৃতিধন্য এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এখান থেকেই রাজনীতির মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছেন দেশের অধিকাংশ প্রথিতযশা রাজনৈতিক নেতানেত্রী। দেশের প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাখছেন কৃতিত্বের স্বাক্ষর। বিসিএসসহ অন্য সব প্রতিযোগিতামূূলক চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং তারা কর্মক্ষেত্রে রাখছেন প্রতিভার স্বাক্ষর।
মেধার সঙ্গেই হৃদবৃত্তির গুরুত্ব দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে পঠন-পাঠন কার্যক্রম। ক্লাস ফাঁকি অসম্ভব। সময়ে সিলেবাস শেষ করে নির্দিষ্ট দিনে পরীক্ষা। কোনো সেশনজট নেই, অনিয়ম নেই। আধুনিক পঠন-পাঠন এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। একাডেমিক লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রেও দেয়া হয় সবিশেষ গুরুত্ব। শিক্ষার্থীদের দেশ ও সমাজ-সচেতন হিসেবে যেভাবে গড়ে তোলা হয়, তেমনি গড়ে তোলা হয় ক্যারিয়ার-সচেতন হিসেবেও। ফলে ব্যষ্টিক ও সামষ্টিকভাবে এখানকার শিক্ষার্থীরা নিজেদের এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছে। এ সত্ত্বেও কিছু র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনের সারিতে রাখা হয়। এর মূল কারণ সঠিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ না করা ও বাণিজ্যিক স্বার্থ বিবেচনা করা। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চলে না। যদি এমন কোনো র‌্যাংকিং করা হয় যে সবচেয়ে কম খরচে কোন বিশ্ববিদ্যালয় মানসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে পারছে। তবে নির্দ্বিধায় বলা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বে শীর্ষে থাকবে।
তবে এটাও অস্বীকার করার জো নেই যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মদক্ষ পেশাজীবী তৈরি করতে সক্ষম হলেও বর্তমানে গবেষণা ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় গবেষণার প্রজননক্ষেত্র। গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবনী চিন্তাচেতনার বিকাশ প্রধানত বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। এডওয়ার্ড শিলস তার ‘দ্য কলিং অব এডুকেশন’ গ্রন্থে বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রদের মৌল কাজ হলো জ্ঞানের চর্চা এবং জ্ঞানকে নতুনভাবে উপলব্ধি করা, বিচার করা, পরিচর্যা করা। গবেষণা তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকের জন্য অবশ্যকরণীয় কাজ। কারণ এছাড়া জ্ঞানের মর্মে পৌঁছার কোনো বিকল্প নেই।’ এজন্য সূচনালগ্ন থেকেই এ বিশ্ববিদ্যালয় মৌলিক গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৯টি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। ‘সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেস’ বা সিআরএসে বিদেশি গবেষকরাও ভিড় জমাচ্ছেন। গত সাত বছরে এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রি ৬৫০ জন এবং পিএইচডি ডিগ্রি ৫৪৪ জন অর্জন করেছেন। তবে তা কাক্সিক্ষত মাত্রায় নয়। কিছু কিছু গবেষণা কেন্দ্রে তেমন কোনো গবেষণা হয় না। মাঝে মাঝে সেমিনার আয়োজন করে শুধু নিজেদের উপস্থিতিই জানান দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ এগুলোর কর্মকা-। এর কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের অভাব। প্রতি অর্থবছরে গবেষণা খাতের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ প্রস্তাব করা হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন তার অনেকাংশই কাটছাঁট করে ফেলে। এ কারণে গবেষণা কেন্দ্রগুলোয় সেভাবে কাজ করা সম্ভব হয় না। তবে কয়েক বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গবেষণা খাতে বাজেটের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করছে। স্নাতক শ্রেণীতে মৌলিক গবেষণার ওপর আলাদা বেসিক কোর্সও চালু করা হয়েছে অনেক বিভাগে, যা শিক্ষার্থীদের মৌলিক গবেষণা উদ্বুদ্ধ করবে। তাছাড়া তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা বাস্তবে রূপ দেয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে গঠন করেছে ‘ইনোভেশন অ্যান্ড ইনকিউবেশন ল্যাব’ তথা উদ্ভাবন ও পরিচর্যা পরীক্ষাগার। এখানে শিক্ষার্থীরা যেমন নিজেদের নতুন নতুন ধারণা, বৈজ্ঞানিক, ব্যবসায়িক কিংবা অন্য যে কোনো সৃজনশীল আইডিয়া উপস্থাপন করতে পারবেন, তেমনি পারবেন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রথিতযশা সাহিত্যিক বুদ্ধদেব বসু বলেছেন, ‘ভেতরে-বাইরে জমকালো এক ব্যাপার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। নিখিল বাংলার একমাত্র উদ্যান নগরে পনেরো-কুড়িটি অট্টালিকা নিয়ে ছড়িয়ে আছে তার কলেজ বাড়ি, ল্যাবরেটরি, ছাত্রাবাস। ফাঁকে ফাঁকে সবুজ বিস্তীর্ণ মাঠ। ইংল্যান্ড দেশীয় পল্লী কুটিরের মতো ঢালু ছাদের এক একটি দোতলা বাড়িÑ নয়নহরণ, বাগানসম্পন্ন। সেখানে কর্মস্থলের অতি সন্নিকটে বাস করেন আমাদের প্রধান অধ্যাপকরা। অন্যদের জন্যও নীলক্ষেতে ব্যবস্থা অতি সুন্দর। স্থাপত্যে কোনো একঘেয়েমি নেই, সরণি ও উদ্যান রচনায় নয়াদিল্লির জ্যামিতিক দুঃস্বপ্ন স্থান পায়নি। বিজ্ঞান ভবনগুলো অরক্তিম ও তুর্কি শৈলীতে অলংকৃত।’ এটা স্বীকার্য যে এমন দৃশ্যপট এখন আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরাজ করছে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভাগ, ইনস্টিটিউট, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, হল, আবাসিক ভবনের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন তেমন বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ পাওয়া যায় না। দোতলা বাড়ির পরিবর্তে এখন বহুতল ভবনের ছড়াছড়ি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য একের পর এক অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সাম্প্রতিক সময়ে বিজয় ’৭১ হল, সুফিয়া কামাল হল, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার, মুনীর চৌধুরী টাওয়ার, শেখ রাসেল টাওয়ার, সাতই মার্চ ভবন নির্মাণ কার্যক্রম এরই প্রকৃষ্ট উদাহরণ। জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও জ্ঞানালোকসমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মহান ব্রত নিয়ে অপরাজেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে উচ্চশিক্ষা বাস্তবায়ন করে এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে। সেই সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎও।